কথাবার্তা চূড়ান্ত হলেও মোহনবাগানের সঙ্গে এখনও পাকা চুক্তি হয়নি। তা সত্ত্বেও পুরনো ক্লাবকে আবার আই লিগ চ্যাম্পিয়ন করার জন্য এখন থেকেই পণ করেছেন তিনি। তেরো বছর পর বাগানকে আই লিগ দেওয়ার অন্যতম কারিগর মঙ্গলবার মুম্বই থেকে ফোনে বলে দিলেন, ‘‘কলকাতা লিগ পাইনি তো কী হয়েছে! ওটা তো গতবারও পাইনি। দেখবেন আই লিগে মোহনবাগান টিম অনেক ভাল খেলবে। আবারও আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হবে আমার দল।’’
আইএসএলের দল মুম্বই সিটি এফসির অনুশীলনে যোগ দিয়ে এখন মুম্বইতেই রয়েছেন হাইতি স্ট্রাইকার। হাইতি থেকেই কলকাতা লিগে বাগান টিমে কারা খেলছেন, তা-ও শুনেছেন। আর সেই ভাবনা থেকেই তিনি নিশ্চিত, আই লিগে এর কোনও প্রভাব পড়বে না। আপনার কি মোহনবাগানের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গিয়েছে? বহু চর্চিত এই প্রশ্ন এত দিন সযত্ন এড়িয়ে গিয়েছেন। এ দিন অবশ্য প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বলে দিলেন, ‘‘আমার সঙ্গে ওদের প্রাথমিক কথা হয়ে গিয়েছে। আমি মোহনবাগানেই খেলব। কোনও সমস্যা নেই। আইএসএল শেষ হয়ে গেলে কলকাতায় যাব।’’
প্র্যাকটিসে মুম্বই সিটি এফসি-র জার্সি গায়ে ইতিমধ্যেই টিমের ম্যানেজার কাম মার্কি ফুটবলার নিকোলাস আনেলকার নজর কেড়েছেন। সোমবার এয়ার ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে প্র্যাকটিস ম্যাচে সাত গোলে জিতেছে আনেলকার টিম। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন সনি। তার আগে ইন্ডিয়ান নেভির বিরুদ্ধে প্র্যাকটিস ম্যাচেও গোল পেয়েছেন। প্রথম বার আইএসএল টিমে প্র্যাকটিসের অভিজ্ঞতা কথা বলতে গিয়ে সনি বলছিলেন, ‘‘আই লিগের সঙ্গে আইএসএলের অনেক পার্থক্য রয়েছে। এখানে টাকা অনেক বেশি। সুযোগ-সুবিধাও বেশি। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ফুটবলাররা অনেক বেশি সুবিধে পায়। এর অল্প কিছু সুবিধেও যদি আই লিগের টিমগুলো পেত, তবে ভারতীয় ফুটবলের আরও অনেক উন্নতি হতে পারত।’’
আইএসএল নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেওয়ার মাঝে মাঝেই বারবার ঘুরেফিরে আসছিল মোহনবাগানের কথা। সনি ফোনে বলছিলেন, ‘‘ডার্বিতেও এ বার জিততে পারেনি মোহনবাগান। এটা সত্যিই দুঃখজনক। তবে দেখবেন আই লিগের দু’টো ডার্বি আমরাই জিতব।’’ আপনার পাঠানো জুদেলিন আভেস্কা তো এখনও পর্যন্ত  সে ভাবে নজর কাড়তে পারেননি বাগানে? ‘‘আরে ওকে তো একটু সময় দিতে হবে মানিয়ে নেওয়ার জন্য। আমরা বহু দিন একসঙ্গে খেলেছি। তাই জানি ও কতটা ভাল প্লেয়ার। দেখবেন ও নিরাশ করবে না,’’ বন্ধু সম্পর্কে দরাজ সার্টিফিকেট দিলেন সনি।
কলকাতা লিগে নজর কাড়তে না পারা আভেস্কা আই লিগে আদৌ কী করবেন, সেটা সময়ই বলবে। তবে মুম্বইতে বিশ্বকাপার আনেলকার বন্ধুত্বপূর্ণ মেলামেশায় ইতিমধ্যেই মোহিত হয়ে পড়েছেন সনি। উচ্ছ্বসিত হাইতি স্ট্রাইকার বলছিলেন, ‘‘আনেলকা সবার সঙ্গে বন্ধুর মতো মেশেন। প্র্যাকটিসের সময় দক্ষ কোচের মতোই নিজে ভুল শুধরে দেন। পুরো টিমকে নানা ভাবে উদ্দীপ্ত করেন। এত বড় মাপের প্লেয়ার অথচ কী অমায়িক।’’
সুনীল ছেত্রী থেকে সনি নর্ডি, সুব্রত পাল থেকে কিংশুক দেবনাথ—প্রত্যেকের সামনেই আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন আনেলকা। গত বছর সাত নম্বরে শেষ করেছিল মুম্বই সিটি এফসি। প্রথম আইএসএলে মুম্বইয়ের কোচ ছিলেন পিটার রিড। দল ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁকে সরিয়ে এ বছর ফরাসি মহাতারকা আনেলকার হাতেই টিমের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। সেই টিমের নতুন সদস্য সনির দাবি, ‘‘মুম্বই সিটি এফসি এ বার যা টিম করেছে তাতে আমাদের চ্যাম্পিয়ন না হওয়ার কোনও কারণ নেই। মুম্বইকে চ্যাম্পিয়ন করাই এখন আমার প্রথম লক্ষ্য। এর পর মোহনবাগান মিশন।’’
নিয়ম-নিষেধের কঠোর বাঁধনে সনিদের বেঁধে রাখেননি আনেলকা। বরং প্র্যাকটিসের বাইরে অনেক বেশি সময় নিজেদের মতো কাটাতে পারছেন ফুটবলাররা। মঙ্গলবার যেমন ছুটি ছিল বলে ফুটবলাররা যে যাঁর মতো বেরিয়ে পড়েছিলেন। কেউ কেউ কেনাকাটা করতে বেরোন। কেউ আবার মুম্বই শহর ঘুরে দেখতে। ফুটবলারদের কড়া নিয়মে বেঁধে না রাখাকেই টিমের প্লাস পয়েন্ট বলছেন সনি। ‘‘টিমের মধ্যে ডিসিপ্লিন আছে একশো শতাংশ। তবে অকারণে কোনও নিয়মের বোঝা চাপানো নেই ফুটবলারদের উপর। যে কারণে ফুটবলাররা অনেক বেশি খোলামেলা মেজাজে থাকতে পারছে। যেটা ভাল ফলের জন্য জরুরি।’’
মোহনবাগানে প্রথম বার খেলতে এসেই আই লিগ জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন সনি। আর প্রথম আইএসএলে খেলার সুযোগ পেয়ে কি রণবীর কপূরের টিমকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারবেন তিনি? জানতে হলে প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে সনির ভক্তদের! তার পর বাগান সমর্থকদের প্রত্যাশার স্রোতে গা ভাসাবেন হাইতির স্ট্রাইকার।