Sunday, December 13, 2015

আর্থিক সুবিধার দাবি বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পেও

ভারতে পরিবেশ সহায়ক গাড়ির বিক্রি বাড়াতে বৈদ্যুতিক ও ‘হাইব্রিড’ (যে-গাড়িতে প্রথাগত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, দু’টি ব্যবহারের প্রযুক্তিই রয়েছে) গাড়ি কিনলে আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে কেন্দ্র। কিন্তু সেটাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন টয়োটা কির্লোস্কর মোটরের (টিকেএম) অন্যতম কর্তা শেখর বিশ্বনাথন। তাঁদের দাবি, শুধু ক্রেতাদেরই নয়, গাড়ি তৈরির সংস্থাগুলিকেও সেই ধরনের সুবিধা দিতে হবে। পাশাপাশি, পুরনো হয়ে যাওয়া যে-সব গাড়ি পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে, সেগুলি বাতিল করার জন্যও সঠিক নীতি তৈরি করা জরুরি।
প্রায় দু’দশক আগে ভারতে পা রাখলেও জাপানি বহুজাতিক সংস্থাটি এখনও সে ভাবে এ দেশের বাজার ধরতে পারেনি। তাদের দখলে এই বাজারের ৫ শতাংশেরও কম। সংস্থা-কর্তাদের অবশ্য দাবি, যে-ধরনের ছোট ও  কম দামি গাড়ি ভারতের চাহিদার সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে, সেই বাজারে ‘এটিওস-লিভা’ গাড়িটির মাধ্যমে কার্যত বছর পাঁচেক আগে প্রবেশ করেছে তারা। বিশ্বনাথন জানান, গাড়ির দক্ষতা, মান ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। তাই কম দামি ছোট গাড়ির বাজার ধরা তাঁদের লক্ষ্য নয়।
বস্তুত, এ দেশে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির বাজার বাড়াতে উদ্যোগী হচ্ছে টিকেএম। সম্প্রতি তাদের ‘ক্যামরি’ গাড়িটির হাইব্রিড সংস্করণ ভারতের বাজারে এনেছে সংস্থা। বিশ্বনাথন জানান, ওই গাড়ি এখন মাসে গড়ে ১০০টি বিক্রি হচ্ছে। এখানে মোট যে-ক’টি ক্যামরি বিক্রি হয়, তার মধ্যে ৯২ শতাংশই এখন হাইব্রিড বলে জানিয়েছে সংস্থা।
এ বছরই ‘ফাস্টার অ্যাডপশান অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং হাইব্রিড অ্যান্ড ইলেকট্রিক ভেহিক্‌লস (ফেম) স্কিম’ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র, যেখানে ওই ধরনের গাড়ি কেনার জন্য ক্রেতাকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়। সেই নীতিকে স্বাগত জানালেও বিশ্বনাথনের দাবি, গাড়ি সংস্থাকেও সুবিধা দেওয়া উচিত।
কিন্তু ক্রেতা ছাড় পেলে গাড়ির চাহিদা বাড়ে। তা হলে কেন সংস্থার আলাদা সুবিধা প্রয়োজন?
বিশ্বনাথনের দাবি, এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকে উৎসাহ দিতে একটি সার্বিক নীতি জরুরি। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ কমাতে গোটা দেশেই ভারত-স্টেজ৪ নীতি চালুর দাবি করেছেন তাঁরা। এখন দেশের মাত্র ৬৩টি শহরে এই নীতি বলবৎ রয়েছে।
একই ভাবে শুধু গাড়ির দৈর্ঘ্য বা ইঞ্জিনের ভিত্তিতে করছাড় না-দিয়ে তার দূষণ ছড়ানোর (এমিশন লেভেল) মাত্রার নিরিখেও তা দেওয়ার দাবি তুলছে টিকেএম। তা হলে কম দূষণের গাড়ি বা বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে, দাবি সংস্থা-কর্তাদের।

No comments:

Post a Comment