বড়জোড় ৪৫ কেজির পূর্ণ বয়স্ক মানুষ। যার মগজটা ঠিক যেন কমলালেবু। হ্যাঁ। আমাদেরই পূর্ব পুরুষ। হোমো নালেডি। যাদের হাত, কব্জি এবং পায়ের পাতা অবিকল আধুনিক মানুষের মতো। আর দেহের ঊর্ধ্বাংশ ও মগজের আকার মানুষের আদিতম পূর্ব পুরুষদের মতো—খুব ছোট।
এমন মানুষও ছিল, এমনটাই দাবি বিজ্ঞানীদের। তবে কি মানুষের বিবর্তনের ইতিহাস আবার নতুন করে লেখার সময় এসে গেল? নিয়ান্ডারথাল আর হোমো সেপিয়েন্সের মধ্যে রয়েছে কি আরও একটি মানব প্রজাতি? একই সঙ্গে মানুষের দুটি প্রজাতিরও কি মেলবন্ধন হয়েছিল কোনও সময়ে?
সদ্য একটি আবিষ্কারে আধুনিক মানুষের একটি নতুন পূর্ব পুরুষের হদিশ মেলায় এই জল্পনাই আরও জোরালো হল।
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের কাছে একটি গুহায় আবিষ্কৃত হয়েছে ‘হোমো নালেডি’ নামে একটি নতুন মানব প্রজাতির ১৫টি দেহের হাড়ের প্রায় দেড় হাজার জীবাশ্ম। এই জীবাশ্মগুলির বেশির ভাগই শিশু ও কিশোরদের। হদিশ মিলেছে এক জন বৃদ্ধের হাড়ের জীবাশ্মেরও। বৃহস্পতিবার এ কথা ঘোষণা করে এই আবিষ্কারকে বিজ্ঞানীরা যুগান্তকারী বলে দাবি করেছেন। তাঁদের আরও দাবি, ওই গুহায় আরও কয়েক হাজার মানুষের হাড়ের জীবাশ্ম রয়েছে।
এই জীবাশ্মগুলি কোন যুগের সে সম্পর্কে নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা। সেগুলি এই জায়গায় কী ভাবে এল, তা-ও বিজ্ঞানীদের কাছে স্পষ্ট নয়। ২০১৩ সালে জোহানেসবার্গের ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ইউনেসকোর একটি হেরিটেজ সাইটে ওই জীবাশ্মগুলির সন্ধান পান উইটওয়াটারসর্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। এদের এক এক জনের শরীরের উচ্চতা পাঁচ ফুট, দেহের ওজন ৪৫ কিলোগ্রাম। এদের মগজ অনেকটা কমলালেবুর মতো। অন্যতম গবেষক লি বার্গার বলেছেন, ‘‘নতুন একটি মানব প্রজাতির হদিশ পাওয়ার কথা ঘোষণা করার জন্য আমি খুশি।’’
এই আবিষ্কারকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন লন্ডনের ন্যাচরাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের অধ্যাপক ক্রিস স্ট্রিংগার। তিনি বলেছেন, ‘‘সব কিছু খতিয়ে দেখে মনে হচ্ছে মানুষেরই অন্য কোনও একটি প্রজাতি ওই গভীর গুহায় এই হোমো নালেডি প্রজাতির মানুষের হাড়গুলিকে রেখে গিয়েছিল।’’
No comments:
Post a Comment