Wednesday, September 30, 2015

Kumkum Dhar appointed as VC of Bhatkhande Music Institute

  • Professor Kumkum Dhar was given additional charge of Vice Chancellor ofBhatkhande Music Institute, a deemed university.
  • Uttar Pradesh governor, Ram Naik approved her appointment as VC.
  • Currently she holds the position as Head of the department and dean of the faculty of dance of Bhatkhande Music Institute. She will continue this position also.
  • She will succeed Professor Shruti Sadolikar Katkar. Kumkum Dhar will hold this additional charge of VC till the appointment of regular VC.

Egypt’s Prime Minister Ibrahim Mahlab and his cabinet resigned

Egypt's Prime Minister Ibrahim Mahlab and his cabinet resigned
  • Egypt’s Prime Minister Ibrahim Mahlab  and his cabinet resigned amid corruption probe.
  • President Abdel Fattah el-Sisi accepted Ibrahim Mahlab’s resignation and asked the outgoing Petroleum Minister Sherif  Ismail to form a new government within a week.
  • President Abdel Fattah al-Sisi asked Ibrahim Mahlab to take a charge as caretaker PM until a new government is formed.

West Bengal to release 64 files on Netaji Subhas Chandra Bose

  • West Bengal CMMamata Banerjee announced that the government has decided to put all files and documents related to Netaji Subhas Chandra Bose in the public domain.
  • The total number of documents to declassify on Netaji Subhas Chandra Bose is 64files and these files will be put on display at Kolkata Police Museum
  • West Bengal CM, Mamata Banerjee also announced to digitize the documents from the period of 1937 to 1947.
  • Netaji’s grandnephew,  Chandra Kumar Bose commented this action as apositive step from the government
  • All India Forward Bloc (AIFB), a party founded by Netaji himself in 1939. AIFB also demanded that all files related to Netaji in the Centre and other states should be made available to public.
  • AIFB general secretary Debabrata Biswas said that these 64 files may not solve the mystery of Netaji’s disappearance

Vice President Releases the Book ‘Feminist and Orientalist Perspectives – A Study of Lady Mary Montagu’s Turkish Embassy Letters’

  • The Vice President of India Shri M. Hamid Ansari released a book entitled “Feminist and Orientalist Perspectives – A Study of Lady Mary Montagu’s Turkish Embassy Letters” authored by Dr. Farha Hiba Parvez.
  • This book on ‘Lady Mary Montagu’s Turkish Embassy Letters’ is a serious work diligently done and will become an open area for many scholars. He recalled that in 1968-69, when he was a young diplomat posted in Indian Embassy in Jeddah, there was no school for Indian students in Jeddah.

IPTL: Roger Federer joins UAE Royals, Virat Kohli to co-own team

  • World no 2 tennis player Roger Federer joins UAE Royals in the second season of the IPTL(International Premier Tennis League) which is scheduled to be held from Dec 2 to Dec 20.
  • Federal will played for the Indian Aces in the inaugural season of IPTL and Mahesh Bhupathi, will be played across five countries in Asia. The other teams are Manila Mavericks, Singapore Slammers, Micromax Indian Aces and Japan Warriors.
  • ITPL MD: Mahesh Bhupathi and co-owner Virat Kohli, Neelesh Bhatnagar and Sachin Gadoya.

Andhra Bank opens its 2600th branch in Hyderabad

  • Managing Director and CEO Satish Kumar Kalra e-launched the 2600th branch at Yadgirigutta and the 3000th ATM at Sunshine Hospital in Secunderabad.
  • Andhra Bank, has branch across 26 States and 3 Union Territories.
  • 43 per cent of the branches are in semi-uban/rural areas and 231 of the branches are in unbanked rural centres. During the current fiscal, the bank added 100 branches and plans to add over 300 by March 2016.
  • Andhra Bank Headquarters : Hyderabad.

Japan centenarian population hits record 60,000

  • The number of people aged 100 and above has hit 60,000 in Japan in 2015, September.
  • The population of centenarians is expected to reach 61,568 next week, of which 87 percent will be women.
  • The country is also home to the world’s oldest man, Yasutaro Koide, who turned 112 years old in March.
  • September 15 – Senior’s Day.

India votes to raise Palestine, Vatican flags at UN

  • India was among 119 nations that voted in support of a UN General Assembly resolution granting the right to non-member observer States of Palestine.
  • Vatican to raise their flags at the world body’s headquarters along side the flags of UN member nations.
  • A vote of 119 in favour to 8 against(Australia, Canada, Israel, Marshall Islands, Federated States of Micronesia, Palau, Tuvalu and the US), with 45 delegations abstaining.
  • Palestine – observer state in 2012 and  Vatican – non-member observer state since 1964.

Snapdeal launches instant refund facility

  • Online marketplace Snapdeal launched its instant refund facility to help its customers get refunds within one hour of receiving the returned products.
  • The instant refund will be completed using Immediate Payments System (IMPS)transfers.100 per cent of customers using the Cash On Delivery facility will have access to IMPS 24/7 while bank holidays will have no impact on this service either.
  • Chief product officer of Snapdeal : Anand Chandrasekaran.
  • CEO of Snapdeal : Kunal Bahl

Big B, Ratan Tata join hands for TB- free India

  • Actor Amitabh Bachchan and business tycoon Ratan Tata have joined hands for the Indian government’s initiative “Call to Action for a TB-free India”,aims to engaging corporate, civil society and community leaders to eradicate the disease from the country.
  • They launched “Mumbai Dialogue: Towards a TB-Free India”  to invite corporate companies to support the cause.
  • Richard Verma, US Ambassador to India, behind this initiative.

নতুন নেক্সাস স্মার্ট ফোন এবং পিক্সেল ট্যাবলেট আনল গুগ্‌ল

গুগ্‌ল নেক্সাস স্মার্ট ফোন নিয়ে কথা বলছেন সুন্দর পিচাই।

অ্যাপলের সঙ্গে পাল্লা দিতে এ বার বাজারে দু’টি নতুন নেক্সাস স্মার্ট ফোন আনার কথা জানাল গুগ্‌ল। যা চলবে তাদের অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যারের নতুন সংস্করণ মার্শমেলো-তে। আমেরিকা, ব্রিটেন-সহ বেশ কিছু দেশে ইতিমধ্যেই ফোনগুলির বুকিং শুরু হয়ে গেলেও, ভারতে তা আসার সম্ভাবনা আগামী মাসে। তবে এখানে ফোন দু’টির দাম ঘোষণা করে দিয়েছে মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাটি। এলজি-র তৈরি ৫.২ ইঞ্চির নেক্সাস ৫-এক্স পাওয়া যাবে প্রায় ৩২ হাজার টাকায়। আর ৫.৭ ইঞ্চির হুয়েই নেক্সাস ৬-পি কিনতে দিতে হবে প্রায় ৪০ হাজার টাকা।
গত সপ্তাহেই বাজারে এসেছে আই ফোন এবং আই প্যাডের নতুন সংস্করণ। সোমবারই প্রথম সপ্তাহ শেষে রেকর্ড বিক্রির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে অ্যাপল। আর ঠিক তার পরের দিনই তাদের কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে নতুন পণ্য আনার কথা জানাল গুগ্‌ল। ফোনের সঙ্গেই তাদের এ বারের চমক পিক্সেল সি ট্যাবলেটও। সম্পূর্ণ ভাবে সংস্থার তৈরি এই ট্যাবলেট কম্পিউটারটিতে থাকবে আলাদা কি-বোর্ড। যা কিনতে একটু বেশি টাকা খরচ করতে হবে ক্রেতাকে। তবে এটি হাতে পেতে আরও বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে বলেই জানিয়েছে গুগ্‌ল।

ঘাতক সাবমেরিনে সাজছে ভারতের নৌ বহর, প্রবল চাপে পাকিস্তান

নৌবাহিনীতে পাকিস্তানকে যোজন যোজন পিছনে ফেলছে ভারত। নতুন রণকৌশলে সাবমেরিনের বহর বাড়ানোয় জোর দেওয়া হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে গুপ্ত ঘাতকের মতো আচমকা আঘাত হানার ক্ষমতা নিয়ে ভারতীয় নৌ বহরে অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে এক ঝাঁক নতুন ডুবোজাহাজ। খবর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের।
ভারতের হাতে এখন সাবমেরিনের মোট সংখ্যা ১৫। পাকিস্তানের হাতে ৫। চিনের সহায়তায় ভারতের সমকক্ষ হতে চাইছে পাকিস্তান। চিন থেকে ৮টি কনভেনশনাল সাবমেরিন বা সাধারণ ডুবোজাহাজ কেনার পথে পা বাড়িয়েছে তারা। তাতেও ভারতের সমকক্ষ হওয়া যাবে না। কারণ ভারতের ভাঁড়ারে শুধু সাধারণ ডুবোজাহাজ নয়, রয়েছে পারমাণবিক শক্তি চালিত  ডুবোজাহাজও। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যে পাঁচটি দেশ, সেই দেশগুলি ছাড়া একমাত্র ভারতের হাতেই এই সাবমেরিন রয়েছে। ফলে সংখ্যা বা সক্ষমতা, কোনও দিক থেকেই ভারতের সাবমেরিন বাহিনীর সঙ্গে এঁটে ওঠার জায়গায় নেই পাকিস্তান। তবু হাত গুটিয়ে বসে থাকছে না ভারত। ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে আরও ৬টি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন। বিশাখাপত্তনমে তৈরি হচ্ছে ভারতীয় প্রযুক্তির পরমাণু শক্তি চালিত আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডুবোজাহাজ।
ভারতের নৌ বহরে সাবমেরিন রয়েছে চার ধরনের:
১. সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে নেওয়া সিন্ধুঘোষ শ্রেণির ৯টি ডিজেল-বিদ্যুৎ অ্যাটাক সাবমেরিন।
২. জার্মানি থেকে নেওয়া শিশুমার শ্রেণির ৪টি ডিজেল-বিদ্যুৎ অ্যাটাক সাবমেরিন।
৩. রাশিয়ার কাছ থেকে ১০ বছরের লিজে নেওয়া আকুলা-২ শ্রেণির ১টি পরমাণবিক শক্তি চালিত অ্যাটাক সাবমেরিন।
৪. দেশে তৈরি অরিহন্ত শ্রেণির ১টি পরমাণু শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন।
ভারতে তৈরি এই শেষোক্ত শ্রেণির ডুবেজাহাজটিই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। পাকিস্তান শুধু নয়, চিনেরও ঘুম কেড়েছে আইএনএস অরিহন্ত নামে এই পারমাণবিক সাবমেরিন। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আক্রমণের ক্ষমতা থাকায় আইএনএস অরিহন্ত এক ধাক্কায় ভারতীয় নৌবাহিনীকে পৌঁছে দিয়েছে অভিজাত শ্রেণিতে।
ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে যে ৬টি ডুবোজাহাজ ভারত তৈরি করছে, সেগুলি ডিজেল-বিদ্যুৎ অ্যাটাক সাবমেরিন। তবে এই সাবমেরিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আক্রমণ চালাতে সক্ষম। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই অ্যাটাক সাবমেরিন অনেক হালকা হওয়ায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দ্রুত হামলা চালাতে সক্ষম। আগামী কয়েক বছরে ধাপে ধাপে এই ডুবোজাহাজগুলি ভারতীয় নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে।
বিশাখাপত্তনমে তৈরি হচ্ছে শত্রুপক্ষের শিরদাঁড়ায় শীতল স্রোত খেলিয়ে দেওয়া আর এক কালান্তক ঘাতক। সেটিও অরিহন্ত শ্রেণির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক ডুবোজাহাজ। নাম আইএনএস অরিদমন। ভারতীয় প্রযুক্তিতে নির্মীয়মান এই দ্বিতীয় পারমাণবিক সাবমেরিন আইএনএস অরিহন্তের চেয়েও বেশি ক্ষমতাশালী। অরিহন্তের দ্বিগুণ ক্ষেপণাস্ত্র ধারণের ক্ষমতা থাকবে অরিদমনের।
অন্য দিকে পাক নৌবাহিনী এখনও শুধুমাত্র কনভেনশনাল বা ডিজেল-বিদ্যুৎ অ্যাটাক সাবমেরিনেই পড়ে রয়েছে। চিন থেকে যে ডুবোজাহাজগুলি তারা কিনছে, সেগুলিও ওই একই গোত্রের। ভারতের নৌবাহিনীতে বাড়তে থাকা শক্তিশালী সাবমেরিনের সম্ভার তাই স্বাভাবিক ভাবেই রক্তচাপ বাড়াচ্ছে ইসলামাবাদের।

সুয়ারেজের গোলে নাটকীয় জয়, তবু অস্বস্তি বার্সেলোনায়

টিমের ফর্ম ইদানীং দারুণ কিছু নয়। তার উপর খেলতে পারবেন না টিমের কেন, বিশ্ব ফুটবলেরই অন্যতম মেগাস্টার।
এই প্রেক্ষিতে দেখলে কাম্প ন্যুতে মঙ্গলবার রাতে বার্সেলোনার নাটুকে জয়কে মনে হবে বহু প্রতীক্ষিত অক্সিজেন। মনে হবে, মঙ্গলবারের পর লুইস এনরিকের চেয়ে সন্তুষ্ট কোচ বিশ্বফুটবলে বোধহয় খুব বেশি নেই।
কিন্তু আদতে তা হচ্ছে কই!
লুইস এনরিকে আপাতত ফুটবল-বিশ্বের অন্যতম বিধ্বস্ত কোচ। একে তো লিওনেল মেসিকে মাসদুয়েকের আগে পাবেন না বার্সা কোচ। তার উপর প্রায় এক মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেলেন আন্দ্রে ইনিয়েস্তা। বার্সা অধিনায়কের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট। ফলে কোচের চোট-তালিকা বেড়েই চলেছে। এবং সর্বোপরি এনরিকের চিন্তার কারণ, তাঁরই নিজের মাঠের দর্শক!
টিম বনাম সমর্থক দ্বন্দ্বটা চলছে বেশ কয়েক দিন ধরে। কিন্তু মঙ্গলবার ব্যাপারটা বড়সড় আকারে প্রকাশ্যে এসে পড়ে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গ্রুপ ‘ই’-তে বার্সেলোনার ঘরের মাঠে ম্যাচটা ছিল বেয়ার লেভারকুসেনের বিরুদ্ধে। যেখানে গোটা প্রথমার্ধ তো বটেই, ম্যাচের একাশি মিনিট পর্যন্ত ০-১ পিছিয়ে ছিল বার্সেলোনা। কিরিয়াকস পাপাদুপৌলসের গোলটা শোধ করা দূরের কথা, মেসিহীন বার্সা জার্মান বিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না। মাঠে বসে যা নীরবে হজম করতে হচ্ছিল স্বয়ং লিওনেল মেসিকে। এবং গুঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছিল যে, বার্সার হালফিলের বর্ণহীন রেকর্ডে আরও একটা ফ্যাকাশে অধ্যায় যোগ হতে চলেছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠে খেলা চৌত্রিশটা ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয় বার হারের মুখ দেখতে চলেছে টিম।
এবং এখানেই ঝামেলার সূত্রপাত। কারণ এই সময়েই গ্যালারির একটা বড় অংশ থেকে টিমের দিকে টিটকিরি উড়ে আসা শুরু। ব্যাঙ্গাত্মক শিসের আওয়াজ ভেসে আসতে শুরু করে প্লেয়ারদের দিকে। একাশি ও বিরাশি মিনিটে নাটকীয় ভাবে সের্গি রবের্তো এবং সুয়ারেজ পরপর দু’গোল দিয়ে দেওয়ায় বেঁচে যায় বার্সেলোনা। থেমে যায় দর্শকদের অসূয়া-প্রদর্শনও। কিন্তু প্রশ্নের ঢেউ থামেনি।
অনেক বিশেষজ্ঞ যেমন অবাক হয়ে যাচ্ছেন ভেবে যে, যে ক্লাব মাত্র চার মাস আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-লা লিগা-কিংগস কাপের ত্রিমুকুট এনে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কী করে এই মনোভাব দেখাতে পারেন সমর্থকেরা? যার পাল্টা হিসেবে কেউ কেউ বলে দিচ্ছেন, হালফিলে মেসিরা ভক্তদের আনন্দের চেয়ে হতাশার মুহূর্তই বেশি দিয়েছেন। তার উপর স্প্যানিশ দর্শক তো অসহিষ্ণুতার জন্য বিখ্যাত।
কারণ যা-ই হোক, কাম্প ন্যুর দর্শক-বিরূপতা এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে খোদ লুইস এনরিকেকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। ম্যাচ জিতে উঠেও তাঁকে ভক্তদের কাছে সমর্থনের জন্য হাত পাততে হচ্ছে। তাঁর প্লেয়ারদের আরও বেশি সম্মান প্রাপ্য, এটা তো বলেইছেন এনরিকে। সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে এটাও বলেছেন, ‘‘মাঠের পাশ থেকে স্পষ্ট শিস দেওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। ঠিক আছে, প্লেয়াররা যদি যথেষ্ট চেষ্টা না করে, তা হলে দর্শক বিরক্তি দেখাতে পারে। কিন্তু তাই বলে ওরা টিমের চেষ্টাটা দেখবে না?’’ এখানেই থেমে না থেকে বার্সা কোচ আরও যোগ করেছেন, ‘‘যখন ম্যাচটা আমাদের পক্ষে যাচ্ছে না, সেই সময় তো আমাদের আরও বেশি করে দর্শক সমর্থন দরকার। আর প্লেয়াররা চোট পেলে সবারই মন খারাপ হয়। কিন্তু ভক্তদের উচিত চোট-পাওয়া প্লেয়ারের পাশে থাকা। চোট-পাওয়া প্লেয়ারদের টিটকিরি নয়, আত্মবিশ্বাস দরকার।’’
মঙ্গলবার সুয়ারেজের গোলটা না এলে বার্সা-বিক্ষোভ কী আকার নিত, বলা মুশকিল। তাঁর টিম যে গ্রুপ শীর্ষে পৌঁছতে পারত না, সেটুকু নিশ্চিত। তবে ম্যাচের নায়ক সুয়ারেজ মোটেও সন্তুষ্ট নন। শেষ মিনিট পর্যন্ত যে তাঁর টিমের আত্মবিশ্বাস অটুট ছিল, সেটা বলেও তাঁকে মেনে নিতে হচ্ছে, বার্সা একেবারেই বার্সার মতো খেলতে পারেনি। ‘‘আমরা দারুণ ফুটবল খেলতে পারিনি। কিন্তু ম্যাচটা জিততে হতই। সবাইকে দেখাতে হতই যে, আমরা চ্যাম্পিয়ন,’’ ম্যাচের পর বলে দিয়েছেন উরুগুয়ের তারকা।
চ্যাম্পিয়নের মুকুট আর কাম্প ন্যুর মধ্যেকার পথটা অবশ্য ক্রমশ পঙ্কিল দেখাচ্ছে।

সিরিয়ায় বিমান হানা চালাল রাশিয়া

সিরিয়ায় আঘাত হানল রাশিয়ার বায়ুসেনা। এই হামলায় এখনও পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মার্কিন সেনা সূত্রে খবর, বুধবার সিরিয়ার হোম প্রদেশে আঘাত হেনেছে রাশিয়া। ৮০-র দশকে আফগানিস্তানে অভিযানের পরে এই প্রথম মধ্য-এশিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ করল রাশিয়া।
কিন্তু এই হামলার লক্ষ্য নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। কারণ, হোম-এ আইএস নয়, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল-আসাদ বিরোধী অন্য গোষ্ঠীগুলির প্রাধান্য রয়েছে। অসমর্থিত সূত্রে খবর, রাশিয়ার বিমান হামলায় ‘জয়েস আল-ফাতা’ গোষ্ঠীর উপরে হামলা হয়েছে। আসাদ বিরোধী এই গোষ্ঠীটি ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠলেও এদের সঙ্গে আইএস-এর যোগ নেই। পাশাপাশি আমেরিকা-সহ পশ্চিম বিশ্ব সমর্থিত আসাদ বিরোধী গোষ্ঠী ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’-র অংশ ‘তাজামৌ আল-ইজ্জা’ উপরেও হামলা হয়েছে।.কয়েক দিন আগে ন্যাটোর সুপ্রিম অ্যালাইড কম্যান্ডর জেনারেল ফিলিপ ব্রিডলাভ জানিয়েছিলেন, রাশিয়া সিরিয়ার সেনা ঘাঁটিতে অতি-উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিমান-বিধ্বংসী ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। আইএস-এর উপরে অভিযান চালাতে এই ধরনের ক্ষমতার প্রয়োজন নেই বলেই জেনারেল ব্রিডলাভ জানান। এ দিনই রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সিরিয়ায় অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছে। এর আগে নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় যোগ দিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছিলেন, রাশিয়া সিরিয়ার বিমান অভিযান চালাবে। রাশিয়ার স্থলসেনা এই অভিযানে অংশ নেবে না বলে পুতিন জানান। এ অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেও পুতিন আশ্বাস দিয়েছেন। ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, সিরিয়ার পশ্চিমদিকে হোম প্রদেশে এই হামলা হয়েছে। হোমের উত্তরপ্রান্তে মূলত গ্রাম্য অঞ্চলে রাশিয়ার আক্রমণে ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছ’জন শিশুও আছে। এই হামলায় ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ দিন অভিযান চালানোর আগে মার্কিন সেনাকে সিরিয়ায় কোনও ধরনের অভিযান চালাতে বারণ করে রাশিয়া। রাশিয়া জানায়, আমেরিকার-সহ পশ্চিমী বিশ্বের সিরিয়া-অভিযান আন্তর্জাতিক আইনকে উলঙ্ঘন করে। কারণ, কোনও দেশে অভিযান চালাতে হলে হয় সেই দেশের সরকারের অনুমতি প্রয়োজন, নয় তো রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন দরকার। আমেরিকার নেতৃত্বে জোটের কাছে এর দু’টিই নেই। কিন্তু রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাসার আল-আসাদ। এই আক্রমণের ফলে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ আরও জটিল হয়ে উঠল।
এর মধ্যেই মার্কিন সেনার সঙ্গে সিরিয়ার অভিযান সংক্রান্ত খবরাখবর ভাগ করে নিতে বাগদাদে তথ্যকেন্দ্র গড়েছে রাশিয়া। ইরাক, ইরান ও সিরিয়ার আসাদ-সরকারের প্রতিনিধিরা এই তথ্যকেন্দের অংশ। এই তথ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা নিয়ে আমেরিকার তার উষ্মাও গোপন রাখেনি। কারণ, পেন্টাগনের কাছে খবর ছিল, দামাস্কাসের কাছে লাটাকিয়া অঞ্চলে ২৫ যুদ্ধবিমান, ১৫টি হেলিকপ্টার, ন’টি ট্যাঙ্ক, তিনটি ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ও বেশ কিছু ড্রোন মোতায়ন করেছে রাশিয়া। রয়েছে প্রায় ৬০০ সেনাও। বেশ কিছু দিন ধরেই রাশিয়ার ড্রোন এবং যুদ্ধবিমান সিরিয়ায় পর্যবেক্ষণও চালাচ্ছিল। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বরাবরই প্রেসিডেন্ট বাসার আল-আসাদের পক্ষ নিয়েছে রাশিয়া। আসাদকে এখনও সিরিয়ার বৈধ নেতা বলে মনে করে রাশিয়া। যা মার্কিন নীতির সম্পূর্ণ উল্টো। আসাদকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্যও করেছে রাশিয়া।
এক দিকে ইসলামিক স্টেট, অন্য দিকে আমেরিকা-সহ পশ্চিমী দেশগুলির সাহায্য নিয়ে লড়াই করা বিদ্রোহীরা। দুইয়ের মাঝে ইরান ও রাশিয়ার যৌথ সাহায্যে এখনও ক্ষমতায় টিকে আছেন বাসার আল-আসাদ। কিন্তু সম্প্রতি আসাদের শক্তি হ্রাস পাচ্ছে বলে খবর ছিল। ইরান আর সে ভাবে আসাদের পাশে দাঁড়াচ্ছিল না। ফলে ক্রমেই আরও দূর্বল হয়ে পড়ছিল আসাদ সরকার। এর পরেই দামাস্কাসে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যেতে থাকে। সিরিয়ার রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব অ্যাসটন কার্টারের সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্গেই সোইগুর-র কথাও হয়েছে। সেখানে আসাদকে রাশিয়ার এই সমর্থন নিয়ে আমেরিকার আপত্তির কথা জানিয়েছেন কার্টার। কিন্তু তার পরে আলোচনা বেশি দূর এগোয়নি।

কলকাতার কোর্টে হয়তো কিংবদন্তি মার্টিনা

টেনিস সার্কিটে এখন দুই মার্টিনা। ইদানীং ভারতীয় টেনিস মহল একজনকেই চিনছে— তিনি মার্টিনা হিঙ্গিস। লিয়েন্ডার আর সানিয়া দু’জনের সঙ্গে জুড়ি বেঁধেই যিনি ইদানীং পরের পর গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতছেন। ভারতীয় টেনিস মহলের তাঁকে ঘিরে আপ্লুত থাকার পর্যাপ্ত কারণ রয়েছে।
কিন্তু বিশুদ্ধ টেনিস মহলের বাইরে গোটা পৃথিবী মার্টিনা বলতে একজনকেই বোঝে আর জানে। সিঙ্গলস ছেড়েছেন পঁচিশ বছরেরও বেশি। অথচ আজও তাঁর নামের পাশে সবচেয়ে বেশি গুগল হিটস। এই সেরিনা উইলিয়ামসের একচ্ছত্র যুগেও তিনি শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে সেরিনার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী।
মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা। আর নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে তাঁকেই হয়তো টেনিস র‌্যাকেট হাতে দেখবে কলকাতা।
২৫ নভেম্বর একদিনের টেনিস মাস্টার্স ২০১৫-র আয়োজন করছেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এই শহরে। নেতাজি ইন্ডোরে সেই একদিনের টেনিস মেলায় অংশ নিতে নাভ্রাতিলোভার প্রাথমিক সম্মতি পাওয়া গিয়েছে। অরিজিনাল মার্টিনা এর আগে ভারতে এলেও খেলেননি।
এ বার হঠাৎ রাজি হলেন কী করে? শোনা যাচ্ছে এ ব্যাপারে লি-হেশ জুড়ির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
লিয়েন্ডার-মহেশের তীব্র বনিবনার অভাব এখন ইতিহাস। অধুনা তাঁদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক। মহেশের মস্তিষ্কপ্রসূত এই টুর্নামেন্ট কলকাতায় একার দায়িত্বে করছেন জয়দীপ। সেখানে লিয়েন্ডার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। নাভ্রাতিলোভার ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখান থেকে চলে গিয়েছে। তিনি এলে জুড়ি বেঁধে লিয়েন্ডারের সঙ্গেই খেলবেন। উল্টো দিকে থাকবেন মহেশ-সানিয়া।
উদ্যোক্তারা প্রাথমিক যে সূচি তৈরি করেছিলেন তাতে নাভ্রাতিলোভার জায়গায় ছিলেন হান্টুকোভা। এখন নাভ্রাতিলোভা এলে হান্টুকোভাকে অবশ্যই আনা হবে না। লিয়েন্ডার-নাভ্রাতিলোভা জুড়ি সার্কিটে এক সময় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সানিয়া-মহেশ যেমন মিক্সড ডাবলসে ফরাসি ওপেন জিতেছেন তেমনই লিয়েন্ডার-মার্টিনা জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্র ওপেন আর উইম্বলডন। আপাতত আটান্ন চলছে অরিজিনাল মার্টিনার। টেনিস মাস্টার্স হতে হতে নভেম্বর। যখন তাঁর বয়স আরও বাড়বে। তা বলে সার্কিটে তিনি মোটেও বুড়ি হয়ে যাননি। এখনও সুযোগ পেলেই কোর্টে নেমে পড়েন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিকেল পাঁচটা নাগাদ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করার পরেই বহু প্রতীক্ষিত এই ডাবলস ম্যাচ শুরুর কথা। এর পরেই সেলিব্রিটি টেনিসের ব্যবস্থা। যেখানে নাভ্রাতিলোভার সঙ্গে কে খেলবেন এখনও পরিষ্কার নয়। মুখ্য উদ্যোক্তা জয়দীপকে মঙ্গলবার সন্ধেয় ধরা হলে তিনি বললেন, ‘‘মার্টিনার নিউজটা পাকা হওয়ার জন্য আরও দু’দিন দাঁড়িয়ে যান।’’ টেনিস মহল অবশ্য দিন গুনতে শুরু করেছে কাপ আর ঠোঁটের মধ্যে যেন কোনও ফাঁক না থাকে! 

মুম্বই বিমানবন্দর এবং তাজ হোটেল উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

ঘর পোড়া গরু, সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় তো পাবেই! আর সে কারণেই বিমানবন্দরে হুমকি ফোন আসার পর থেকেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে মুম্বই শহর জুড়ে। বিমানবন্দরের পাশাপাশি তাজ হোটেলে বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয় ওই ফোনে। এর পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ-প্রশাসন।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই রাতে মুম্বই বিমানবনন্দরে কর্তব্যরত ম্যানেজারের কাছে একটি ফোন আসে। তাতে বলা হয়, বিমানবন্দরের দু’টি টার্মিনালে বিস্ফোরণ ঘটানো হতে পারে। এর পাশাপাশি বলা হয়, তাজ হোটেলেও নাশকতামূলক হামলা চালানো হতে পারে। নির্দিষ্ট এই হুমকি পেয়ে সতর্ক হয়ে যায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্তা-ব্যক্তিরা। বিমানবন্দর এবং ওই হোটেল তো বটেই, গোটা শহর জুড়েই চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে। সন্দেহজনক কোনও কিছু দেখলেই চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
২৬/১১ মুম্বই হামলার স্মৃতি এখনও মুছে যায়নি শহরের মন থেকে। ৭/১১-র সিরিয়াল ট্রেন বিস্ফোরণে দোষীদের চূড়ান্ত সাজা ঘোষণার কথা বুধবার। তার মধ্যে এমন হুমকি বার্তা রীতিমতো টেনশনে ফেলে দিয়েছে মুম্বই পুলিশকে।

নতুন ডেস্ট্রয়ার, চিনের মোকাবিলায় বহর বাড়াচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনী

নৌবাহিনীর নতুন ডেস্ট্রয়ার আইএনএস কোচি।

দেশে তৈরি বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ আইএনএস কোচি অন্তর্ভুক্ত হল ভারতীয় নৌবাহিনীতে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পর্রীকর মুম্বইতে নৌবাহিনীর ডক ইয়ার্ডে আনুষ্ঠানিক ভাবে এর অন্তর্ভুক্তি ঘটান। আইএনএস কোচি’র দৌলতে ভারতীয় নৌবাহিনীর অস্ত্রাগারে চলে এলে দশম গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার।
ভারত মহাসাগরে চিনের দাপটকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তেই দ্রুত শক্তিশালী করা হচ্ছে্ নৌবাহিনীকে। বলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। এত দিন নৌবাহিনীর হাতে ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি মাত্র ডেস্ট্রয়ার ছিল— আইএনএস কলকাতা। গত বছর অগস্টে সেটি বাহিনীর হাতে আসে। সদ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়া আইএনএস কোচিও ভারতে তৈরি এবং আগেরটির চেয়েও বড়। এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার বা বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজগুলি হল নৌবাহিনীর হাতে থাকা সব চেয়ে বড় আকারের জাহাজ। তার ঠিক পরের ধাপেই রয়েছে ডেস্ট্রয়ার। কয়েক বছর আগেই দেশীয় প্রযুক্তিতে তিনটি ডেস্ট্রয়ার তৈরির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। তার মধ্যে দু’টি নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, আগামী বছরের শেষে নৌবাহিনীর হাতে চলে আসছে তৃতীয় ডেস্ট্রয়ার আইএনএস চেন্নাই।
নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল রবিন ধবন বললেন, “ভারতীয় নৌবাহিনীর তলোয়ারকে আরও ধারালো করে তুলল এই আইএনএস কোচি। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেশের স্বার্থকে এবার অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকবে।”
২০২৭ সালের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর ভাণ্ডারে অন্তত ২০০টি যুদ্ধজাহাজ মজুত করতে চায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সেই লক্ষ্য পূরণ হলে নৌবাহিনীর হাতে মোট ৬০০টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারও চলে আসবে।

রোনাল্ডোর চোখ রেকর্ড আর মালমো ম্যাচে

মালমোর বিরুদ্ধে ম্যাচের আগের দিন ডিনারে ছেলেকে নিয়ে খোশমেজাজে রোনাল্ডো।

গ্রানাডা, অ্যাথলেটিক বিলবাও, মালাগা। কোনও প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধেই গোল আসেনি। গত ১০ দিন শুধু অপেক্ষাই করে গিয়েছেন তাঁর সমর্থককূল। আর দু’গোল হলেই যে ছুঁয়ে ফেলবেন রিয়াল মাদ্রিদের সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা রাউলের ৩২৩ গোলের রেকর্ড। কিন্তু তিনি—  ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো হতাশই করেছেন ভক্তদের। এ বার চোখ বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মালমো ম্যাচের দিকে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই সপ্তাহ দু’য়েক আগে শাখতার দনেস্কের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছিলেন রোনাল্ডো। এ বার তাঁর সেই দাপটই মালমোর বিরুদ্ধে ফিরবে বলে আশায় সতীর্থরাও। রিয়ালের লেফট ব্যাক মার্সেলো যেমন বলেছেন, ‘‘সবাই জানে রোনাল্ডো কী করতে পারে। ওর রেকর্ড ভাঙার নেশা নেই। বরং ওর টিমকে জেতাতে সাহায্য করারই লক্ষ্য থাকে সব সময়।’’
একই আশায় আছেন রিয়ালের কোচ রাফা বেনিতেজও, ‘‘গোলের এত সুযোগ তৈরি করাটাই আমার কাছে ইতিবাচক ব্যাপার। কিন্তু প্রতিআক্রমণে আমরা যে ভাবে সুযোগ নষ্ট করছি সেটা শুধরোতে হবে।’’ সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘‘বিপক্ষের গোলকিপার যখন ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয় (মালাগা ম্যাচে), তখন বোঝাই যায় আমরা কতটা আক্রমণ করেছি।’’
সিআর সেভেনের চ্যালেঞ্জ আবার বেশ উপভোগ্য লাগছে মালমোর গোলকিপার জোহান উইল্যান্ডের। যাঁর উপর বুধবার দুর্গরক্ষার বড় দায়িত্ব। তিনি আবার বলেছেন, ‘‘আমার খুব প্রিয় সে সব ম্যাচ যেখানে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। সুযোগটার যতটা সম্ভব সদ্ব্যবহার করতে হবে।’’


শিল্ড ফাইনালের পরের দিন। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতা

সেপ্টেম্বরাইটিস! এ রোগের কোনও ওষুধ বেরোয়নি আজ পর্যন্ত। সেপ্টেম্বরে ইস্টবেঙ্গলের মুখে পড়লেই কাঁপতে কাঁপতে চার-পাঁচটা গোল খেয়ে কচুকাটা হওয়া। ১৯৩৬... ১৯৭৫...২০১৫। প্রথমটা অবশ্য সেপ্টেম্বর ছিল না। যাই হোক, মোটামুটি একটা ক্রমপর্যায় ঠিক হয়ে গেছে—চল্লিশ বছর অন্তর। ২০৫৫-র সেপ্টেম্বরে ইস্টবেঙ্গল আবার হারাবে মোহনবাগানকে। চার-শূন্য না পাঁচ-শূন্য? একটু চেষ্টা করলে ৬ তারিখেই আর গোটা দু’য়েক গোল খাওয়া যেত। ভূতের রাজার কাছ থেকে যদি একটা বরই ম্যানেজ করা যেত: ৩১ অগস্ট হাততালি দিয়ে ডোন্ট কাম সেপ্টেম্বর, বললেই দুনিয়ার সমস্ত ক্যালেন্ডারে অক্টোবর চলে আসবে।
দশ বছর বয়স থেকে মোহনবাগান সাপোর্টার। ছেচল্লিশ বছর ধরে মেম্বার। আর পারা যায় না। ফেল  করা ছাত্রকে বন্ধুর স্তোকবাক্য ‘দুঃখ করিস না, ফেলিওর্স আর দ্য পিলার্স অব সাকসেস’ শুনে ছাত্রটির সুরসিকা মা বলেছিলেন, ‘আর পিলারে দরকার নেই বাবা, অনেকগুলো তো হয়ে গেল।’ মোহনবাগানেরও তাই।
পঁচাত্তরে শিল্ড ফাইনাল দেখার দুর্ভাগ্য হয়েছিল। চুনী গোস্বামী, প্রদীপ চৌধুরীকে হিংসে করি, ওঁরা সে দিন মাঠে ছিলেন না। এখনও চোখের সামনে ভাসে মোহনবাগান গ্যালারির উদ্দেশে পাঁচ আঙুল দেখিয়ে প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীরব আস্ফালন আর মোহনবাগান-ফেরত সুভাষ ভৌমিকের সেই হাত নেড়ে বিধ্বস্ত মোহনবাগান  টিমটাকে গোল করতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া। হ্যাঁ, ওই খেলার জেরেই চাকরি খোয়াই, তবে সে প্রসঙ্গ অন্যত্র।
এখন যেটা বলছি, তা হল সে দিন পাঁচ গোল দিয়েও এত কলরব, এত নাচানাচি করেনি ইস্টবেঙ্গলিরা। কেমন যেন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিল গোলগুলো ফটাফট করে ফেলে। খানিকটা ‘স্বপ্নো নু মায়া নু মতিভ্রমো নু’- গোছের অবস্থা আর কী। কিন্তু এ বারের চার গোলের লিগের জয়টা নিয়ে বেশ বাড়াবাড়ি রকমের আদিখ্যেতা হয়েছে। অবশ্যই মিডিয়ার কল্যাণে। অভাগা যে দিকে চায়, লাল-হলুদ দেখিতে পায়। রঙিন ছবি, পরিসংখ্যানের ছড়াছড়ি সর্বত্র। সাক্ষাৎকারেরও। হিরো ওয়ারশিপ। এ সব চলল পুজো অবধি। মোহনবাগান (অমল দত্তের ম্যাচটা বাদে) একটাও গোল করতে পারে না। ব্রাজিল সাত খানা খেয়ে তবু একটা শোধ করেছিল। খোদ ইস্টবেঙ্গলই সোভিয়েত ইউনিয়নে একটা খেলায় তেরোটা হজম করেও একটা ফেরত দিয়েছিল। মোহনবাগান সেটাও পারে না। রবীন্দ্রনাথও তো তাঁর প্রিয় মোহনবাগানকে পাঁচ শূন্যয় হারিয়ে দিয়েছেন: ‘স্মৃতিরত্নমশায় মোহনবাগানের গোলকীপারি ক’রে ক্যালকাটার কাছ থেকে একে একে পাঁচ গোল খেলেন।’ (সে)

কিন্তু পরিসংখ্যানের বন্যায় যে কথাটাকে ভাসিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তা হল মিথ্যে তিন রকম— শুধু মিথ্যে, ডাহা মিথ্যে আর পরিসংখ্যান। সাধে কি আর স্যর নেভিল কার্ডাস স্কোরবোর্ডকে ‘গাধা’ বলেছিলেন? পরিসংখ্যানের আড়ালে অদৃশ্য কাহিনিগুলো জানলে মূল্যায়নের সুবিধা হয়। পঁচাত্তরের শিল্ড ফাইনালে অরুণ লাল ঘোষ ভুল করেছিলেন আনকোরা গোলরক্ষক ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়কে খেলিয়ে— সে কথা আজ বলছেন। নিয়মিত প্রশান্ত মিত্রকে প্রথমে নামাননি। চার গোল খাওয়ার পর... কিন্তু তখন তো অল ইজ ওভার। ম্যানেজার কেষ্ট সেন অনুরোধ করা সত্ত্বেও অভিজ্ঞ শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নামাননি। তেমনই এ বার সঞ্জয় সেন বাধ্য হয়েছিলেন সাতটা নতুন ছেলে নিয়ে দল নামাতে। উপায় ছিল না। শুধু দেহে-মনে বিধ্বস্ত সবুজ-মেরুন সমর্থকরা চাপা পড়ে যাচ্ছে। ডং-এর গোল দু’টো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিল। দ্বিতীয়টার পর টিভি চ্যানেল ঘুরিয়ে ‘স্মৃতিটুকু থাক’ দেখছিলাম।
জানি না, এর মধ্যে আর কেউ উমাকান্ত পালধির পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন কি না। উমাকান্ত পেরেছেন, আমি পারিনি। কিন্তু চল্লিশ বছরের দগদগে ঘায়ে এক বস্তা নুন ঢেলে দিল একদা ১৬/২ ঈশ্বর গাঙ্গুলি স্ট্রিট-এর এক বাসিন্দা এবং তার তালিম পাওয়া বাইশ বছর বয়সি কোরীয় ছেলেটা। পঁচাত্তরের বিপর্যয়ের জেরে চাকরি হারিয়েছিলাম। এ বার কী হারিয়েছি? আমি তো এখন এক নির্ভেজাল প্রোলেতারিয়েত, যার দারিদ্র ছাড়া আর কিছু হারাবার নেই।
ঠিক করেছিলাম, মোহনবাগান যত দিন না ইস্টবেঙ্গলকে ৫-০ বা ৬-০ হারাতে পারছে, তত দিন আর মোহনবাগানের কোনও প্রতিযোগিতামূলক খেলা দেখব না। তাই ম্যাচ কভারও করব না।
কিন্তু এই নির্বোধ জেদ নিয়ে তো আর চাকরি করা চলে না। আনন্দবাজারের স্পোর্টস এডিটর তখন খ্যাতনামা সাহিত্যিক মতি নন্দী। তিনি নাছোড়বান্দা—সঙ্গত ভাবেই—আমাকে দিয়ে মোহনবাগান ম্যাচ করাবেনই, আমিও নানা ভাবে ডজ করে বেরিয়ে যাই। এক দিন এই রকম ভাবে আমাকে কী একটা ম্যাচ করতে বলায় মরিয়া হয়ে বললাম, আমার প্রেস কার্ডটা হারিয়ে ফেলেছি, তাই...। ভাবলাম ডুপ্লিকেট কার্ড করাতে করাতে অন্তত সাত-আট দিন তো রেহাই পাব, পরের কথা পরে দেখা যাবে। কিন্তু হা হতোস্মি, অসাধারণ তৎপরতা দেখিয়ে সহকর্মী রূপক (সাহা) নতুন কার্ড বার করে আনল পরের দিনই। বুঝলাম ম্যাচ করতেই হবে। তখন চাকরিটা ছেড়েই দিলাম। এর পর শুরু হয় আমার বেকার জীবন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ইংরেজি পড়ানোর ‘ব্যাচ’ বসিয়ে দিলাম। স্বখাত সলিলে সাঁতার কাটা আর কী।
মোহনবাগান সমর্থক হিসেবে পরবর্তী ক’বছরে বারবার মনে হয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি এবং অ্যাথলেটিক্স— সব মিলিয়ে দেখলে মোহনবাগান অনেক অনেক এগিয়ে। কিন্তু এ সব কথা কে শুনছে এই মুহূর্তে? কলকাতা লিগের একটা টু-ইন-ওয়ান জয় দিয়ে আই লিগ জয়কে ঢাকার অপচেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু তা কি সম্ভব?
তা হলে একটা বার্তা দিতেই হয় ওঁদের উদ্দেশে: হেক্সা-হেপ্টা-অক্টো-ননা/ যত পারিস কে-লিগ নে না/ আই-লিগ একশো একা/ পারিস যদি জিতে দেখা!
মোহনবাগান সদস্য-সমর্থকরা মাঝে মাঝেই বলেন, বদলা চাই। এ ব্যাপারেও কিন্তু বাস্তবোচিত দৃষ্টিভঙ্গি দরকার। তুমি কথায় কথায় ওদের কাছে ০-৫, ০-৪ হারবে, আর এক বার ৫-৩ করেই উদ্বাহু হয়ে নৃত্য করবে? ০-৫, ০-৪ এর বদলা ৫-০ কী ৪-০ তেই হয়। পারলে, সুদসুদ্ধ একটা করে বেশি দিয়ে। ‘নিল’টা বজায় রাখতে হবে। ২০০৯-র আই লিগের ৫-৩ জয়টা (যাতে চিডি চারটে গোল করেছিল) কোনও ক্রমেই পঁচাত্তরের পাঁচ গোলের শাপমুক্তি নয়।
আর একটা কথা। মোহনবাগানকে ৫-০ বা ৪-০ জিততে ইস্টবেঙ্গল কোনও দিনই দেবে না। মোহনবাগান পুরো ব্রাজিলের বা জার্মানির দল নিয়ে খেললেও পারবে না। কলঙ্কিত পঁচাত্তরে যদি কোনও অধিকারবলে মাঠে থাকতাম— কর্মকর্তা, কোচ বা খেলোয়াড়— তা হলে যে কোনও ছুতোয় খেলাটা ভন্ডুল করতাম।
আরে বাবা, যখন বুঝছিস দিনটা তোদের নয়, দুটো কি তিনটে গোল খাওয়ার পর অ্যাকশন নাও! ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে যদি এতটুকু চিনে থাকি, এটা ঘটবেই।
একটা শুধু ভয় হচ্ছে। এই মওকায় ‘গোষ্ঠ পাল সরণি’টা না আবার ইস্টবেঙ্গল সরণি হয়ে যায়। গোষ্ঠবাবু তো শেষ অবধি ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিতে বসে থাকতেন। এখনকার মোহনবাগান মাঠে যেতে চাননি। 

বৃহস্পতির দুই চাঁদে প্রাণের স্পন্দন!

মঙ্গলকে হারিয়ে দিতে পারে বৃহস্পতি! দৌড়ের ‘ফার্স্ট ল্যাপ’-এই!
এক জায়গায় জল তরল অবস্থায় রয়েছে বলে সদ্যই জানা গেল। আর, অন্য এক ‘ডেস্টিনেশন’-এ অতলান্ত জলের ‘হদিশ’ তো মিলেছেই, সেই মুলুকে জলের তলায় অন্তত, তিনশো কোটি অণুজীব থাকার সম্ভাবনাও রীতিমতো জোরালো হয়েছে।
আমাদের এই গ্রহ ছাড়া এই ব্রহ্মাণ্ডের আর কোথাও ‘প্রাণ’ রয়েছে কি না, সেই কৌতূহল সম্ভবত, আগে মেটাতে পারে বৃহস্পতি। আরও সঠিক ভাবে বলতে হলে, এই সৌরমণ্ডলের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির দুই ‘চাঁদ’- ‘ইউরোপা’ আর ‘গ্যানিমিদ’।
নাসা-র যে গবেষকদলটির তরফে মঙ্গলে এখনও নোনা জলের অস্তিত্ব রয়েছে বলে কাল ঘোষণা করা হয়েছে, তার অন্যতম সদস্য, বাঙালি মহাকাশবিজ্ঞানী হিল্লোল গুপ্ত মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন।
 মার্কিন মুলুকের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউএমবিসি সেন্টারের কম্পিউটার ও মহাকাশবিজ্ঞানী হিল্লোলবাবু আজ সকালে পাসাডেনা থেকে টেলিফোনে জানান, ‘‘প্রাণের জন্য জলকে তরল অবস্থায় থাকতেই হবে আর সেই জলকে পর্যাপ্ত হতে হবে, এটা যেমন ঠিক, তেমনই তরল অবস্থায় জলের হদিশ মিললেই যে প্রাণের সৃষ্টি হবে, তা কিন্তু জোর দিয়ে বলা যায় না। ‘প্রাণে’র জন্মের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেনেরও প্রয়োজন। আর সেই অক্সিজেনকে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাসীয় অবস্থাতেই থাকতে হবে। এখনও পর্যন্ত যে সব তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে মঙ্গলের তুলনায় অক্সিজেন গ্যাস অনেক বেশি পরিমাণে রয়েছে বৃহস্পতির দুই ‘চাঁদ’— ‘ইউরোপা’ আর ‘গ্যানিমিদ’-এ। তাই, মঙ্গলে তরল জল মিললেও ‘প্রাণে’র হদিশ মিলবে কতটা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্য দিকে, এত বেশি পরিমাণে অক্সিজেন গ্যাস রয়েছে ‘ইউরোপা’ আর ‘গ্যানিমিদ’-এ যে, বৃহস্পতির ওই দুই ‘চাঁদে’ অণুজীব না-থাকলে, সেটাই হবে বিস্ময়ের।’’
এই মাসেই পোয়ের্তো রিকোয়, ‘আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’র ‘ডিভিশন ফর প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস’-এর ৪১তম বৈঠকে একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণাপত্র পেশ করেছেন অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিশিষ্ট অধ্যাপক রিচার্ড গ্রিনবার্গ। ওই গবেষণাপত্রটি তৈরি করার ক্ষেত্রে হিল্লোলবাবু ছিলেন গ্রিনবার্গের সহকারী।
হিল্লোলবাবু জানাচ্ছেন, বৃহস্পতির দু’টি ‘চাঁদ’— ‘ইউরোপা’ আর ‘গ্যানিমিদ’-এ রয়েছে প্রচুর অক্সিজেন গ্যাস। রয়েছে প্রচুর হাইড্রোজেন গ্যাস। অভাব নেই কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার ও ফসফরাসের মতো প্রচুর রাসায়নিক মৌলও। অন্তত, কার্বন আর নাইট্রোজেনের পরিমাণ তো মঙ্গলের থেকে অনেকটাই বেশি। বৃহস্পতির দুই ‘চাঁদে’র ‘বায়ুমণ্ডলে’ প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন রয়েছে বলে কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার ও ফসফরাস-ঘটিত যৌগেরও অভাব নেই সেখানে। যে মহাসাগর বা ‘ওশান’গুলি রয়েছে বৃহস্পতির দুই ‘চাঁদে’, সেগুলির গভীরতা আমাদের আটলান্টিক বা, প্রশান্ত মহাসাগরের তুলনায় প্রায় দশ থেকে পনেরো গুণ। বৃহস্পতির ‘চাঁদে’র মহাসাগরগুলি তার পিঠের পুরু ও লোহার মতো শক্ত বরফের চাদরের খুব একটা নীচে নেই। সেই বরফের চাদরের মাত্র ৯৫ থেকে ১১৫ মাইল নীচেই রয়েছে তরল জলের ওই সুবিশাল মহাসাগরগুলি। সেই জলও নোনা। পৃথিবীর মতোই। অধ্যাপক গ্রিনবার্গের গবেষণাপত্রে একেবারে হিসেব কষে দেখানো হয়েছে, বৃহস্পতির দুই ‘চাঁদে’, ওই পরিবেশে এখনও কম করে, ৩০০ কোটি অণুজীব বেঁচে থাকতে পারে। সেই অণুজীব হতে পারে ‘মাইক্রো-ফ্লোরা’ বা, অণু-উদ্ভিদ, আবার তা ‘মাইক্রো-ফনা’ বা, অণু-প্রাণীও হতে পারে। তা সে ‘প্রাণী’ই হোক বা, ‘উদ্ভিদ’, সেগুলির এককোষী বা, ‘ইউনি-সেলুলার’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সৃর্য থেকে অত দূরে, তা-ও আবার অতটা পুরু বরফের ‘চাদরে’র তলায় ‘লুকিয়ে থাকা’ মহাসাগরের ৯০ থেকে ১৫০ মাইল নীচে, ‘ইউরোপা’ ও ‘গ্যানিমিদ’-এ  বহুকোষী প্রাণী বা উদ্ভিদের হদিশ মেলাটা কার্যত, অসম্ভবই।’
অধ্যাপক গ্রিনবার্গের ওই গবেষণাপত্রে ‘প্রাণে’র হদিশ মেলার সম্ভাবনার দৌড়ে মঙ্গলের চেয়ে বৃহস্পতির দু’টি ‘চাঁদ’কে এগিয়ে রাখা হয়েছে আরও একটি কারণে। তা হল, যা মঙ্গলে কতটা রয়েছে, বা, আদৌ রয়েছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্টই সন্দেহ-সংশয় রয়েছে, সেই হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড গ্যাস প্রচুর পরিমাণে রয়েছে বৃহস্পতির ওই দুই ‘চাঁদে’। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, সেই হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড গ্যাস দু’টি ‘চাঁদে’র পিঠে পুরু বরফের ‘চাদর’ ফুঁড়ে তার নীচে ‘লুকিয়ে থাকা’ মহাসাগরের তরল জলে মিশেছে। এখনও মিশছে। এটাই ‘প্রাণ’ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির ভাণ্ডারের জন্ম দিয়েছে বৃহস্পতির দুই ‘চাঁদে’। এই প্রক্রিয়াটা মঙ্গলেও চালু রয়েছে, এমন তথ্য এখনও পর্যন্ত মেলেনি।
হিল্লোলবাবু জানিয়েছেন, ‘বৃহস্পতির ‘চাঁদ’ দু’টিতে তরল জল যে প্রায় প্রতি মুহূর্তেই ফুটে চলেছে, তারও প্রমাণ মিলেছে। জল ফুটছে বলেই দুই ‘চাঁদে’র দুই মেরু থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বেরিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে। হাব্‌ল স্পেস টেলিস্কোপে সেই ছবি ধরাও পড়েছে। জোরালো অভিকর্ষ বল আর মহাসাগরগুলির নীচে থাকা ‘জীবন্ত’ আগ্নেয়গিরিই বৃহস্পতির দুই ‘চাঁদে’ তরল জলকে ফুটিয়ে প্রচুর জলীয় বাষ্পের জন্ম দিচ্ছে। এই ঘটনাও বৃহস্পতির ‘চাঁদ’ দু’টিতে প্রাণের হদিশ মেলার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

পুতিন পিছনে ফেললেন ওবামাকে

রাষ্ট্রপুঞ্জে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে ভ্লাদিমির পুতিন এবং বারাক ওবামা।

কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলেননি। তবে কূটনীতির লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের থেকে এক কদম এগিয়ে রইলেন রুশ প্রেসিডেন্টই।
সিরিয়া-সঙ্কট, শরণার্থী সমস্যা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানো— সব বিষয়েই ভ্লাদিমির পুতিন এবং বারাক ওবামার মতপার্থক্য সোমবার প্রকট হয়ে ওঠে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার অধিবেশনে। তার পরেই মঙ্গলবার মুখোমুখি বৈঠকে বসেছেন দুই প্রেসিডেন্ট। এক ঘণ্টার নির্ধারিত বৈঠক গড়িয়ে যায় দেড় ঘণ্টায়। ওবামা বলেন, সিরিয়ায় আইএস-কে ঠেকাতে প্রয়োজন নয়া নেতার।
সোমবারই তিনি বলেছিলেন, সিরিয়া নিয়ে তিনি রাশিয়া এবং ইরানের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী। রাশিয়া এবং ইরান দু’জনেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন করছে। আমেরিকা বাশারের বিরোধী। কিন্তু আইএস-কে ঠেকানোর স্বার্থে আমেরিকা যাতে তার ওই বিরোধিতা থেকে সরে আসে, তার জন্য চাপ বাড়াচ্ছে রাশিয়া। ফ্রান্স ইতিমধ্যেই বিমান হানা শুরু করেছে।
মার্কিন প্রশাসন বরাবরই বলে এসেছে, স্বৈরতন্ত্রী বাশারকে উৎখাত না-করে সিরিয়ায় রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান খোঁজা বৃথা। কিন্তু পুতিন বিশ্বাস করেন, আইএস জঙ্গিদের প্রতিহত করতে হলে বাশারকে পাশে নিয়েই চলতে হবে। দীর্ঘ দশ বছর পরে রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে ফিরে সোমবার পুতিন এই যুক্তিতেই সরব ছিলেন। রণং দেবি মেজাজে তিনি দাবি করেন, ইরাক থেকে সাদ্দাম হুসেন বা লিবিয়া থেকে মুয়াম্মর গদ্দাফিকে হটানোর পরে সে সব জায়গা জঙ্গিদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। সিরিয়ারও সেই পরিণতি কাম্য নয়। পুতিন বলেছেন, ‘‘মার্কিন বা ফরাসি প্রেসিডেন্ট— প্রত্যেকের প্রতি আমার সম্মান রয়েছে। কিন্তু ওঁরা সিরিয়ার নাগরিক নন। তাই আমার মনে হয়, সিরিয়ায় কে নেতৃত্ব দেবেন, সেটা ঠিক করা ওঁদের কাজ নয়।’’
এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ‘‘পুতিনের যুক্তি মানলে বাশারের মতো অত্যাচারী শাসককে সমর্থন করতে হয় আমাদের।’’ সেটাও কতটা কাম্য, প্রশ্ন ওবামার। প্রশ্ন উঠেছে ক্রাইমিয়ায় রুশ আগ্রাসন নিয়েও। উঠেছে ইউক্রেনে লড়াইয়ের কথাও। পুতিনের যদিও দাবি, পশ্চিমি  শক্তির ইন্ধনেই সমস্যা বাড়ছে। এবং সিরিয়ায় রাশিয়ার ভূমিকার কথা বলে তিনি নিজেকেই আইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মুখ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। মার্কিন-বিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত চিন এবং ইরানও একই কথা বলায় ওবামা কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। নিজের বক্তব্যে অটল থেকেও তাঁকে বলতে হল, সিরিয়া সঙ্কট মেটাতে রাশিয়া, ইরান-সহ সব দেশের সঙ্গেই কথা চালিয়ে যেতে তিনি আগ্রহী।

Monday, September 28, 2015

মহাকাশ গবেষণায় তালেবর হল ভারতও


অ্যাস্ট্রোস্যাট নিয়ে রকেট উড়ল। সোমবার শ্রীহরিকোটায়।

পাঁচ, চার, তিন, দুই, এক....।
গুনতির রেশ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই আগুনের শিখা ছড়িয়ে রকেট উড়ল আকাশ ফুঁড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুলিকট হ্রদ লাগোয়া শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশকেন্দ্র জুড়ে মালুম হল তার প্রতিক্রিয়া— গুমগুমগুম শব্দে। উৎক্ষেপণস্থলের সাত কিলোমিটার দূরে মিডিয়া সেন্টারও রেহাই পেল না। মাটিতে ধাক্কা দিয়ে রকেটের ঊর্ধ্বগমনের পাল্টা অভিঘাতে থরথর করে কেঁপে উঠল চারতলা বাড়িটা!
সোমবার কাঁটায় কাঁটায় সকাল দশটায় এ ভাবেই পিএসএলভি সি-৩০ রকেটে সওয়ার হয়ে মহাকাশে পাড়ি দিল অ্যাস্ট্রোস্যাট। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ, যার উপরে বর্তেছে ব্ল্যাক হোল-সহ ব্রহ্মাণ্ডের বিবিধ রহস্য সন্ধানের ভার। পাঁচ বছর ধরে মহাকাশে চক্কর মারতে মারতে সে ওই দায়িত্ব পালন করে যাবে। তার ভূমিকা হবে পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের। চোখের সামনে ধীরে ধীরে মেঘের ও-পারে মিলিয়ে গেল পিএসএলভি। তার চলার চিহ্ন তখনও ছড়িয়ে আকাশ জুড়ে। মেঘের বুক চিরে যেন সরু এক ফালি রাস্তা! তুলিতে আঁকা!
বেলা সওয়া বারোটা। সাংবাদিক সম্মেলন করে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) কর্তারা জানালেন, ঘড়ির কাঁটা মেপে ঠিক ১০টা ২২ মিনিটে তাঁদের ‘দূত’ পৌঁছে গিয়েছে ভূপৃষ্ঠের সাড়ে ছ’শো কিলোমিটার উপরের নির্দিষ্ট কক্ষপথে। তাকে শক্তি জোগানোর জন্য খুলে গিয়েছে সোলার প্যানেল। এবং এতটা পথ পাড়ি দিয়েও সে রীতিমতো তরতাজা। ইসরো-র ইন্ডিয়ান স্যাটেলাইট সেন্টারের অধিকর্তা মিলস্বামী আন্নাদুরাই জানিয়েছেন, অ্যাস্ট্রোস্যাটের তোলা ছবি আসতে এখনও মাস দুয়েক। ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে প্রাথমিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও মাস চারেক লাগবে ধরে নেওয়া যায়।
সে যা-ই হোক, উৎক্ষেপন সফল হতেই টুইটার-ফেসবুকে শুভেচ্ছাবার্তার ঢল নেমেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইটারে ইসরো’কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আবার প্রকল্পের ‘জন্মবৃত্তান্ত’ নিয়ে ফেসবুকে স্মৃতিচারণ করেছেন পুণের ইন্টার ইউনিভার্সিটি সেন্টার অব অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (আইইউকা)-এর বর্তমান অধিকর্তা সোমক রায়চৌধুরী। লিখেছেন, ১৯৯৬-এ ইসরোর বেঙ্গালুরু সদরের বৈঠকে এমন একটি প্রকল্পের প্রস্তাব উঠেছিল। ইসরোর তৎকালীন চেয়ারম্যান কৃষ্ণস্বামী কস্তুরীরঙ্গন তাতে সায় দিয়েছিলেন।
মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ, পুণের আইইউকা, বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্স-এর মতো দেশের প্রথম সারির গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সেই পরিকল্পনাকেই এ দিন বাস্তব রূপ দিল ইসরো। যে সাফল্যের হাত ধরে মহাকাশ গবেষণায় নতুন ধাপ টপকে গেল ভারত। এ যাবৎ মহাকাশ কিংবা চাঁদ-মঙ্গলের মধ্যে তার যাতায়াত সীমাবদ্ধ ছিল। এ বার মহাকাশে নিজস্ব পর্যবেক্ষণকেন্দ্র মজুত করে জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যোতিঃপদার্থবিদ্যার তাত্ত্বিক গবেষণাও ভারত শুরু করে দিল। চলে এল ‘অভিজাত’ তালিকায়। কী রকম?
এর আগে আমেরিকা (সঙ্গী ইউরোপীয় ইউনিয়ন), রাশিয়া ও জাপান এমন গবেষণায় হাত দিয়েছে। তালিকায় ভারতই হচ্ছে চতুর্থ দেশ। ‘‘চাঁদ-মঙ্গলে সফল অভিযানের সুবাদে মহাকাশ অভিযান ও উৎক্ষেপণ-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) এবং ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসা)-র সঙ্গে টক্কর দেওয়ার জায়গায় আমরা আগেই চলে এসেছিলাম। এ দিনের সাফল্য সেই মুকুটে আর একটা উজ্জ্বল পালক জুড়েছে।’’— দাবি এক বিজ্ঞানীর।
কী ভাবে জুড়েছে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গবেষকদের অনেকের বক্তব্য: বিভিন্ন মহাজাগতিক রশ্মি চিহ্নিতকরণের জন্য অ্যাস্ট্রোস্যাটে বসানো হয়েছে পাঁচ-পাঁচটা ‘চোখ।’ যার কল্যাণে তথ্যের জন্য তাঁদের আর বিদেশিদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের শিক্ষক সুজন সেনগুপ্তের প্রতিক্রিয়া, ‘‘এখন তো আমরাই তথ্য লেনদেনের জায়গায় পৌঁছে গেলাম।’’
ইসরো-সূত্রের খবর: ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য সন্ধানে ১৯৯০-এ নাসা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথ ভাবে ‘হাবল’ নামে একটি টেলিস্কোপ পাঠিয়েছে মহাকাশে, গত ২৫ বছর ধরে যে নানা ধরনের তথ্য জুগিয়ে এসেছে। ২০০৫-এ জাপান, তার পরে রাশিয়া একই ধরনের টেলিস্কোপবাহী উপগ্রহ মহাকাশে পাঠালেও হাবলের তথ্যই ছিল গবেষকদের মূল ভরসা। এখন অ্যাস্ট্রোস্যাটকে অনেকে ‘ভারতীয় হাবল’ হিসেবে ডাকতে শুরু করেছেন। দুয়ের তুলনাও শুরু হয়ে গিয়েছে।
ইসরো-কর্তারা অবশ্য প্রকাশ্যে এ হেন তুলনায় যেতে নারাজ। তাঁরা বলছেন, হাবলের সঙ্গে অ্যাস্ট্রোস্যাটের বিস্তর ফারাক। ঘটনা হল, এই সূত্রেই ইসরো-র চেয়ারম্যান এএস কিরণকুমার এ দিন তুলে এনেছেন ভারতীয় প্রকল্পের ‘নিজস্বতা’র প্রসঙ্গ। জানিয়েছেন, হাবল-অ্যাস্ট্রোস্যাট তুলনা চলে না ঠিকই। কিন্তু অ্যাস্ট্রোস্যাটে এক্স-রশ্মি বা অতিবেগুনি রশ্মি ধরার যে টেলিস্কোপ আর স্ক্যানিং স্কাই মনিটর নামে যন্ত্র বসানো রয়েছে, তা বর্তমান সময়ের তুলনায় যথেষ্ট আধুনিক। ‘‘হাবল অনেক বড় ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য তৈরি। আমরা অত বড় আকারে কিছু না-করলেও স্বাতন্ত্র বজায় রেখেছি।’’— মন্তব্য তাঁর।
সরাসরি না-বললেও উন্নত দুনিয়ার উদ্দেশে কার্যত চ্যালেঞ্জ-ই ছুড়েছেন ইসরো-চেয়ারম্যান।

নেতাজি প্রশ্নে চাপ এ বার সঙ্ঘের

নেতাজি অন্তর্ধান সংক্রান্ত ফাইল প্রকাশ করা উচিত কেন্দ্রের—লালকৃষ্ণ আডবাণীর সুরেই এ বার বলল আরএসএস-ও। সঙ্ঘের মুখপত্রে এক প্রবন্ধে নেতাজি অন্তর্ধান রহস্যকে ‘সব ষড়যন্ত্রের সেরা ষড়যন্ত্র’ বলে ব্যাখ্যা করে এই দাবি করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে থাকা গোপন ফাইলগুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবার সামনে নিয়ে আসতেই, কেন্দ্রের ফাইল প্রকাশের জন্য আর্জি জানিয়েছিলেন নেতাজি কন্যা অনিতা বসু পাফ-ও। এ বার অরএসএসের দাবির পরে প্রবল চাপের মুখে পড়ে গেল মোদী সরকার।
আরএসএসের মুখপত্র ‘অরগানাইজার’-এ শুধু গোপন ফাইল প্রকাশের দাবিই তোলা হয়নি—বলা হয়েছে, নেতাজির ফাইল প্রকাশ্য আনতে মোদী সরকারকে ‘সাহসী’ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কেননা, ‘‘মোদী সরকার যদি অন্তর্ধান রহস্যে আলো ফেলতে কোনও পদক্ষেপ না করে, তা হলে ভবিষ্যতে অন্য কোনও সরকারও সে কাজ করতে পারবে না।’’
আরএসএস মুখপত্রে মন্তব্য করা হয়েছে, ‘‘নেতাজির মৃত্যু ঠিক কোথায় হয়েছে, সরকারের তা তদন্ত করে দেখা উচিত।’’ নেতাজি ফাইল প্রকাশের দাবির সঙ্গেই সঙ্ঘের মুখপত্রে নিশানা করা হয়েছে নেহরু-গাঁধী পরিবারকে। বলা হয়েছে, ‘‘এই পরিবারের সঙ্গে অনেক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু এটা সব ষড়যন্ত্রের সেরা ষড়যন্ত্র। নেতাজি ও অন্যরকম আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের সম্পর্কে নেহরু-গাঁধী পরিবারকে অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।’’ আরএসএসের মতে, তাঁর বৈপ্লবিক কাজের জন্য নেতাজি দেশের মানুষের কাছে নেহরুর থেকেও বেশি জনপ্রিয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, স্বাধীনতার পরে দেশের নেতারা সে সব ভুলে গিয়েছেন। বরং স্বাধীন দেশে তাঁর পরিবারের উপর নজরদারি চালানো হয়েছে। আর নেতাজির সঙ্গীদের সাথে অপরাধীর মতো ব্যবহার করা হয়েছে।

পাকিস্তানও এগোতে পারে, ভারত নিশ্চল


শরিয়ত নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিগত আইন মুসলমান মেয়েদের অনেক যন্ত্রণার কারণ। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে। মেয়েরা এর সংস্কার চাইছেনও। কিন্তু মোল্লা-মৌলবিরা সংস্কারে নারাজ। শিক্ষিত মুসলমান পুরুষরাও নীরব।

সম্প্রতি ‘ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলন’ নামে মুম্বইয়ের একটি সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ সহ দশটি রাজ্যে প্রায় পাঁচ হাজার মুসলমান মহিলাকে নিয়ে একটি সমীক্ষা করেছিলেন। তার রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ৮৩.৩ শতাংশ মহিলা তি ন তালাকের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে শরিয়ত নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিগত আইনের সংস্কার চেয়ে মত প্রকাশ করেছেন।  তিন তালাক ছাড়াও বহুবিবাহ, বিয়ের দেনমোহর (স্ত্রীধন) এবং দত্তক সংক্রান্ত যাবতীয় শরিয়তি বিধানকে বিচার বিভাগ এবং সরকারি প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় এনে বিধিবদ্ধ আইন চান ওই মহিলারা।

এই সমীক্ষা যাঁদের মধ্যে করা হয়েছে তাঁরা মূলত গরিব এবং নিরক্ষর। এই অসহায় মহিলারাই শরিয়ত আইনের যত রকমের অপপ্রয়োগের শিকার। সব জায়গায় সমস্যা সমান নয় নিশ্চয়ই। যেমন, শিক্ষিত এবং সম্পন্ন বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে তালাক বা বহুবিবাহ নেই বললেই চলে, কিন্তু রাজ্যের অনেক জেলাতেই নিম্ন আয়ের ও নিম্ন সামাজিক অবস্থার মুসলমানদের ‌মধ্যে তালাকের চল বেশি। আবার, যে সমস্ত অঞ্চলে মহিলারা বিড়ি বেঁধে, জরির কাজ করে বা অন্য কোনও উপায়ে উপার্জন করে খানিকটা স্বাবলম্বী, সেখানে তালাকের প্রবণতা কম। কিন্তু মহিলা সংগঠনগুলোর বক্তব্য, এমন একটা ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হবে কেন, যা দেশের আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে পুরুষকে একতরফা ভাবে তালাক দেওয়ার অধিকার দেবে? অথচ তালাক নিয়ে শরিয়তের অপপ্রয়োগ বন্ধ করতে বাংলাদেশে, এমনকী পাকিস্তানেও মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের ব্যাপক সংস্কার করে ১৯৬১ সালে তৈরি হয় মুসলিম পারিবারিক আইন। সে দেশে তালাক দেওয়ার কোনও সহজ চটজলদি ব্যবস্থা আর নেই। প্রথম স্ত্রীর লিখিত অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়েও করা যায় না। এখানে তালাকের বা বহুবিবাহের ওপর বিচারবিভাগ বা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মুসলিম মহিলারা, শিশুরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে। এর ফলে গোটা মুসলমান সমাজ কলঙ্কিত হচ্ছে বলে মনে করছে ওই সংগঠনগুলো।
এ দেশে শরিয়ত নিয়ন্ত্রিত মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের সংস্কার কি সম্ভব? মুসলিম পাসোর্নাল ল বোর্ড সে দাবি আগেই বাতিল করেছে। জামাআতে ইসলামি হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার আমির-এ হালকা (সভাপতি) মহম্মদ নুরুদ্দিন শরিয়তের ন্যূনতম সংস্কারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘এই সব নারী সংগঠনের আন্দোলন আসলে অভিন্ন দেওয়ানি আইনের দাবিকেই জোরদার করছে।’ ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলনের রাজ্য শাখার আহ্বায়ক রহিমা খাতুনের বক্তব্য, ‘কোরানে যে বিধান রয়েছে তার ভিত্তিতেই আইন হোক, যে আইনে একসঙ্গে তিন বার তালাক বলে বউকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া যাবেও না, বউয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে যে আইন স্বামীকে আদালত পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারবে, ফয়সালা হবে আদালতেই।’ সেই রকম আইনের একটা খসড়া আন্দোলনের কর্মীরা ইতিমধ্যেই তৈরি করেছেন।
তবে মুর্শিদাবাদের ‘রোকেয়া নারী উন্নয়ন সমিতি’র নেত্রী খাদিজা বানু আরও অনেকটা এগিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে যদি শরিয়ত আইনের সংস্কার সম্ভব হয় তা হলে ভারতের মতো একটা সেকুলার দেশে হবে না কেন?’ তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট, ‘ব্যাঙ্ক, বিমা বা ফৌজদারির ক্ষেত্রে মুসলমান যদি শরিয়ত সরিয়ে রেখে দেশের আইনে চলতে পারে তা হলে তালাক, সম্পত্তির ‌উত্তরাধিকার বা দত্তকের জন্যও শরিয়ত আইনের প্রয়োজন হবে কেন!’ খাদিজা বানু ও তাঁর সংগঠন মুর্শিদাবাদ এবং পাশের কয়েকটি জেলায় তালাকপ্রাপ্ত গরিব মেয়েদের আইনি অবং অন্যান্য সহায়তা দিয়ে থাকেন বহু দিন ধরেই।
শরিয়তে তালাকের যে প্রক্রিয়া ও প্রয়োগ‌ব্যবস্থা রয়েছে তা জটিল, সময়সাপেক্ষ। একটা তালাক কার্যকর হতে সংশ্লিষ্ট নারীকে তিনটি ঋতুকাল সময় (অন্তত তিন মাস) দিতে হবে। এক বারে তিন তালাক উচ্চারণ করে স্ত্রীকে বিদেয় করা অনুমোদিত নয়। তা হলে তালাক হবে কেমন করে? প্রথমেই জেনে রাখা দরকার, ইসলামে তালাক কোনও ভাবেই উৎসাহিত করা হয়নি। হজরত মুহম্মদের পরামর্শ ছিল, ‘তোমরা বিয়ে কর কিন্তু তালাক দিয়ো না। কেননা তালাক দিলে আল্লার আরস কেঁপে ওঠে।’ কোরানে (সুরা তালাক ৬৫:১) বলা হয়েছে, ‘হে নবি! তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের তালাক দিতে চাইলে ইদ্দতের প্রতি লক্ষ রেখে ওদের তালাক দিয়ো। ইদ্দতের হিসাব রেখ।... তোমরা ওদেরকে বাসগৃহ থেকে বের করে দিও না। আর ওরাও যেন বের হয়ে না যায়, যদি না ওরা স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়।’
কোনও স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করার পরের তিন মাস হল ‘ইদ্দত’। ওই সময়ের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। তালাকপ্রাপ্ত মহিলা গর্ভবতী কি না তা নিশ্চিত করার জন্যই ইদ্দত। ইদ্দতকালে স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর। কিন্তু এ দেশে তার কোনওটাই হয় না। নিয়ম হল, প্রথম ও দ্বিতীয় বার তালাক বলার পরেও স্বামী চাইলে তৃতীয় বার তালাক বলা থেকে বিরত থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ রদ করতে পারেন।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ হলে প্রথমে নিজেরা এবং পরে দু’জন মধ্যস্থতাকারীর উপস্থিতিতে আলোচনা করে বিবাদ মিটিয়ে নিতে হবে। না মিটলে স্বামী তাঁর স্ত্রীকে প্রথম বার তালাক উচ্চারণ করবেন, কিন্তু পরের তিন মাস (ইদ্দত কাল) একসঙ্গে বাস করবেন এবং বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন। ওই সময়ে বিবাদ মিটে গেলে তাঁরা আগের মতোই স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকবেন। আর বিবাদ না মিটলে তালাক হয়ে গেল। কিন্তু তালাক হয়ে যাওয়ার পরে স্বামী-স্ত্রী ভুল বুঝতে পেরে যদি আবার একসঙ্গে থাকতে চান তাহলে বিরাট বিপদ। ওই স্ত্রীকে আবার অন্য এক পুরুষকে বিয়ে করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে অন্তত চার মাস কাটানোর পরে সেই পুরুষ যদি নিয়ম মেনে তালাক দেন তবেই ওই মহিলা আবার তাঁর আগের স্বামীর কাছে ফিরে যেতে পারবেন। এই পদ্ধতিকে বলে ‘হালালা’। এই প্রথা অনেক মুসলিমপ্রধান দেশেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ দেশে হালালা আছে বহাল তবিয়তে।
এখন তো পোস্টকার্ডে লিখে, ই-মেল করে এমনকী এসএমএস বা হোয়াটসঅ্যাপ করেও তালাক হয়ে যাচ্ছে। কোরানের স্পষ্ট নিষেধ সত্ত্বেও তিন তালাক হচ্ছে কেন? সুন্নি মুসলমানদের যে চারটি ‘মজহাব’ বা ‌খণ্ড সম্প্রদায় আছে তাদের তিনটি মজহাবে তিন তালাক গ্রাহ্য না হলেও ‘হানাফি’দের মধ্যে এই প্রথা আইনসিদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গের শতকরা ষাট ভাগের বেশি মুসলমান ইরাকের সপ্তম শতকের ইমাম আবু হানিফা প্রবর্তিত হানাফি মতের। ইসলামি আইনশাস্ত্রে কোরান ও হাদিসের পাশাপাশি তেরোশো বছর আগের ওই আইনজ্ঞের অভিমতকেও কঠোর ভাবে মান্যতা দেওয়া হয়। এতটাই যে, অল ইন্ডিয়া পাসোর্নাল ল বোর্ড জানিয়ে দিয়েছে, এক বারে তিন তালাক বলে বিবাহবিচ্ছেদ অন্যায়, কিন্তু তা বন্ধ করা যাবে না। জামাআতে ইসলামির সভাপতি মহম্মদ নুরুদ্দিন পাসোর্নাল ল বোর্ডের মতটাকেই পরিষ্কার করলেন, ‘যদি কেউ আন্তরিক ভাবে, সজ্ঞানে, সচেতন ভাবে এক বৈঠকে তিন তালাক বলে তা হলে পদ্ধতিগত ভাবে ভুল হলেও তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে।’
ইসলামি আইনের এত সব মারপাঁচ বোঝেন না গ্রামের দরিদ্র নিরক্ষর নারী। তিন তালাক বলার পরে সেই নারী যদি ছেলেমেয়ের হাত ধরে স্বামীর ভিটে ছেড়ে চলে না যান, তা হলে গ্রামের ইমাম-মুফতিদের আনিয়ে তাঁদের দিয়ে নিদান দেওয়ানো হয়। সচরাচর খারিজি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা এই সব ইমাম-মুফতিরাই বাংলার গ্রামে গ্রামে গরিব অশিক্ষিত মুসলমানের কাছে ইসলামের মুখ।
এ রাজ্যে তালাকপ্রাপ্ত মহিলার সংখ্যা কত? কোনও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান হাতে নেই। মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল, হরিহরপাড়া, রাণীনগর, জলঙ্গী, সালার, ইসলামপুর, ভগবানগোলা বা বেলডাঙার মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে খাদিজা বানুর অভিজ্ঞতা, ‘এক একটি গ্রামে কমপক্ষে দশ জন, সর্বাধিক ষাট জন তালাক পাওয়া মহিলার সন্ধান পেয়েছি।’ রহিমা খাতুনের কাজ হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, মালদহ, মুর্শিদাবাদ জেলায়। এই জেলাগুলোতেই তালাক পাওয়া মহিলাদের নিয়ে তাঁদের সমীক্ষা। অবস্থাটা যে ‘খুবই খারাপ’ তা স্বীকার করে নিয়েও রহিমা কোনও সংখ্যা জানাতে রাজি হননি। তবে গত সপ্তাহে ফোনে কথা শুরু হতেই জানিয়েছিলেন, ‘এই তো কাল রাতেই খবর পেলাম স্বামী মাতাল হয়ে বাড়ি ফিরে বউকে তালাক দিয়েছে। পাঁচ ছেলেমেয়েকে নিয়ে সেই বউকে বেরিয়ে যেতে হয়।’ এই রকমই চলতে থাকে। সমাজ কলঙ্কিত হচ্ছে জেনেও শিক্ষিত মুসলমান পুরুষ কোনও অজ্ঞাত কারণে সমাজের এই ক্ষতটা আড়াল করতে ব্যস্ত। এই ক্ষত সারিয়ে তোলার দায় যেন কেবলই মেয়েদের।
কেউ চাইলে আইনের শরণাপন্ন হতে পারেন। কিন্তু আদালত তাঁদের বিচার করবে মুসলিম উইমেন (প্রোটেকশন অব রাইটস অন ডিভোর্স) অ্যাক্ট ১৯৮৬-এ। ওই আইনে বিবাহবিচ্ছিন্না মহিলার স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার স্বীকৃত নয়। সেটা দেবেন মহিলার নিকট আত্মীয় বা ওয়াকফ বোর্ড। শাহবানু মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, সামর্থ্য আছে এমন মুসলমান পুরুষ তাঁর বিবাহবিচ্ছিন্না স্ত্রীকে (যিনি নিজের ভরণপোষণে সমর্থ নন) খোরপোষ দেবেন, যত দিন পর্যন্ত ওই মহিলা আবার বিয়ে না করছেন। মুসলিম নেতাদের চাপে তদানীন্তন কংগ্রেস সরকার সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়কে বানচাল করতে সংসদে মুসলিম উইমেন অ্যাক্ট পাশ করে। তালাক পাওয়া মেয়েরা আইনি সহায়তার যে আশার আলোটুকু দেখেছিল, তা-ও ধর্মীয় নেতা আর রাজনীতিকরা নিভিয়ে দেন। মুসলিম নারীর ভাগ্য পুরোপুরি চলে যায় এক শ্রেণির মোল্লা-মৌলবি-মুফতিদের হাতে। তাঁদের বক্তব্য: শরিয়ত ঐশী, তা স্পর্শ করা যাবে না। তাঁদের যুক্তি: ইসলামি আইনশাস্ত্রে বিভিন্ন মত রয়েছে, কোনটিকে অনুসরণ করা হবে? শরিয়তি আইনের সংস্কার আসলে অভিন্ন দেওয়ানি চাপিয়ে দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ।
এ সব ছেঁদো যুক্তি এমনকী পাকিস্তানও বাতিল করেছে। ‘আধুনিক, দায়বদ্ধ, কল্যাণব্রতী’ ভারতের রাষ্ট্র এটুকু সাহস দেখাতে পারবে না?

নজিরবিহীন ভাবে ফেডারেশনের সভায় ধমক খেলেন কনস্ট্যান্টাইন

ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে অভিনব ঘটনা। ফেডারেশনের কর্মসমিতির সভায় জাতীয় কোচ স্টিভন কনস্ট্যান্টাইনকে প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করলেন এআইএফএফ প্রেসিডেন্ট প্রফুল্ল পটেল।
ভারতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আই লিগ-আইএসএল মিলিয়ে দেওয়া, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা-সহ নানা বিষয় নিয়ে মিডিয়ার কাছে মন্তব্য করছিলেন স্টিভন। এ দিন সভায় সেই প্রসঙ্গ তুলে স্টিভনকে মন দিয়ে কোচিং করানোর পরামর্শ দেন ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট।
ইতিমধ্যেই আইএসএল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের খুশি করতে গিয়ে কোনও রকম প্রস্তুতি ছাড়াই তুর্কমেনিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে যাচ্ছে ভারত। তাও আবার সাধারণ কোনও টুর্নামেন্ট নয়, প্রাক্-বিশ্বকাপের ম্যাচে! এ দিন সেই প্রসঙ্গ উঠলে তা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ ব্যক্ত করেন জাতীয় কোচ কনস্ট্যান্টাইন।
সোমবার দিল্লির ফুটবল হাউসে  ফেডারেশনের কর্মসমিতির সভা শুরু থেকেই রীতিমতো উত্তপ্ত ছিল। যেখানে আইএসএলের সৌজন্যে প্রস্তুতি ছাড়া  প্রাক্-বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে যাওয়া নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা চলে। ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট বিষয়টি বিস্তারিত জানতে চাইলে স্টিভন সোজাসুজি জানিয়ে দেন, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় শিবির করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কোনও আইএসএল টিমই ফুটবলার ছাড়তে রাজি না হওয়ায় ৮ অক্টোবর প্রস্তুতি শিবির ছাড়াই তুর্কমেনিস্তানের মুখোমুখি হতে চলেছে তাঁর টিম। যা নিয়ে রীতিমতো সোচ্চার দেশের ফুটবল মহল।
ফেডারেশনের কর্মসমিতির এ দিনের সভায় প্রেসিডেন্ট প্রফুল্ল পটেল, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত দত্ত ছাড়াও হাজির ছিলেন লারসিং মিং, সচিব কুশল দাস-সহ ফেডারেশনের বাকি কর্তারাও।
আইএসএলের মাঝে টিমগুলো জাতীয় দলে ফুটবলার ছাড়তে না চাওয়ায় যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে এ দিন সে ব্যাপারে জাতীয় কোচ স্টিভনের কাছে ব্যাখ্যা চান ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট। জাতীয় কোচের ব্যাখ্যা শোনার পর ফেডারেশন একই সঙ্গে আইএসএল ক্লাবগুলোকে জাতীয় শিবিরের জন্য ফুটবলার ছাড়তে অনুরোধ করেছেন। শেষ পর্যন্ত খবর,  বেঙ্গালুরুতে গুয়াম ম্যাচের আগে আইএসএল খেলা অর্ণব মণ্ডল, সন্দেশ ঝিঙ্গনদের জাতীয় শিবিরে ডাকতে চলেছে এআইএফএফ।
একই সঙ্গে এ দিন সিদ্ধান্ত হয়েছে,  ১২ নভেম্বর প্রাক্-বিশ্বকাপের ভারত-গুয়াম ম্যাচ স্থানান্তরিত হবে বেঙ্গালুরুতে। সূত্রের খবর, প্রথমে এই ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল তিরুবনন্তপুরমে। কিন্তু আর্থিক কারণ বিবেচনা করেই ম্যাচ বেঙ্গালুরুতে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় ফেডারেশন। এই ম্যাচের আগে ১৩ অক্টোবর কনস্ট্যান্টাইনের টিমের অ্যাওয়ে ম্যাচ রয়েছে ওমানের বিরুদ্ধে।

রিয়ালে থাকতে গেলে রোনাল্ডোকে সেরা বলতে হবে, তোপ ইগুয়াইনের


নিজের ব্র্যান্ডের ফটোশ্যুটে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ইনসেটে প্রাক্তন সতীর্থ গঞ্জালো ইগুয়াইন।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নাকি অনেকটা ফানুসের মতো। নিজেকে যতটা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলে ধরেন, আসলে তিনি মোটেই ততবড় ফুটবলার নন।
অভিযোগকারী মেসির দেশের ফুটবলার। নাম গঞ্জালো ইগুয়াইন।
রোনাল্ডোর এক সময়ের টিমমেট অবশ্য এটুকুতেই থেমে থাকেননি। আরও বোমা ফাটিয়ে বলেছেন, ‘‘রোনাল্ডো অসম্ভব অহঙ্কারী। ওকে সেরা প্লেয়ার বলে তারিফ না করলে আপনি ওর বন্ধু নন। নিজেকে ও বিশ্বসেরা মনে করে। কিন্তু অত বড় প্লেয়ার ও মোটেই নয়।’’
প্রাক্তন রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার ছ’বছর বিখ্যাত স্প্যানিশ ক্লাবে খেলেছেন। খুব কাছ থেকে দেখেছেন রোনাল্ডোকে। ঠিক যেমন দেখেছেন লিওনেল মেসিকে। এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর আন্তর্জাতিক দলের মহাতারকা সতীর্থের সঙ্গে কোনও ভাবে মেলাতে পারছেন না সিআর সেভেনকে। ‘‘আমি মেসিকেও ড্রেসিংরুমে দেখেছি। কিন্তু ওর সঙ্গে রোনাল্ডোর কোনও তুলনা চলে না।’’ আর রোনাল্ডোর এই অহঙ্কারী হাবভাবই নাকি ইগুয়াইনের রিয়াল ছাড়ার অন্যতম কারণ।
আর্জেন্তিনার স্ট্রাইকারের বোমা আবার ঠিক এমন একটা সময় ফাটল যখন টানা তিন ম্যাচে গোল না পেয়ে কিছুটা হলেও চাপে পর্তুগিজ মহাতারকা। সামনে জোড়া রেকর্ড। কিন্তু গোলও আসছে না, রেকর্ড ভাঙাও হচ্ছে না। তাও কিছুটা হাল্কা মেজাজে ছিলেন হয়তো এ দিন তাঁর তথ্যচিত্রের ট্রেলার প্রকাশ হওয়ার জন্য। যেখানে দাবি করা হয়েছে রোনাল্ডোকে নিয়ে তথ্যচিত্রে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারবেন রোনাল্ডো ভক্তরা। মাঠের মহাতারকা রোনাল্ডোকে চিনলেও কী ভাবে উঠে আসলেন তিনি বিশ্বমঞ্চে, বিশ্বের জনপ্রিয়তম ফুটবলার মাঠের বাইরেই বা ঠিক কেমন মানুষ সেই অজানা সুলুকসন্ধান মিলবে তথ্যচিত্রে।
ইগুয়াইনের তুলে ধরা ইমেজটাও অবশ্য অজানাই ছিল এতদিন সিআর সেভেন ভক্তদের কাছে। তাই স্প্যানিশ পত্রিকায় গোটা ব্যাপারটা ফাঁস হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনভর তোলপাড় পড়ে যায়। কেউ লিখেছেন, ‘‘রোনাল্ডোর এই রূপটা তো জানা ছিল না।’’ তেমনই অনেকে পাল্টা বলেছেন, ‘‘ইগুয়াইন হিংসে করত রোনাল্ডোকে। তাই এ সব ভুলভাল বকছে এখন।’’
প্রতিক্রিয়াটা এতটাই মারাত্মক ছিল যে চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত ইগুয়াইনের বর্তমান ক্লাব নাপোলিকে বিবৃতি পর্যন্ত দিতে হয়। রোনাল্ডোকে নিয়ে ইগুয়াইন কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করেননি। দাবি তাদের। ‘‘নাপোলি আর ইগুয়াইন এমন কোনও সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা অস্বীকার করছে। তাই ইগুয়াইনকে নিয়ে যে সব কথা রটেছে তার কোনও ভিত্তি নেই।’’
কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামছে কোথায়! অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগেও রোনাল্ডোকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে ঝড় কম ওঠেনি। সেই তালিকায় যেমন আছেন বিতর্কিত ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার, তেমনই আছেন সুইডিশ মহাতারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও। মেসিকে ‘অসাধারণ’ বলার পাশাপাশি ইব্রা রোনাল্ডোকে বলেছিলেন শুধুই ‘ভাল’। কিন্তু এই সাদামাটা ‘ভাল’ বলটাই নাকি রোনাল্ডোর সমালোচনার সমতুল। এ ভাবে কাউকে ভাল বলেও যে সমালোচিত হওয়া যায় সেটার অভিজ্ঞতা ভালমতোই টের পেয়েছিলেন ইব্রা। আর ব্লাটার বলেছিলেন, ‘‘দু’জনেই অসাধারণ প্লেয়ার, কিন্তু আলাদা ধরনের। প্রত্যেক বাবা-মা মেসির মতো সন্তান চাইবে। কিন্তু রোনাল্ডো মাঠে সর্বাধিনায়কের মতো হলেও ওর চুলের পরিচর্যার পিছনে খরচটা বড্ড বেশি হয়ে যায়।’’

এ বার মঙ্গলে প্রবহমান জলের সন্ধান পেল নাসা

মঙ্গল গ্রহে এ বার জলের হদিস পেল নাসা। কঠিন বরফের আকারে নয়, একেবারে তরল এবং প্রবহমান অবস্থায়।
দীর্ঘ দিনের চেষ্টায় যুগান্তকারী এই আবিষ্কার সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে জানায় নাসা। এর আগে মঙ্গলে বরফের সন্ধান পেয়েছিল তারা। কিন্তু জল থাকার কথা জানা ছিল না এত দিন। কয়েক জন বিজ্ঞানীর একটি দল গবেষণার পর জানান, নাসার উপরিতলে বরফের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জলও রয়েছে। তাতে অবশ্য প্রথমটা হকচকিয়েই যান তাঁরা। -১২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কী ভাবে জল তরল রূপে থাকতে পারে! বিজ্ঞানীদের দাবি, এর কারণ মঙ্গলে অত্যধিক মাত্রায় লবণের উপস্থিতি। যা জলকে কঠিন হতে বাধা দিচ্ছে। তবে জলের চেয়ে বরফের পরিমাণ যে ঢের বেশি, তা-ও জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে জলের উৎস সম্বন্ধে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। বেশ কয়েকটি সম্ভাবনার কথা তাঁরা জানিয়েছেন। প্রথমত, উপরিতলের বরফ গলে জলে পরিণত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, তাঁদের ধারণা, পৃষ্ঠদেশে নুনের আধিক্য রয়েছে। নুন উদগ্রাহী। বায়ুমণ্ডল থেকে জল গ্রহণ করতে পারে। অথবা জলধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন কোনও পাথর থেকেও জল বের হতে পারে।
চলতি বছরের এপ্রিলেই অবশ্য নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, মঙ্গলের উপরিতলের নুন অত্যধিক জল শোষণ করে। যার ফলে রাতে ছোট ছোট জলাশয়ও তৈরি হয়।
যুগান্তকারী এই আবিষ্কারে ফের পুরনো প্রশ্নটাই নতুন করে সামনে উঠে এল। মঙ্গলে কি কখনও প্রাণ ছিল? বা এখনও আছে?