Tuesday, November 17, 2015

সিরিয়ায় জারি ফরাসি বিমান হানা, দোসর রাশিয়া

বিনা যুদ্ধে আর এক ইঞ্চিও জমি নয়! ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের পর এ বার পশ্চিম এশিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে  গলা চড়ালেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মিশরের সিনাই উপদ্বীপে রুশ বিমান ভেঙে পড়ার পিছনে এই জঙ্গিগোষ্ঠীর হাত থাকার কথা ঘোষণা করে প্রত্যাঘাতের পথই বেছেনিলেন তিনি। আজ থেকে ফের সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করেছে রুশ বিমান। রণংদেহি পুতিনের বার্তা, ‘‘অপরাধীরা বিশ্বের যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, আমরা ওদের খুঁজে বার করবই।’’
প্যারিস-কাণ্ডের প্রত্যুত্তরে ফ্রান্সের লাগাতার বোমাবর্ষণ, ‘শয়তানের মুখ’ আইএসের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আরও জোরদার বিমান হানার বার্তা তো রয়েছেই। এ বার তার সঙ্গে মিলল পুতিনের যুদ্ধ ঘোষণা। সব মিলিয়ে প্রত্যাঘাতের ত্রি-শূলে বিদ্ধ আইএস।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, আজ মূলত রাকা শহরেই  হামলা চালিয়েছে ফ্রান্স ও রাশিয়া। প্যারিস কাণ্ডের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আবদেলাহমিদ আবাউদ এখনও সিরিয়ার কোনও জঙ্গিডেরায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে বলেই মনে করছে ফরাসি প্রশাসন। সেই মতো পশ্চিম এশিয়ায় জঙ্গিদের প্রস্তাবিত ‘ধর্ম-সাম্রাজ্যে’র রাজধানী রাকাকেই পাখির চোখ করেছে ফ্রান্স। যদিও রবিবার থেকেই সিরিয়ার বিভিন্ন মানবাধিকার সর্বেক্ষণের তরফে জানানো হয়েছে, প্যারিসে জঙ্গিহানার পর রাকায় বিমান হামলা যে জোরদার হবে তা আঁচ করে ইতিমধ্যেই শহর ছেড়েছে জঙ্গিরা। তবে রাকা থেকে এখনই নজর সরাতে চাইছে না ফ্রান্স। তাদের এক সেনা মুখপাত্র জানিয়েছেন, আজকের হামলায় ধূলিসাৎ হয়েছে রাকার একটি জঙ্গি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র এবং একটি প্রশিক্ষণ শিবির। রাশিয়াও এ দিন রাকাকে কেন্দ্র করেই বিমানহামলা চালিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার একটি টিভি চ্যানেল বলছে, হামা প্রদেশেও আজ ব্যাপক বোমা ফেলেছে রাশিয়া।

আইএস দমনে একবগ্গা। রানওয়েতে ফরাসি যুদ্ধবিমান।
৩০ অক্টোবর মিশরের সিনাই উপদ্বীপে একটি রুশ বিমান ভেঙে পড়ে ২২৪ জনের মৃত্যু হয়। ইসলামিক স্টেটের তরফে জানানো হয়, তারাই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করেছে বিমানটি। সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সমর্থনে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে আইএসের বিভিন্ন ঘাঁটিতে রাশিয়ার বোমাবর্ষণের বদলা নিতেই এই হামলা বলে বিবৃতিও দেয় জঙ্গিরা। তবে সত্যিই বিমান-কাণ্ডে জঙ্গিযোগ আছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা। মিশর সরকার জঙ্গিযোগের কথা উড়িয়ে দিলেও মার্কিন উপগ্রহচিত্রে বিস্ফোরণের ছবি ধরা পড়ে। শেষমেশ তদন্তে নামেন ক্রেমলিন-কর্তারা। আজ, ক্রেমলিনের একটি বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পুতিন জঙ্গিহানার সত্যতা স্বীকার করে প্রতিশোধের বার্তা দেন।
সিরিয়ায় বাশারকে গদিচ্যুত করার প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত হলেও প্যারিস হামলা এক টেবিলে বসিয়েছে আমেরিকা এবং রাশিয়াকে। এর আগে আইএস-কে ঠেকাতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুতিনকে মার্কিন যৌথ বাহিনীর শরিক হওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন ওবামা। তবে এ প্রসঙ্গে নিজের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে মুখ খোলেননি পুতিন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম সিরিয়ায় বোমাবর্ষণ করে রাশিয়া। তবে এর পিছনে পুতিনের ‘আসল উদ্দেশ্য’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে পেন্টাগন জানায়, আইএস-দমন নয়, বাশার বিরোধীদের ঠেকাতেই সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ করছেন পুতিন। ক্রেমলিনও দাবি করে, দু’বছর ধরে সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে রাস্তা দেখাতে পারেনি আমেরিকা। তখন ক্রেমলিন বিরোধী কড়া অবস্থান নিয়েছিল ফ্রান্সও।
তবে আজ ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, আইএসের উপর চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটনের পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গেও হাত মেলানোর প্রস্তাব দিয়েছে ফ্রান্স। জঙ্গিবিরোধী জোটের শক্তি বাড়াতে ওলাঁদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে আসাদপন্থী ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানিরও। আজ সিরিয়ায় রুশ হামলার প্রসঙ্গে কিছুটা সুর নরম করেছে প্যারিস-প্রশাসন। ফরাসি সেনার দাবি, এত দিন আইএসের নাম করে আদতে আসাদ বিরোধী বিদ্রোহীদের উপরে আঘাত হানলেও আজ রাকার আইএস-জঙ্গিঘাঁটিকেই নিশানা করে আক্রমণ চালিয়েছে রাশিয়া। সিনাইয়ে রুশ বিমানে বিস্ফোরণ ও প্যারিসে জঙ্গি হামলার পরে এখন মার্কিন যৌথবাহিনী এবং রাশিয়া— উভয় পক্ষেরই বড় শত্রু  হয়ে সামনে এসেছে আইএস। তা হলে কী শত্রুর শত্রুর সঙ্গে বন্ধুত্বের তত্ত্বে গলছে মার্কিন যৌথ বাহিনীর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের বরফ? জোর জল্পনা কূটনৈতিক মহলে।
কূটনীতিকদের একাংশ বলছেন, এই গাঁটবন্ধনের জল্পনা সত্যি হলে প্রত্যাঘাতের জোড়া ধাক্কায় মুখ থুবড়ে পড়বে আইএসই।

No comments:

Post a Comment