Showing posts with label bengali. Show all posts
Showing posts with label bengali. Show all posts

Tuesday, December 22, 2015

ফ্যালকন-৯ রকেটের সফল উৎক্ষেপণ

পরীক্ষামূলক ভাবে আরও এক বার সফল উৎক্ষেপণ হল ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটের।
সোমবার রাতে মার্কিন মুলুকের ফ্লোরিডায় রকেটটির সফল উৎক্ষেপণ হয়েছে। কেপ কানাভেরালে উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে দশ কিলোমিটার দূরে রকেটটি নেমে আসে নিখুঁত ভাবে।
বেসরকারি মার্কিন সংস্থা ‘স্পেস এক্স’-এর বানানো ওই রকেটটি কিছু দিনের মধ্যেই মহাকাশচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় মালপত্র নিয়ে যাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে।

চাঁদের পাতালে আমাদের ঘর-বাড়ি তৈরি শুরু!

একটু সবুর করুন। আর বড়জোর কুড়ি/পঁচিশটা বছর।
আমাদের ‘নতুন বাড়ি’ হয়ে যাবে চাঁদে! আমি-আপনি পেয়ে যাব দু’বিঘা জমিনও!
তখন কে বলবে, চাঁদ- ঝলসানো রুটি?
একটা সভ্যতার জন্য যা যা লাগে, সেই কাস্তে আর হাতুড়ির ঠুকঠাক খুব শিগগিরই শুরু হয়ে যাবে চাঁদে। জোর কদমে।

উপনিবেশ গড়ার প্রস্তুতি চাঁদে। ছবি সৌজন্যে- ‘রসকসমস’।
আমার-আপনার পাকাপাকি ভাবে থাকার জন্য চাঁদে জমি-জিরেত দেখতে যাচ্ছে চিন। যাচ্ছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ বা ‘এসা’) ও রাশিয়ান ফেডেরাল স্পেস এজেন্সি বা ‘রসকসমস’)-ও। আগামী বছরেই।
ঘটনাচক্রে আমাদের এই বাসযোগ্য গ্রহের একমাত্র চাঁদে মানবসভ্যতার দ্বিতীয় উপনিবেশ গড়ে তোলার স্বপ্নটা প্রথম দেখেছিলেন ভারতের প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বিজ্ঞানী এপিজে আব্দুল কালাম। তিনি চেয়েছিলেন, প্রাথমিক ভাবে অন্য অন্য গ্রহে যাওয়ার জন্য চাঁদকেই করে তোলা হোক ‘স্পেস ট্রান্সপোর্টেশান হাব’। চাঁদের পিঠে জমা শুকনো বরফ তুলে নিয়ে এসে বানানো হোক মহাকাশযান পাঠানোর রকেটের জ্বালানি (‘দ্য সায়েন্টিফিক ইন্ডিয়ান’, পৃঃ৩৫)।
প্রয়াত কালামের সেই স্বপ্ন হয়তো এ বার সত্যি হতে চলেছে।
তবে বাধাও কিছু কম নেই। মহাকাশবিজ্ঞানীদের যাবতীয় দুশ্চিন্তা চাঁদের পিঠের তাপমাত্রা, সৌর-বিকিরণ আর চাঁদের দীর্ঘমেয়াদি রাতের হাড়-জমানো ঠাণ্ডা নিয়ে।
দিনের ওই ঝলসে যাওয়া তাপ আর নিকষ কালো রাতের ওই কনকনে ঠাণ্ডার হাত থেকে কী ভাবে টিঁকিয়ে রাখা যাবে সভ্যতার দ্বিতীয় উপনিবেশকে?
মার্কিন মুলুকে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশ-প্রযুক্তিবিদ হিল্লোল গুপ্ত ও জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টার ডিএলআরের স্পেসক্র্যাফ্ট অপারেশনস ইঞ্জিনিয়ার সুদর্শন সুন্দরাজন ই-মেলে জানিয়েছেন, ‘‘চাঁদে সভ্যতার দ্বিতীয় উপনিবেশ গড়ে তোলার প্রস্তুতি-তোড়জোড় চলছে অনেক দিন ধরেই। ’৯৯ সালে শুরু হয়েছিল চাঁদকে ঘাঁটি বানিয়ে মহাকাশের বিভিন্ন রুটে চষে বেড়ানোর প্রস্তুতি। যার নাম- ‘মুনবেস-আলফা ইন স্পেস’। এখন চলছে চাঁদের মাটি খুঁড়ে তার অভ্যন্তরে সভ্যতার দ্বিতীয় উপনিবেশ গড়ে তোলার কাজ। ‘আন্ডারগ্রাউন্ড কলোনি’। এটা কোনও কল্প-বিজ্ঞান নয়। আর কুড়ি-পঁচিশ বছরের মধ্যেই তা অনেকটা সম্ভব হবে।’’
মানে, প্র্ত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোর সভ্যতার হদিশ মিলেছিল যে ভাবে ভূ-পৃষ্ঠের অনেকটা নীচে, চাঁদে  সভ্যতার দ্বিতীয় উপনিবেশকে গড়ে তোলা হবে তার ঠিক উল্টো ভাবে।  মানে, সাব-ওয়ের মতো চাঁদে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড কলোনি’ গড়ে তোলার প্রস্তুতি-তোড়জোড় চলছে জোর কদমে।
সভ্যতার দ্বিতীয় উপনিবেশ গড়ে তোলার জন্য কেন চাঁদকেই দেওয়া হচ্ছে অগ্রাধিকার?
কাটছি মাটি, দেখবি আয়...!!! চাঁদে। ছবি-ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি।
হিল্লোলবাবু জানাচ্ছেন, ‘‘প্রথম কারণ, চাঁদই আমাদের সবচেয়ে কাছের কোনও মহাজাগতিক বস্তু। পৃথিবী থেকে যার দূরত্ব মাত্র দু’লক্ষ আটত্রিশ হাজার মাইল বা তিন লক্ষ তিরাশি হাজার কিলোমিটার। একেবারে হাতের কাছে থাকার ফলে চাঁদে যাওয়া-আসাটা প্রায় রোজ ধর্মতলা ছুঁয়ে আসার মতো। আর ধর্মতলা থেকে দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ যাওয়ার যে প্রচুর সুবিধা, তেমনই চাঁদকে ‘স্পেস ট্রান্সপোর্টেশান হাব’ বানানো হলে ভিন গ্রহের সন্ধানের কাজটা সহজতর হয়ে যায়। দ্বিতীয় কারণ, চাঁদে ‘হিলিয়াম-তিন’ গ্যাসের অভাব নেই। তাই সেখানে রাতেও একটা আস্ত ‘কলোনি’-কে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যে সুপ্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন, তার চাহিদা মেটাতে ফিউশন রিঅ্যাক্টর চালাতে হলে ওই ‘হিলিয়াম-তিন’ গ্যাস তার জ্বালানির কাজ করবে।’’
তবে চাঁদে আমাদের দ্বিতীয় উপনিবেশ গড়ে তোলার প্রধান অন্তরায়টা হল তার দীর্ঘমেয়াদি রাত। চাঁদের এক-একটা রাত হয় ৩৫৪ ঘণ্টার। মানে, পৃথিবীর দু’ সপ্তাহের সামান্য বেশি। আর চাঁদের সেই রাত মানে হাড়-জমানো ঠাণ্ডা। শূন্যের নীচে ১৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চাঁদের দিনটাও একেবারে ঝলসে যায় সূর্যের গনগনে আঁচে। চাঁদের বিষুবরেখা বা ইকোয়েটারে স্বাভাবিক অবস্থায় তাপমাত্রা থাকে ১১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ২৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। মানে, আফ্রিকার প্রচণ্ড গরমের দেশগুলির চেয়েও দিনে চাঁদের পিঠ প্রায় চার/সাড়ে চার গুণ বেশি তেতে থাকে।
দেখুন অবাক করা গ্যালারি  
দেখুন, কেমন হচ্ছে চাঁদের কলোনি
মানবসভ্যতার ‘সুখের শরীর’ এত তাত কী ভাবে সহ্য করে, বলুন তো?
তাই চিন, ‘এসা’ আর ‘রসকসমস’ প্রাথমিক ভাবে ঠিক করেছে, সভ্যতার দ্বিতীয় উপনিবেশটা গড়ে তোলার জন্য চাঁদের দুই মেরুই হবে ‘প্রায়োরিটি এরিয়া’।
কেন? তাতে কী লাভটা হবে চাঁদ-মুলুকে আমাদের দ্বিতীয় উপনিবেশের?
কাটছি মাটি, দেখবি আয়...চাঁদে। ছবি-‘রসকসমস’।
জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টার ডিএলআরের স্পেসক্র্যাফ্ট অপারেশনস ইঞ্জিনিয়ার সুদর্শন সুন্দরাজন ই-মেলে জানিয়েছেন, ‘‘চাঁদের মেরুতে রাতটা অতটা দীর্ঘমেয়াদী নয়। ফলে, ওই এলাকায় দ্বিতীয় উপনিবেশের জন্য জমি খোঁজাটাই বেশি জরুরি। কারণ, তাতে সভ্যতাকে হাড়-জমানো ঠাণ্ডায় জমে বরফ হয়ে যেতে হবে না। আবার মেরুতে রাতটা তুলনামূলক ভাবে কম সময়ের হবে বলে সেই রাতের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চাঁদ থেকে নেওয়া জ্বালানি ‘হিলিয়াম-তিন’ গ্যাস বেশি খরচও হবে না। এমনকী, চাঁদের মেরুতে দিনটাও অত তেতে থাকে না। কারণ, চাঁদের দুই মেরুতে সূর্যটা সব সময়েই থাকে তার দিগন্তে। তার চেয়ে বেশি ওপরে ওঠে না। মাথার ওপরে ওঠার তো কোনও কথাই নেই! চাঁদের মেরুতে দিনে সূর্যের খবরদারি ততটা থাকে না বলেই তা সভ্যতার দ্বিতীয় উপনিবেশের পক্ষে সহনীয় হবে। তবে সেখান থেকে সৌরশক্তি টানার জন্য ‘সোলার প্যানেল’গুলোকে চাঁদের দুই মেরুতে বসানো হবে কোণাকুণি ভাবে।’’
কিন্তু, চাঁদে সভ্যতার সেই ‘কলোনি’ কেন হবে আন্ডারগ্রাউন্ড’?
মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশ-প্রযুক্তিবিদ হিল্লোল গুপ্তের ব্যাখ্যা, ‘‘তা না হলে সৌর-বিকিরণের ঝাপটায় নিকেশ হয় যাবে সভ্যতা। চাঁদে কোনও বায়ুমণ্ডল নেই বলে সূর্যের তাপে ঝলসে যাব আমরা। তাই হাইড্রোলিক এক্সক্যাভেটার বা ‘রোবট’ দিয়ে চাঁদের পিঠ খুঁড়ে তার নীচের স্তরে বা চাঁদের অভ্যন্তরেই বানাতে হবে সেই উপনিবেশ। যা সূর্যের গনগনে তাপ আর সৌর-বিকিরঁণের হাত থেকেও ওই উপনিবেশকে বাঁচাবে।’’
তাই আর কয়েকটা দিন পরে চাঁদে জমি, বাড়ি কেনার বিজ্ঞাপন ইন্টারনেটে দেওয়া হলে, প্লিজ, তাকে ‘টিজার’ ভাববেন না!!!

চিনের মোকাবিলায় এ বার মার্কিন ড্রোন কিনছে ভারত

প্রতিবেশী চিনের বিরুদ্ধে এ বার ভারতের অবস্থান হতে চলেছে ‘ইটের বদলে পাটকেল’!
আকসাই চিন আর অরুণাচল প্রদেশে কারণে-অকারণে প্রায়শই ঢুকে পড়ে ‘লাল ফৌজ’। তা ঠেকাতে আমেরিকার কাছ থেকে এ বার কম করে একশোটি সর্বাধুনিক ‘ড্রোন’ কিনতে চলেছে ভারত। তার কয়েকটি নজরদারি। ওই মার্কিন ‘ড্রোন’গুলির নাম- ‘প্রেডেটার-এক্সপি’ বা ‘রিমোটলি পাইলটেড এয়ারক্র্যাফ্ট’ (আরপিএ)। বাকিগুলি একেবারেই যুদ্ধের জন্য। যার নাম-‘অ্যাভেঞ্জার’। আমেরিকার কাছ থেকে ওই সর্বাধুনিক ‘ড্রোন’গুলি কেনার জন্য ভারতের খরচ হচ্ছে দু’শো কোটি মার্কিন ডলার।
ইতালির বাধায় ভারত এখনও ‘মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম’-এর সদস্য হতে না পারায় ভারতকে সর্বাধুনিক ওই মার্কিন ‘ড্রোন’গুলির হস্তান্তরে কিছুটা দেরি হতে পারে বলে কূটনীতিকরা মনে করছেন।
যদিও ভারত ও আমেরিকা-দুই দেশেরই প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ভারতের হাতে ওই সর্বাধুনিক মার্কিন ‘ড্রোন’গুলি পৌঁছে যাবে।

Monday, December 21, 2015

রাজপুত্রকে থুতু আর্জেন্তিনা সমর্থকের

বিশ্বের দু’প্রান্তে দুটো ঘটনা। আর তাতে স্তম্ভিত ফুটবল দুনিয়া।
একটা যদি ফুটবল প্রশাসনকে নড়িয়ে দেয়, অন্যটা তবে হতবাক করে দিয়েছে ফুটবল প্রেমীদের। জোসেফ ব্লাটার এবং মিশেল প্লাতিনির কলঙ্কময় অপসারণের কয়েক ঘণ্টা আগে চরম অপমানিত হতে হল ফুটবলের রাজপুত্রকে। লিওনেল মেসির গায়ে থুতু ছেটালেন আর্জেন্তাইন ফুটবল ভক্ত। মেসির অপরাধ, বিশ্ব ক্লাব ফুটবলের ফাইনালে আর্জেন্তিনার রিভারপ্লেটের বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন তিনি।
টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরের পাসপোর্ট কন্ট্রোলের সামনে দিয়ে যখন হেঁটে আসছেন মেসি, তখনও বুঝতে পারেননি কী ঘটতে চলেছে। হঠাৎ তাঁকে ঘিরে ধরে কয়েক জন রিভারপ্লেট সমর্থক। তর্কাতর্কির মধ্যেই থুতু ছেটানো হয় মেসির গায়ে। হঠাৎ এই ঘটনায় হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন মেসি। তার পরই রীতিমতো উত্তেজিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যান সমর্থকদের দিকে। ঘটনা প্রায় হাতাহাতির দিকে গড়াচ্ছিল, যখন মাসচেরানো, সুয়ারেজ, এনরিকেরা এসে মেসিকে সামলান। কোনও কোনও সূত্রে এমনও দাবি করা হয়েছে যে, মেসি নাকি ঘুষি মারেন ওই সমর্থককে। এর পর নিরাপত্তারক্ষীরা এসে সরিয়ে নিয়ে যান মেসি-সহ বার্সেলোনার ফুটবলারদের। পরে অবশ্য রিভারপ্লেটের প্রেসিডেন্ট সমর্থকদের হয়ে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে বিবৃতি দেন। কিন্তু ততক্ষণে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। 
ফুটবল দুনিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও যে ব্যাপারটা নিয়ে ঝড় উঠেছে, তা হল, মেসিকে এ ভাবে অপমানিত হতে হল কি না আর্জেন্তিনাবাসীর কাছেই। তা সে যতই রিভারপ্লেটের ফ্যান হোক না কেন। এর আগেও দেশ বনাম ক্লাব বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন মেসি। মারাদোনার মতো কিংবদন্তিও বলেছিলেন, মেসি দেশের হয়ে খেলতে ততটা উৎসাহ বোধ করেন না। মাঝে এও শোনা যাচ্ছিল, মেসি নাকি অভিমানে দেশের জার্সি বেশ কিছু দিন গায়ে তুলতে নাও পারেন।
কিন্তু আর্জেন্তিনা মাঠে নামলে মেসি দূরে সরে থাকতে পারেননি। সোমবারের ঘটনা এ বার তাঁকে কী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, সেটাই দেখার। 

জেলবন্দি তিন রাত, ভারতীয় ছাত্রদের হেনস্থা আমেরিকায়

ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ভারতীয় ছাত্রের দু’টি দল পাড়ি দিয়েছিল আমেরিকায়। কিন্তু শেষমেশ মার্কিন মুলুকে জেলে রাত কাটাতে হল এক দল ছাত্রকে। আর এক দলকে শুধু জেরা করেই ছেড়ে দেয় এফবিআই। আরও ১৯ জন ছাত্রের একটি দলকে ভিসা থাকা সত্ত্বেও হায়দরাবাদ বিমানবন্দর থেকে বিমানে ওঠার ছাড়পত্র না দেওয়ার অভিযোগ উঠল এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
এই তিন দল ছাত্রের মধ্যে মিল একটাই। সান হোসের সিলিকন ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয় আর ফ্রেমন্টের নর্থ ওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক কলেজে পড়তে যাচ্ছিলেন ওঁরা। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্প্রতি কালো তালিকাভুক্ত করেছে মার্কিন প্রশাসন। ভারতীয় ছাত্রের তিনটি দলই সে খবর জানত না। ফলে যে দু’টি দল আমেরিকায় পৌঁছয় তাদের চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হয়। অন্য দলটিকে যাওয়ার আগেই আটকান এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ।
আমেরিকা থেকে আজই এক দলকে দিল্লি নিয়ে আসা হয়েছে। ওই ছাত্রদের অভিযোগ, টানা তিন দিন একটা সেলে তাঁদের আটকে রাখে এফবিআই গোয়েন্দারা। অন্য একটা দলও ভারতে পৌঁছে জানিয়েছেন, জেলে না ঢোকালেও সেখানে প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এফবিআই। ১৪ জনের ওই দলেই ছিলেন দীপক নামের এক ছাত্র। তিনি বলেছেন, ‘‘খুবই অপমানজনক অভিজ্ঞতা।’’ আমেরিকা থেকে ফেরার সময়েই তাঁদের পাসপোর্টে ‘বাতিল’ লিখে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ জানান, এই দুই দলকে দেখেই বাকি ১৯ জন ছাত্রকে হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে আটকানো হয়। তাঁদের বক্তব্য, অন্য ছাত্রদেরও যাতে অসুবিধেয় পড়তে না হয় তাই তাঁরা সাবধান হচ্ছেন। এই দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার স্টুডেন্ট ভিসা থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদের বোর্ডিং পাস দেননি। মার্কিন শুল্ক, অভিবাসন এবং সীমান্ত রক্ষা সংক্রান্ত দফতরের নির্দেশেই এয়ার ইন্ডিয়ার এই পদক্ষেপ বলেও জানান কর্তৃপক্ষ। যদিও একটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, তারা আদৌ কালো তালিকাভুক্ত হয়নি। এটা ‘মিথ্যে রটনা’।

Sunday, December 20, 2015

প্রথম ম্যাচে হয়তো নেই সনি

আই লিগ শুরুতেই বড় ধাক্কার সম্ভাবনা মোহনবাগানে। গত বারের চ্যাম্পিয়ন বাগানের প্রথম ম্যাচ ৯ জানুয়ারি, আইজল এফ সির সঙ্গে। যা পরিস্থিতি তাতে ওই ম্যাচে হয়তো সঞ্জয় সেন পাবেন না সনি নর্ডি এবং আভাস্কাকে। ৮ জানুয়ারি কোপা আমেরিকার সেন্টেনারিও টুর্নামেন্টের কোয়ালিফাইং প্লে অফ খেলবে হাইতি। সেই দলে ডাক পেয়েছেন ওই দুই ফুটবলার। তাদের বিপক্ষে খেলবে ত্রিনিদাদ টোবাগো। দেশের হয়ে খেলতে আই লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে খেলা হবে না দু’জনেরই। বাগান কোচ সঞ্জয় বলছেন, ‘‘সনি বা আভাস্কার না থাকাটা সমস্যারই। কিন্তু কিছু করার নেই। ওদের ছাড়াই সে ক্ষেত্রে আমাদের খেলতে হবে।’’ এ দিকে কর্নেল গ্লেন আস্তে আস্তে ফিট হয়ে উঠছেন। বাড়তি মেদ আগের চেয়ে অনেকটাই ঝরিয়ে ফেলেছেন তিনি। এ দিন বরাহনগর স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচে গোলও পান গ্লেন। ৫-০ জেতে মোহনবাগান। গ্লেন ছাড়াও গোল করেছেন কাতসুমি, পঙ্কজ মৌলা (২) এবং প্রবীর দাস।

বিতর্কে জার্মানি

২০০৬ বিশ্বকাপের জন্য ভোট পেতে কলঙ্কিত প্রাক্তন ফিফা ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাক ওয়ার্নারকে ঘুষ দেয় জার্মানি। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এক প্রথম সারির জার্মান পত্রিকার। যাদের দাবি, ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগোর ওই কর্তাকে টাকায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার ডলার দেওয়া ছাড়াও, বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি ১ হাজার টিকিট এবং ক্যারিবিয়ান ফুটবলের জন্য চল্লিশ লক্ষ ডলার মূল্যের সরঞ্জামের প্রতিশ্রুতি-সহ চুক্তি করেছিল জার্মান ফুটবল সংস্থা। যা কার্যত মেনে নিয়ে জার্মান ফুটবল কর্তারা দাবি করেছেন, ওটা স্রেফ খসড়া হয়েছিল, পাকা কিছু নয়। ঘুষ-কাণ্ডে বায়ার্ন মিউনিখ ক্লাব ও ক্লাব প্রেসিডেন্ট ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারও যুক্ত ছিলেন বলেও দাবি পত্রিকার।

‘নক আউট’ সিংহের হ্যাটট্রিক

পেশাদার বক্সিংয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক করলেন বিজেন্দ্র সিংহ। সনি উইটিং ও ডেভিড গিলেনের পরে এ বার  বুলগেরিয়ার সামেত হিউসেনভকে ‘নক আউট’ করলেন বিজেন্দ্র। তাও আবার বাউট শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে।
কিছু দিন আগের থেকেই এই  প্রতিদ্বন্দ্বীতার রেশ আগাম ছড়িয়ে পরে।  বিজেন্দ্রকে কটাক্ষ করে হিউসেনভ বলেছিলেন, ‘‘বিজেন্দ্র তো নাটক করে। ওকে আমি ভয় পাইনা। ভয় পেলে বক্সার হতাম না। বিজেন্দ্র সমর্থকদের আগাম বলতে চাই ওকে হারাব আমি।’’ যার উত্তরে বিজেন্দ্রও বলেছিলেন, ‘‘এর জবাবে কিছুই বলার নেই। শুধু হাসছি। ও যা ইচ্ছে বলুক। কিন্তু আমি রিংয়েই উত্তরটা দেব। ও যদি অভিজ্ঞ হয়, আমিও অলিম্পিকে পদক জিতেছি।’’ 
এ দিন শুরুর থেকেই আক্রমণের রাস্তায় যান বিজেন্দ্র। প্রথম রাউন্ডে কোনও ভাবে টিকে থাকেন হিউসেনভ। দ্বিতীয় রাউন্ডে রেফারি বাউট বন্ধ করে দেন। পরপর দু’তিনটে ঘুসি মারার পরেই রেফারি লড়াই থামিয়ে বিজেন্দ্রকে জয়ী ঘোষণা করেন।

বায়ার্নে আন্সেলোত্তি

মরসুম শেষে বায়ার্ন মিউনিখ ছাড়ছেন পেপ গুয়ার্দিওলা। নতুন মরসুমে বায়ার্নের দায়িত্ব নেবেন কার্লো আন্সেলোত্তি। ক্লাব চেয়ারম্যান কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগে এ দিন নতুন কোচ হিসাবে আন্সেলোত্তির নাম ঘোষণা করে বলেছেন, ‘‘তিন বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। অসম্ভব ঠান্ডা মাথার পেশাদার। তারকাদের সামলাতে পারেন এবং ফুটবলের বিভিন্ন স্টাইলে স্বচ্ছন্দ। এমনই একজনকে খুঁজছিলাম আমরা।’’ পরিবারের সঙ্গে ক্রিসমাস কাটাতে গুয়ার্দিওলা এখন স্পেনে। শোনা যাচ্ছে নতুন মরসুমে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির দায়িত্ব নেবেন তিনি।

দলের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হিউম

অ্যাটলেটিকো কলকাতা দলে নাকি নৈতিকতার অভাব? না প্রতিপক্ষ দলের কেউ এই মন্তব্য করেননি। এই মন্তব্য স্বয়ং দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ইয়ান হিউমের। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে কোচ হাবাসের ব্যাবহার, মাঠে ঝামেলা এই সবই তাঁকে হতাশ করেছে। এই সব ঘটনাগুলো দলের কোনও কাজে লাগেনি বলেই তিনি মনে করেন। শেষ ম্যাচেও দূরন্ত গোল করেছেন তবুও দল চেন্নাইয়ের কাছে হেরে গিয়েছে।  তাঁর মতে, দলের মধ্যে এই নৈতিকতার অভাবই দলকে সমস্যায় ফেলেছে।
নিজের দলের সমালোচনা করলেও চেন্নাই গোলকিপার এডেল বেটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হিউম। বলেন, ‘‘এই ম্যাচে আইএসএল-এর দুই সেরা গোলকিপার মুখোমুখি হয়েছিল। একজন সেরা বিদেশি গোলকিপার বেটে ও একজন সেরা স্বদেশি গোলকিপার অমরিন্দর।’’ বেটের প্রশংসা করে হিউম বলেন, ‘‘চেন্নাইয়ের কাছে আইএসএল-এর সেরা গোলকিপার ছিল। ও যে শটগুলো বাঁচিয়ে দেয় সেটা বিশ্বাস করা যায় না।ও গত আইএসএল-এর ফাইনালে অ্যাটলেটিকোর হয়ে একইভাবে খেলেছিল। আর এবার চেন্নাইয়ের হয়ে খেলল।’’
দুটো হ্যাটট্রিকসহ টুর্নামেন্টে ১১ গোল করা হিউম আগামী মরশুমেও কলকাতা দলে থাকবেন কি না সেটা নিয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলতে চাননি। তবে কলকাতা যদি আবার ডাকে তাহলে ভেবে দেখবেন বলেও জানিয়েছেন। বলেন, ‘‘আমি এখনও জানি না। তবে, মরশুমটা আমার ভাল গিয়েছে। আমি এখানে খেলা খুব উপভোগ করেছি।যদি অ্যাটলেটিকো  আমাকে আবার দলে চায় তাহলে অবশ্যই ভেবে দেখব।’’

গোয়াকে হারিয়ে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই

দ্বিতীয় আইএসএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই। কাট্টিমনির পেনাল্টি সেভও বাঁচাতে পারল না গোয়াকে। নিজের গোলে বল ঢুকিয়ে ভিলেন হয়ে গেলেন, হতে পারতেন হিরো। ঘরের মাঠে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ফাইনালে চেন্নাইর কাছে ৩-২ গোলে হেরে রানার্স হয়েই থামতে হল জিকোর দলকে। ম্যাচের শুরুতেই মাথায় চোট পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছে গেলেন ডুডু ওমাগবেমি। গোয়ার জন্য এটা ছিল বড় ধাক্কা।
প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ভাবেই। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্রুনো পালেসারির পেনাল্টি বাঁচিয়ে দিলেও ফিরতি শটে গোল করে যান পালেসেরি। তার চার মিনিটের মধ্যেই গোয়াকে সমতায় ফেরান হাওকিপ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের শুরু এখান থেকেই। ৬২ মিনিটে আবারও পেনাল্টি আদায় করে নেন চেন্নাইয়ের মেন্ডোজা। কিন্তু তাঁর দুর্বল শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে সহজেই বাঁচিয়ে দেন কাট্টিমনি।
পালেসেরির জায়গায় এলানোকে নামিয়ে গোয়াকে আরও চাপে ফেলে দেন মাতেরাজ্জি। একাধিকবার গোয়ার রক্ষণকে বিপদে ফেলে দেন তিনি। ঠিক যখন মনে হচ্ছে ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে ঠিক তখনই জোফ্রের গোল। জোফ্রের ফ্রিকিক বাক খেয়ে এলানোর গায়ে লেগে চলে যায় গোলে। কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার উচ্ছ্বাস থামার আগেই নিজের গোলেই বল ঢুকিয়ে দেন পেনাল্টি সেভ করা কাট্টিমনি। যদিও গোল লেখা হয় মেন্ডোজার নামেই। রক্ষণের ভুলের অনেক খেসারত দিতে হল গোয়াকে। সঙ্গে ডুডুর বেড়িয়ে যাওয়া। 

বিবিসি বিস্ফোরণে দশ গোল

বার্সেলোনার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিন লা লিগা দেখল বিধ্বংসী রিয়াল মাদ্রিদকে। বেল-বেঞ্জিমা-ক্রিশ্চিয়ানো ঝড়ের সামনে উড়ে গেল দুর্বল রায়ো ভায়েকানো। রিয়াল জিতল ১০-২ গোলে। বেল চারটে, বেঞ্জিমা তিন এবং রোনাল্ডো করলেন দুটো গোল।
বারো মিনিট পর্যন্ত অবশ্য ১-২ পিছিয়ে ছিল রিয়াল। তার পর বিবিসি বিস্ফোরণ।   
দানিলোর গোলে রিয়াল ১-০ এগোলেও, বারো মিনিটের মধ্যে ২-১ করে রায়ো। তখনও নিস্তব্ধ সান্তিয়াগো বের্নাবাওয়ের গ্যালারি। যে সময় একটা ভুল করে ফেলেন রায়োর টিটো। লাল কার্ড দেখেন। আর তাতেই রিয়াল ম্যাচটাকে একটা ট্রেনিং খেলায় পরিণত করে। ২-২ করেন গ্যারেথ বেল। যার কিছুক্ষণের মধ্যেই পেনাল্টি পায় রিয়াল। গোল করেন রোনাল্ডো। ট্যাকল করে বায়েনা লাল কার্ড দেখায় রায়োকে ন’জনে খেলতে হয়। তার সুযোগ নিয়ে বেল ৪-২ করেন। বিরতির পরেও গোল-উত্সব চলতে থাকে। বেইরুট সন্ত্রাসের শিকার, রোনাল্ডো ভক্ত ছোট্ট হায়দারের কাছেও হয়তো এই দিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

যে সব গ্রহে প্রাণ খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

আমাদের এই সৌরমণ্ডলের বাইরে খুব কম করে হলেও, হাজার দু’য়েক ভিন গ্রহ এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়েছে। ব্র্হ্মাণ্ডের অন্য কোথাও প্রাণের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা খুঁজতে গিয়েই এই ভিন গ্রহগুলির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তবে সব ভিন গ্রহেই প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। যে গ্রহগুলি তাদের তারাদের খুব কাছে রয়েছে, প্রচণ্ড তাপমাত্রার জন্য সেই সব গ্রহে প্রাণের টিঁকে থাকা কার্যত, অসম্ভবই। সেই সব গ্রহেই প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব, যেগুলি সেই তারাদের চেয়ে কিছুটা দূরে রয়েছে, যাকে বলে ‘হ্যাবিটেব্‌ল জোল’। সেই জোনে থাকা কয়েকটি গ্রহের ছবি নিয়েই এই অ্যালবাম।

Friday, December 18, 2015

সৈন্য সংখ্যায় আমেরিকা-রাশিয়ার থেকে এগিয়ে ভারত

বিশ্বের চতুর্থ শক্তিশালী সেনাবাহিনী হিসেবে ফের উঠে এল ভারতীয় সেনাবাহিনীর নাম। আমেরিকা, রাশিয়া আর চিনের পরই ভারত। সৈন্যদলের আকারের নিরিখে অবশ্য ইতিমধ্যেই আমেরিকা এবং রাশিয়াকে ভারত ছাপিয়ে গিয়েছে। সেই হিসেবে গোটা পৃথিবীতে ভারতের চেয়ে এখন এগিয়ে শুধুমাত্র চিন।
সৈন্যসংখ্যার বিচারে পাকিস্তান পঞ্চম স্থানে থাকলেও সেনাবাহিনীর অন্যান্য দক্ষতার বিচারে পিছিয়ে থাকায় শক্তিশালী সেনাবাহিনীর তালিকায় প্রথম দশেও ঠাঁই হয়নি সে দেশের।
সাম্প্রতিকতম সমীক্ষা বলছে, পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিধর ১০টি দেশের তালিকায় প্রথম স্থানে অবশ্যই আমেরিকা। দ্বিতীয় রাশিয়া, তৃতীয় চিন এবং চতুর্থ ভারত। প্রথম পাঁচে থাকা অপর দেশ হল ব্রিটেন। এর পর যথাক্রমে রয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানি। তবে অষ্টম, নবম ও দশম স্থানে রাখা হয়েছে তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানকে। তবে, প্রথম দশে থাকা দেশগুলির মধ্যে চিন, ভারত, আমেরিকা ও রাশিয়া কিন্তু সৈন্যসংখ্যার বিচারে অন্য ছ’টি দেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এই নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে চিন। সে দেশের সেনাবাহিনীতে যোদ্ধার সংখ্যা ২২ লক্ষ ৮৫ হাজার। এ ছাড়াও আধাসামরিক বাহিনীতে রয়েছেন প্রায় ২৩ লক্ষ কর্মী। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ৪৬ লক্ষের কাছাকাছি। ভারতের সেনাবাহিনীতে এই মুহূর্তে কর্মীর সংখ্যা ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার। সঙ্গে আধাসামরিক বাহিনীতে রয়েছেন আরও প্রায় ২২ লক্ষ। সব মিলিয়ে ৩৫ লক্ষের মতো। রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক ফৌজ মিলিয়ে মোট সৈন্যসংখ্যা ৩২ লক্ষের কিছু বেশি। আর আমেরিকার সেনাবাহিনীতে এখন কর্মীর সংখ্যা ১৪ লক্ষের মতো। আধাসামরিক বাহিনী বা রিজার্ভ ফোর্সে রয়েছে আরও প্রায় ৮ লক্ষ। মোট ২২ লক্ষ। ভারতের চেয়ে এই হিসেবে রাশিয়া সামান্য পিছিয়ে। বেশ খানিকটা পিছিয়ে আমেরিকা।
তবে শুধু সৈন্যসংখ্যা দিয়ে সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি বিচার করেন না প্রতিরক্ষা বিশারদরা। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কতটা জোরদার, পেশাদারিত্বের মাপকাঠিতে বাহিনী কতটা এগিয়ে, কতটা আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র এবং সরঞ্জাম ব্যবহার করে একটি দেশের সেনা, যুদ্ধ বা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য কতটা পেয়েছে বাহিনী, এই সব নানা মাপকাঠি মাথায় রেখেই সমীক্ষক সংস্থা শক্তিশালী সেনাবাহিনীর র‌্যাঙ্কিং নির্ধারণ করে। ট্যাঙ্কের সংখ্যায় পৃথিবীর সব দেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকায় রাশিয়া শক্তিধরের তালিকায় ভারত আর চিনকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আর অত্যাধুনিক যুদ্ধ কৌশলে ব্যবহারে সবচেয়ে দক্ষ হওয়ায় মার্কিন বাহিনী সবার আগে স্থান পেয়েছে। তার পরেই চিন ও ভারতের জায়গা। কিন্তু অত্যাধুনিক যুদ্ধে অদক্ষতা, পেশাদারিত্বের অভার, প্রশিক্ষণের ঘাটতি-সহ নানা খামতির কারণে সৈন্যসংখ্যার বিচারে পঞ্চম স্থানে থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের সেনা প্রথম দশ শক্তিধর সেনাবাহিনীর তালিকার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি। বলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

দক্ষিণ চিন সাগরে নৌ-যুদ্ধের মহড়া দিল চিন, সতর্কবার্তা আমেরিকার

দক্ষিণ চিন সাগরে যুদ্ধের মহড়া দিল চিনের নৌবাহিনী। যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে দু’দলে ভাগ হয়ে পুরোদস্তুর যুদ্ধেরই আয়োজন করল বেজিং। প্রত্যাশিতভাবেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন নৌবাহিনীর তরফে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, চিনের এই শক্তিপ্রদর্শনের চেষ্টা দক্ষিণ চিন সাগরে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলবে।
চিনের এই সামরিক মহড়া কিন্তু ভারতের মহড়ার ঠিক পর পরই হল। ১৫ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে নৌ-যুদ্ধের মহড়া দিয়েছিল ভারত। কম্বাইন্ড কম্যান্ডারস’ কনফারেন্স উপলক্ষে ভারতীয় নৌসেনার এয়াক্র্যাফট ক্যারিয়ার আইএনএস বিক্রমাদিত্যে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারত মহাসাগরের বুকে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে মোদীর সেই বৈঠকের পরই যুদ্ধের মহড়া শুরু করে ভারতীয় নৌসেনা। যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, পরমাণু যুদ্ধের মহড়া, জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ— সবই হয়েছে ভারতের এই মহড়ায়। ঠিক তার পর দিনই বিতর্কিত দক্ষিণ চিন সাগরে মহড়া দিল চিন।
লাল ও নীল— এই দুই দলে ভাগ হয়ে চিনের নৌবাহিনী দক্ষিণ চিন সাগরে মহড়া দেয়। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে হামলা চালানো, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হানায় ধেয়ে আসা ক্রুজকে ধ্বংস করে দেওয়া, ফাইটার জেট থেকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে বোমা হামলা চালানো— বুধবারের মহড়ায় এমন নানা কসরৎ দেখিয়েছে চিনের নৌবাহিনী। যে বিতর্কিত এলাকায় চিন কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করেছে, তার কাছেই কয়েক হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে চিনা নৌবাহিনীর মহড়া চলে। আমেরিকা যে এলাকাকে আন্তর্জাতিক জলভাগ বলে দাবি করছে, সেই এলাকাকে নিজেদের জলসীমা হিসেবে প্রমাণ করার তাগিদও চিনের এই মহড়ার অন্যতম কারণ। মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Thursday, December 17, 2015

ভারতের মতো পরমাণু চুক্তি পাকিস্তানের সঙ্গে নয়: আমেরিকা

ভারতের মতো পাকিস্তানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিল ভারত। ভারতের স্বস্তি বাড়িয়ে আমেরিকা জানিয়েছে, ভারতের মতো পাকিস্তানের সঙ্গে এখনই অসামরিক পারমাণবিক চুক্তি সম্ভব নয়। অদূর ভবিষ্যতেও তার কোনও সম্ভাবনা নেই। এমনকী পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার নিয়েও যে আমেরিকা বিশেষ ভাবে চিন্তিত, তা-ও জানিয়েছে ওবামা প্রশাসন।
হোয়াইট হাউজের আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি রিচার্ড গলসন জানান, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দৃঢ়। তাদের সঙ্গে আমাদের যে পারমাণবিক চুক্তি রয়েছে, তেমন চুক্তি পাকিস্তানের সঙ্গে করা অসম্ভব। নীতিগত ভাবে এই অবস্থান নিয়েছে আমেরিকা।” ওয়াশিংটন যে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে চিন্তিত, সে কথা জানিয়ে গলসনের দাবি, “পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার কমাতে আমাদের সঙ্গে আলোচনাতেও রাজি হয়েছে পাকিস্তান।”
সামরিক খাতে পাকিস্তানের বিপুল ব্যয় বরাদ্দকে কটাক্ষ করে গলসন বলেন, “পাকিস্তান মোট আয়ের ২০ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয় করলেও শিক্ষা খাতে তার পরিমাণ মাত্র ২.৫ শতাংশ।”
মাস কয়েক আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বৈঠকের আগে পাক সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল যে, দুই রাষ্ট্রনায়কের বৈঠকেই সাক্ষরিত হবে অসামরিক পারমাণবিক চুক্তি। সে বারও পাকিস্তানের সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছিল হোয়াইট হাউজ। এ দিন ফের এক বার পাকিস্তানের সেই দাবি উড়িয়ে দিল আমেরিকা।

বিষাক্ত ‘ঘন চিনি’র খাবার ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ জুড়ে, উদ্বেগে সরকারও

মিষ্টি খাচ্ছেন? নামী দোকান থেকে? বা স্থানীয় সংস্থার সুস্বাদু ফ্রুট কেক? কনডেন্সড মিল্ক, আইসক্রিম বা প্রিয় দোকানের মিষ্টি দই?
দীর্ঘদিন ধরে যা খেয়ে আসছেন, তা এখনও নিরাপদ কি না, জানেন কি?
প্রশ্ন উঠে গিয়েছে মিষ্টি বা ওই স্বাদের খাবারের মান নিয়ে। কারণ, সন্দেশ রসগোল্লা, দই, আইসক্রিম, কেক-সহ রসনাতৃপ্তির নানা উপকরণে সহজে এবং কম খরচে মিষ্টি স্বাদ আনার জন্য তাতে এখন বিষাক্ত যৌগ সোডিয়াম সাইক্লামেট মেশানো হচ্ছে। বিষাক্ত সোডিয়াম সাইক্লামেটকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলছে তাতে মেশানো ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার। এই ভেজাল নিমন্ত্রণ দিতে পারে ক্যানসারকেও।
বাংলাদেশে এই প্রবণতা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে দিন দিন। সোডিয়াম সাইক্লামেট নামের যৌগ ‘ঘন চিনি’ নামে পরিচিত বা‌লাদেশে। এই যৌগ চিনির চেয়ে ৫০ গুণ বেশি মিষ্টি। অর্থাৎ, ১ কিলোগ্রাম চিনি যতটা মিষ্টি স্বাদ আনতে পারে, মাত্র ২০ গ্রাম সোডিয়াম সাইক্লামেটের পক্ষেই খাবারকে ততটা মিষ্টি করে তোলা সম্ভব। কিন্তু এই সোডিয়াম সাইক্লামেট ভয়ঙ্কর বিষাক্ত। শরীরে ঢুকেই তা নানা বিষক্রিয়া শুরু করে। ফলে কিডনি, লিভার-সহ নানা অঙ্গ বিকল হতে থাকে। এমনকী ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই সোডিয়াম সাইক্লামেট বা ‘ঘন চিনি’ খাবারে মেশানো নিষিদ্ধ। বাংলাদেশ সরকার এই যৌগের আমদানিও বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তাতে সমস্যা থেমে থাকছে না। চোরা পথে বাংলাদেশ ঢুকছে হাজার হাজার টন ঘন চিনি। অসাধু মিষ্টি ব্যবসায়ী ও বেকারি মালিকরা চিনির বদলে এই ঘন চিনিই ব্যবহার করছেন খাবারে।
কীভাবে?
সোডিয়াম সাইক্লামেট এবং চিনি দেখতে অনেকটা একই রকম। আবার বোতলবন্দি সাইট্রিক অ্যাসিডকেও দেখতে ওই রকমই লাগে। তাই চিনি বলে আমদানি করায় ঝুঁকি থাকলেও, সাইট্রিক অ্যাসিড নামে ঘন চিনি আমদানি করতে সমস্যা হচ্ছে না। বোতলের গায়ে সাইট্রিক অ্যাসিড লেখা থাকছে। কোডও থাকছে সাইট্রিক অ্যাসিডেরই। কিন্তু আসলে লুকিয়ে ঢুকছে ঘন চিনি। বাংলাদেশের কাস্টমস এবং গোয়েন্দা বিভাগ সোডিয়াম সাইক্লামেটের চোরাই আমদানির খবর স্বীকার করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর-সহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সম্প্রতি প্রচুর পরিমাণে ঘন চিনি বাজেয়াপ্ত করেছে বাংলাদেশের প্রশাসন। কিন্তু চোরাচালান তাতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
সোডিয়াম সাইক্লামেট বা ঘন চিনিতেই কিন্তু বিপদের শেষ নয়। এই বিষের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে আরও বিষাক্ত ভেজাল। ঘন চিনির মিষ্টতা এত বেশি যে তাতে ভেজাল মিশিয়ে তার ওজন বাড়িয়ে দেওয়া গেলেও স্বাদের হেরফের চট করে বোঝা যায় না। কিন্তু যা মেশানো হবে, তাকেও ঘন চিনির মতোই দেখতে হতে হবে। না হলে ভেজাল ধরা পড়ে যাবে। তাই ঘন চিনিতে মেশানো হচ্ছে স্বচ্ছ চিনির দানার মতো দেখতে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার। এই সার স্বাদহীন। তাই ঘন চিনিতে মিশে গিয়েও স্বাদের কোনও বদল ঘটায় না। ২২০ টাকা কিলো দরে বাংলাদেশে বিক্রি হচ্ছে ঘন চিনি। আর ম্যাগনেসিয়াম সালফেট মেশানো ভেজাল ঘন চিনি ১৪০ টাকা কিলো। তাই অনেক মিষ্টি এবং বেকারি ব্যবসায়ীই অজান্তে এ বার ঝুঁকেছেন ভেজাল ঘন চিনির দিকে। ফলে মিষ্টি, পাউরুটি, কেক, কনডেন্সড, মিল্ক, আইসক্রিমের সঙ্গে শরীরে ঢুকে পড়ছে মারাত্মক বিষ।
বাংলাদেশে চলতে থাকা এই ভয়ঙ্কর অসাধু ব্যবসা লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা। দুই বাংলার সুবিস্তৃত সীমান্ত দিয়ে যে পরিমাণ চোরাচালান চলে বলে অভিযোগ, তাতে ঘন চিনি এবং ভেজাল ঘন চিনির চোরা আমদানি পশ্চিমবঙ্গেও হতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। তবে সোডিয়াম সাইক্লামেট এবং ম্যাগনেসিয়াম সালফেটের মিশ্রণ সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে শুরু করেছে বলে কোনও নিশ্চিত খবর এখনও নেই। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন ব্লকের বিডিও এবং থানার ওসি-রা বলছেন, এখনও এই ধরনের কোনও চোরাচালানের খবর মেলেনি।

বায়ুসেনা শক্তিতে প্রথম পাঁচে ভারত, জোর টক্কর চিনের সঙ্গে

ভারতীয় বিমানবাহিনী এখন বিশ্বের সেরা পাঁচে। একাধিক প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সমীক্ষায় উঠে এসেছে ভারতীয় বিমানবাহিনীর এই সম্মানজনক অবস্থানের খবর। একটি সমীক্ষায় দক্ষতার ভিত্তিতে ভারতকে চিনা বিমানবাহিনীর চেয়েও এগিয়ে রাখা হয়েছে। একাধিক যুদ্ধে অংশ নেওয়া ভারতীয় বিমানবাহিনী ১৯৯৯ সালে কার্গিলের দুর্গম পাহাড়ে যে ভাবে নাস্তানাবুদ করেছিল পাকিস্তানি সেনাকে, সমীক্ষা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে সেই তথ্যও।
সমীক্ষা রিপোর্টে বিশ্বের সেরা ১০টি বিমানবাহিনীর নাম তুলে ধরা হয়েছে। একাধিক বহুজাতিক বেসরকারি সংস্থার তরফে করা আলাদা আলাদা সমীক্ষার রিপোর্টে প্রথম দশে থাকা দেশগুলির নাম কিন্তু মিলে যাচ্ছে। দশের মধ্যে কে আগে, একটু পিছনে— তা নিয়ে সমীক্ষক সংস্থাগুলির মধ্যে সামান্য মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু, প্রতিটি সমীক্ষাই বলছে আকারে এবং সংখ্যার বিচারে ভারতীয় বিমানবাহিনী বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম। এর সঙ্গে পেশাদারিত্ব, যুদ্ধবিমানের মান এবং যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা যোগ করে একটি সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, ভারতীয় বিমানবাহিনী চিনের চেয়েও শক্তিশালী।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানবাহিনী হিসেবে অবশ্যই উঠে এসেছে আমেরিকার বিমানবাহিনীর নাম। অত্যাধুনিক সরঞ্জাম এবং অপরিসীম দক্ষতায় তারা অন্য সব বিমানবাহিনীর চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে। যুদ্ধবিমানের সংখ্যাতেও আমেরিকার ধারেকাছে নেই অন্য কোনও দেশ। সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, আমেরিকার হাতে যতগুলি যুদ্ধবিমান রয়েছে, গোটা বিশ্বের অন্য সব দেশের বিমানবাহিনীকে জুড়লে সেই সংখ্যার সমান হওয়া যাবে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাশিয়া। তৃতীয় স্থানে ইজরায়েল। বিমানবাহিনীর আকারে ইজরায়েল খুব বড় নয়। কিন্তু প্রায় সবক’টি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকা ইজরায়েলি বিমানবাহিনীর দক্ষমতা অসামান্য, বলছে সমীক্ষা রিপোর্ট। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারেও ইজরায়েল এয়ার ফোর্স অনেকের চেয়ে এগিয়ে। চতুর্থ স্থানে রাখা হয়েছে ভারতকে। ১ লক্ষ ৭০ হাজার কর্মী এবং ১৫০০ যুদ্ধবিমান নিয়ে গড়ে ওঠা এই বিশাল বাহিনীর ব্যবহৃত সমর সরঞ্জামের মানও অন্যান্য দেশের পক্ষে ঈর্ষণীয়। দাবি সমীক্ষকদের। এই সমীক্ষাতে ভারতের পরেই ঠাঁই দেওয়া হয়েছে ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সকে। যুদ্ধবিমান এবং যোদ্ধার সংখ্যায় ভারতের চেয়ে অনেক পিছনে রয়্যাল এয়ার ফোর্স। কিন্তু, আধুনিকতা, দক্ষতা এবং বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নিয়ে সফলভাবে লক্ষ্য পূরণের কথা মাথায় রেখে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীকে প্রথম পাঁচেই রাখা হয়েছে। স্ট্র্যাটেজিক বম্বিং বা কৌশলগত বোমা হামলা চালানোর দক্ষতায় ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের জুড়ি নেই গোটা পৃথিবীতে। বলছেন সমীক্ষকরা। ষষ্ঠ স্থানে রাখা হয়েছে চিনের বিমানবাহিনীকে। পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের হাতে রয়েছে ২৫০০ যুদ্ধবিমান। রয়েছেন ৩ লক্ষ ৩০ হাজার কর্মী। আকারে ভারতের চেয়ে বেশ খানিকটা বড় হলেও বড়সড় যুদ্ধে অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়ার রেকর্ড চিনা বিমানবাহিনীর নেই। সে কথা মাথায় রেখেই চিনকে কিছুটা পিছনে রাখা। তবে তুল্যমূল্য বিচারে এই বিমানবাহিনীগুলির কোনওটিই কারও চেয়ে খুব এগিয়ে বা খুব পিছিয়ে নয়। শক্তির বিচারে তারা পরস্পরের খুব কাছাকাছি। দাবি সমীক্ষকদের।
সপ্তম স্থানে ফরাসি বিমানবাহিনী, অষ্টম স্থানে জার্মানি, নবম স্থানে রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্স এবং দশম স্থানে জাপান সেল্ফ এয়ার ডিফেন্স ফোর্স রয়েছে বলে সমীক্ষক সংস্থাগুলি মনে করছে।
একটি সমীক্ষায় অবশ্য চিনকে ভারতের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে বিমানবাহিনীর আকার, পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, ক্ষমতা, যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা— এই সব বিচার করে প্রথম তিনটি স্থানে আমেরিকা, রাশিয়া এবং ইজরায়েল। তার পর রয়েছে চিন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ভারত, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান। এই দেশগুলির সবক’টিই প্রয়োজনে নিজেদের দেশেই যুদ্ধবিমান তৈরির ক্ষমতা রাখে বলে সমীক্ষা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তান কোনও সমীক্ষাতেই প্রথম দশের ধারেকাছে পৌঁছয়নি। ৯০০টি যুদ্ধবিমান থাকলেও, সেগুলির মান, পাক বিমানবাহিনীর পেশাদারিত্বের ধরন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্যের অভাবই এর জন্য দায়ী। বলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
তৃতীয় একটি সমীক্ষায় প্রথম ১০ থেকে ইজরায়েল ও অস্ট্রেলিয়াকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাকি আটটি দেশের নাম একই। সেখানেও চিন-ভারত প্রথম পাঁচে এবং পাশাপাশি অবস্থানে। নবম ও দশম স্থানে রাখা হয়েছে তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়াকে।

করাচিতে জোড়া পরমাণু চুল্লি, উদ্বেগে নয়াদিল্লি

দু’টি পরমাণু চুল্লি আগেই ছিল। এ বার তার সঙ্গে জুড়ছে আরও দু’টি নতুন চুল্লি (রিঅ্যাক্টর)। গত সপ্তাহে বিদেশ মন্ত্রকের কাছে আসা একটি রিপোর্ট বলছে, করাচিতে নতুন দু’টি পরমাণু চুল্লি বসাতে চিনের সঙ্গে অতি সম্প্রতি চুক্তি করেছে পাকিস্তান। বিষয়টি যতটা সম্ভব গোপনেই রেখেছে ইসলামাবাদ এবং বেজিং। সূত্রের খবর, এই নতুন চুল্লি বসানোর জন্য আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সমস্ত সহায়তাই দেবে চিন। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিংহ জানিয়েছেন, ‘‘ভারত সরকার এ ব্যাপারে অবগত। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে তা নিশ্চিত করতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’ 
মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে করাচির নতুন পরমাণু চুল্লি দু’টিতে। তা হলে ভারতের উদ্বেগের কারণ কী? 
বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্তা জানাচ্ছেন, পরমাণু চুল্লিতে বিদ্যুতের পাশাপাশি অস্ত্র বানানোর প্রক্রিয়া পাকিস্তান বরাবর চালিয়ে গিয়েছে। ভারতের অভিযোগ, চুল্লিতে বা়ড়তি জ্বালানি ব্যবহার করে তা বোমা তৈরির জন্য সরিয়ে রাখে ইসলামাবাদ। তারা নিউক্লিয়ার সাপ্লাই গ্রুপ (এনএসজি)-এর সদস্য না হওয়ায় পাক চুল্লিগুলিতে কোনও আন্তর্জাতিক নজরদারির ব্যবস্থা নেই। তা ছাড়া এখনও পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্র প্রসার-রোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর না-করায় গোপনে তারা কার্যত অবাধে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানের কাছ থেকেই ইরানে পরমাণু প্রযুক্তি চোরাচালান হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য জেলে যেতে হয়েছে পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির জনক আব্দুল কাদির খানকে। পাকিস্তানের মাধ্যমে তালিবান ও অন্য সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীও পরমাণু বোমা পেয়ে যেতে পারে বলে অনেক বার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মান্য গবেষকরা। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, পরমাণু অস্ত্র নিয়ে বরাবরই ভারতকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়ে চলেছে চিন ও পাকিস্তান। তাই নতুন দু’টি চুল্লি তৈরির খবরকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দিল্লি।
খবর পাওয়ার পর গত সপ্তাহের গোড়ার দিকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা এবং বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর দফতরের শীর্ষ কর্তারা। পরমাণু অস্ত্রের প্রশ্নে ভারতের শক্তি এই মুহূর্তে ঠিক কোন জায়গায়, তা আরও এক বার ঝালিয়ে দেখা হচ্ছে। পরমাণু অস্ত্র প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। ৪০ হাজার কোটি টাকায় রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে আজই ছাড়পত্র দিয়েছে সরকার।
প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই আন্তর্দেশীয় দূর নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং পরমাণু অস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার আওতা বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। শেষ খবর অনুযায়ী ভারতের থেকে পাকিস্তানের হাতে ১০টি বেশি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। চিনের রয়েছে ১৪০টি বেশি। পাশাপাশি এই তথ্যটাও দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমি পর্যবেক্ষকেরা তুলে ধরছেন যে বিশ্বের মধ্যে পাকিস্তানেই সব চেয়ে দ্রুত হারে বাড়ছে পারমানবিক অস্ত্র। দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ার অস্থির এই সময়ে পরমাণু-বিপদের আশঙ্কাও এই দেশ থেকেই সব চেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে গবেষকদের একাংশের মতে, কোন দেশে কতগুলি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে তার পাল্লা দেওয়াটা নিরর্থক। কারণ, হিসেব অনুযায়ী পরমাণু অস্ত্রের এক
কণা অর্থাৎ মাত্র ১ মেগাটনই উড়িয়ে দিতে পারে ২১০ বর্গ কিলোমিটার (যা দক্ষিণ মুম্বইয়ের তিন গুণ এলাকা)! ফলে বেশি অস্ত্র বাড়়ানোর পাশাপাশি পরমাণু অস্ত্র প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দেওয়া বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
বেজিং-ইসলামাবাদ— পরমাণু শক্তিধর এই প্রতিবেশী অক্ষটি বরাবরই ভারতকে চাপে রেখে এসেছে। কিছু দিন আগে আর্থিক করিডর গড়তে দু’দেশের মধ্যে ৪৬০০ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে। যে চুক্তির মধ্যে রয়েছে দু’দেশের মধ্যে রেল এবং সড়ক পরিকাঠামো তৈরির কথা। ভারত তাতে প্রবল আপত্তি তুলে জানিয়েছিল, প্রস্তাবিত এই রেলপথ পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের একটি অংশের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সাউথ ব্লকের উদ্বেগের কারণ, এই অর্থনৈতিক করিডরের ফলে কাশ্মীরের বিতর্কিত অংশে নিজেদের পেশি প্রদর্শন বাড়াবে ইসলামাবাদ এবং পাক সীমান্তে আরও বেশি করে ঘাঁটি গাড়বে চিন— যা ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার পক্ষে উদ্বেগের।
অথচ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার নেওয়ার পর প্রতিবেশী-কূটনীতিই প্রধানমন্ত্রীর বিদেশনীতিতে অগ্রাধিকার পেয়েছে। ইউপিএ আমলে ভারতকে সব চেয়ে চাপে রাখা দুই প্রতিবেশী পাকিস্তান এবং চিনকে নিয়ে পৃথক কৌশল রচনা করেছে মোদী সরকার। দু’দেশের সঙ্গে সংঘাতের জায়গাগুলিকে পৃথক ভাবে চিহ্নিত করে পাশাপাশি বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভেবেছে সরকার। তবে দু’দেশের সঙ্গেই এই কৌশলে বার বার দিল্লিকে পিছু হঠতে হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পর ফের শুরু হয়েছে আলোচনা প্রক্রিযা। বিদেশ মন্ত্রকের ওই কর্তার মতে, ‘‘আলোচনা শুরু হয়েছে মানে এই নয় যে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এতটুকু আলগা দেওয়া হয়েছে। বরং সতর্কতা আরও বাড়ানো হচ্ছে।’’
এই অবস্থায় পাকিস্তানে নতুন পরমাণু চুল্লি তৈরি হওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে দিল্লির। বিশেষ করে সে চুল্লি যখন তৈরি করছে চিন।

সুয়ারেজের হ্যাটট্রিকেও যাচ্ছে না মেসি শঙ্কা

লিওনেল মেসি আবার আনফিট।  বার্সেলোনা-রাজপুত্রকে ফের এক বড় মঞ্চে পাচ্ছে না ক্লাব। ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ সেমিফাইনালে এ দিন শেষ মুহূর্তে এলএম টেন-কে বাইরে রেখে মাঠে নেমেও সুয়ারেজের হ্যাটট্রিকে হাসতে হাসতে উতরে গেল বার্সা। কিন্তু তাতেও রবিবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে মেসিকে পাওয়া- না পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কাটছে না!  
জাপানের ইয়কোহামায় আচমকা ধরা পড়ল মেসির তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা। বাঁ-হাঁটুর চোটে আট সপ্তাহ ছিটকে যাওয়ার ধাক্কা কাটিয়ে মেসি মাঠে ফিরেছেন মাসখানেকও হয়নি। এর মধ্যেই এ দিন নতুন শারিরীক উপদ্রব বার্সা-হৃদপিণ্ডের। তার উপর কুঁচকির চোটে নেইমারও ছিলেন না এই ম্যাচে। তবে এমএসএনের এক জনের দাপটেই বার্সেলোনা ৩-০ উড়িয়ে দিল প্রাক্তন ব্রাজিল কোচ লুইস ফিলিপ স্কোলারির গুয়াংঝু এভারগ্রান্দেকে। তিনি লুইস সুয়ারেজ হ্যাটট্রিক করলেন আজ।  ব্রাজিলীয় তারকা কোচের দলকে হারিয়ে রবিবার বার্সেলোনা ফাইনালে আবার মেসির দেশের ক্লাব রি‌ভারপ্লেটের সামনে।
কিন্তু ফাইনালের থেকেও যে প্রশ্নটা বার্সেলোনা শিবিরে সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে সেটা মেসি শারীরিক অবস্থান নিয়ে। ফাইনালেও নামতে পারবেন তো তিনি? এ দিন সকালে আর্জেন্তিনীয় মহাতারকা হঠাৎ তলপেটে ব্যথা অনুভব করেন। দ্রুত ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়ে যায় তাঁর। পরে বার্সেলোনা টুইটে জানিয়ে দেয়, মেসির সমস্যাটা আসলে ‘রেনাল কলিক’। কিডনিতে পাথর থাকলে নাকি এই ব্যথা হয়।
দুঃসংবাদটা ছড়াতেই জল্পনা শুরু হয়ে যায় ফাইনাল তো দূরের কথা মেসি বেশ কিছু দিনের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে পারেন! তবে বার্সেলোনার তরফে সরকারি ভাবে এখনও এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়েছে রবিবার ফাইনালে মেসি খেলবেন কি না সেটা তাঁর আরও শারীরিক পরীক্ষার  পরেই পরিষ্কার হবে।
সুয়ারেজেরও সে রকমই প্রার্থনা। ‘‘মেসি, নেইমারকে ছাড়া আজ জেতাটা আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল। সেটায় সফল হওয়ায় খুশি। আশা করছি রবিবার ফাইনালে মেসি, নেইমার দু’জনেই মাঠে ফিরবে।’’ বার্সা কোচ লুইস এনরিকেও হয়তো এখন একই প্রার্থনা করছেন। কেন না মেসি বেশ কিছু দিনের জন্য ছিটকে গেলে বার্সার সমস্যা বাড়বেই। অন্তত জানুয়ারিতে দলবদলের মরসুম শুরু হওয়া পর্যন্ত। যত দিন না আর্দা তুরান আর আলেই ভিদাল বার্সায় যোগ দিচ্ছেন। এত দিন ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় বার্সায় সই করেও মাঠে নামতে পারেননি এই দুই তারকা ফুটবলার। নিষেধাজ্ঞা উঠছে আগামী দলবদল মরসুমে।