আমুর সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নাগাল্যান্ডের টুপিতে জুড়ল আরও এক পালক। বিরল প্রজাতির ‘স্নো-হোয়াইট আমুর’ বাজের দেখা মিলল ওখায়। প্রথমবার নাগাল্যান্ডে এই পাখি দেখে উচ্ছ্বসিত সংরক্ষণকর্মীরা। আমুর সংরক্ষণের কাজ সরেজমিনে দেখতে, কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর নাগাল্যান্ডের ওখায় দুই দিন কাটিয়ে গেলেন।
নাগাল্যান্ডকে বিশ্বের আমুরের রাজধানীর শিরোপা এনে দিতে যে বিজ্ঞানীর প্রধান ভূমিকা- সেই আর সুরেশ এখন ওখায়। ‘ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া’র বিজ্ঞানী সুরেশের নেতৃত্বেই নাগা, ওখা ও পাংতি নামে তিনটি আমুরের পিঠে ‘স্যাটেলাইট ট্রাকিং’ যন্ত্র বাঁধা হয়েছিল। যার মধ্যে নাগা ও ওখা সাইবেরিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে দুই দফায় ৪৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ফের ওখায় হাজির। কিন্তু, ওখা নামের বাজটির সন্ধান মেলেনি।
সুরেশ ও তাঁর সহযোগীরা স্থানীয় সংরক্ষণ সংগঠন ‘ইয়াওঙ্গিমচেন কমিউনিটি ফর বায়ো ডাইভার্সিটি’-র সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নভেম্বরের প্রথম থেকেই আমুরদের উপরে নজর রাখছিলেন। তখনই ইয়াওঙ্গিমচেনের আকাশে একটি তুষার-শুভ্র বাজের দেখা মেলে। নিখিল নামে সুরেশের দলের এক সদস্যের ক্যামেরায় ধরা পড়ে বাজটি। তার নাম দেওয়া হয় ‘স্নো-হোয়াইট আমুর’। বিশেষজ্ঞদের মতে এই বাজটি অনেকটা উত্তর মেরুতে মেলা ‘জাইরফ্যালকন’ প্রজাতির। কী ভাবে, কতগুলি এই ধরণের বাজ নাগাল্যান্ডে এসেছে, এখানে তারা বংশ বিস্তার করছে কী না— তা জানতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাধারণত পুরুষ আমুরের রং থাকে কালচে ধূসর, লালচে উরু, ডানার নীচের অংশ বাদামি, চোখ কমলা। স্ত্রী আমুরের রং ফ্যাকাশে। ডানার তলার সাদাটে অংশে কালো আঁশের মতো ফোঁটা থাকে। কিন্তু, ওখায় দেখা মেলা ‘স্নো হোয়াইট’-এর রঙ পুরো বরফ-সাদা।
আমুর সংরক্ষণের কাজের হাল-হকিকৎ জানতে গতকাল বিকাল নাগাল্যান্ডে আসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জাভড়েকর। সোজা যান পাংতি গ্রামে। ওখা জেলার এই গ্রামেই দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার পথে লক্ষাধিক আমুর
অস্থায়ী ঘাঁটি গেড়েছে। গত কাল বিকেলে ও আজ সকালে মন্ত্রী জাভড়েকর পাখি দেখেন। বিজ্ঞানী ও বনকর্তাদের কাছ থেকে আমুর সংরক্ষণের খুঁটিনাটির খবর নেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী নেকিসালি নিকি কিরে ও বিভাগীয় প্রধান সচিব এন এন ঝাসা।
ইতিমধ্যে আমুর সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য সাফল্যে দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ডাক বিভাগ আমুরের ছবি ও পরিব্রাজন মানচিত্র-সহ বিশেষ খাম প্রকাশ করেছে।
No comments:
Post a Comment