Wednesday, November 11, 2015

বর্জ্য পচিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নয়া প্রকল্প

পচা ফুলকপির অংশ, কুমড়ো বা আলুর খোসা, পচা ডিম বা মাছের কাঁটা। রান্নাঘরের এই সব বর্জ্য ব্যবহার করেই এ বার বিদ্যুৎ তৈরির সিদ্ধান্ত নিল হাওড়ার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইআইইএসটি)। ওই সমস্ত বর্জ্য পচিয়ে বিদ্যুৎ তৈরির কাজ শুরু করলেন হাওড়ার প্রাচীন ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক ও পড়ুয়ারা। গত সোমবার এই প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা অজয় রায়।
আইআইইএসটি-র অধ্যাপক তথা নতুন এই প্রকল্পে অধিকর্তা হিরণ্ময় সাহা জানান, গত বছর রাজ্য সরকারকে এ রকম একটি প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এ বার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থ এবং সরকারি সহায়তায় ওই প্রকল্প চালু করলেন তাঁরা। পরিবেশকে দূষিত না করে বিদ্যুৎ তৈরি করতে পাঁচ বছর আগেই ‘কালচার অব এক্সেলেন্সেস অব গ্রিন এনার্জি’ গঠন করেছিলেন কর্তৃপক্ষ। এই প্রকল্প তারই অংশ বলে জানান ওই অধ্যাপক। এ ছাড়া, এই প্রথম কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি হিরণ্ময়বাবুর।
কী ভাবে উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ শক্তি?
হিরণ্ময়বাবু জানান, প্রধানত ‘কিচেন ওয়েস্ট’ বা রান্নাঘরের বর্জ্য পদার্থের মাধ্যমেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। তিনি জানান, প্রথমে মাটির ভিতরে গর্ত করে সেখানে একটি ইটের খাঁচা তৈরি করে রাখা হবে। সেখানেই থাকবে ধাতব ফ্লোটিং ডোম। এর পরে ক্যাম্পাসের রান্নাঘর থেকে মাছের কাঁটা, শাক-সবজির পচা অংশ-সহ বিভিন্ন রকমের বর্জ্য সংগ্রহ করে মাটির ভিতরের ওই ডোমে রেখে তা পচানো হবে। আর তাতেই তৈরি হবে মিথেন গ্যাস। ইতিমধ্যেই একটি সংস্থাকে দিয়ে তৈরি করানো হয়েছে বায়ো-ইঞ্জিন। উৎপাদিত মিথেন গ্যাস বায়ো ইঞ্জিনে পাঠিয়েই তৈরি হবে বিদ্যুৎ শক্তি। প্রায় ১ টন বর্জ্য পদার্থ থেকে ২২০ বা ৪৪০ ভোল্টের ১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় বলে জানান হিরণ্ময়বাবু। তিনি আরও জানান, প্রথম পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রায় দু’মাস সময় লাগবে। তবে পরে আরও দ্রুত উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
আইআইইএসটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এ ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলে পরিবেশ দূষণ একেবারেই হবে না। সাধারণ ভাবে ওই বর্জ্য পদার্থ জমে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এ ছাড়া, ওই গ্যাসে থাকে মিথেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড, যা প্রতিটি মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু এ ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার সময়ে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কোনও সম্ভাবনাই নেই। কারণ আগেই তা মাটির নীচে বিশেষ পদ্ধতিতে পচিয়ে ফেলা যাবে। অন্য দিকে, কয়লা পুড়িয়ে যে ভাবে বায়ুদূষণ হয়, তা-ও বন্ধ হয়ে যাবে।
হিরণ্ময়বাবু বলেন, ‘‘উৎপাদিত ওই বিদ্যুৎ প্রথমে আমাদের ক্যাম্পাসেই ব্যবহার করা হবে। পরে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তা চালু হলে পরিবেশের পক্ষে মঙ্গলজনক হবে।’’ আইআইইএসটি-র অধিকর্তা অজয় রায় বলেন, ‘‘অধ্যাপক ও পড়ুয়ারা মিলে বায়ো পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, এই অভিনব পদক্ষেপ পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখবে বলেই মনে করি।’’

No comments:

Post a Comment