Wednesday, September 30, 2015

পুতিন পিছনে ফেললেন ওবামাকে

রাষ্ট্রপুঞ্জে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে ভ্লাদিমির পুতিন এবং বারাক ওবামা।

কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলেননি। তবে কূটনীতির লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের থেকে এক কদম এগিয়ে রইলেন রুশ প্রেসিডেন্টই।
সিরিয়া-সঙ্কট, শরণার্থী সমস্যা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানো— সব বিষয়েই ভ্লাদিমির পুতিন এবং বারাক ওবামার মতপার্থক্য সোমবার প্রকট হয়ে ওঠে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার অধিবেশনে। তার পরেই মঙ্গলবার মুখোমুখি বৈঠকে বসেছেন দুই প্রেসিডেন্ট। এক ঘণ্টার নির্ধারিত বৈঠক গড়িয়ে যায় দেড় ঘণ্টায়। ওবামা বলেন, সিরিয়ায় আইএস-কে ঠেকাতে প্রয়োজন নয়া নেতার।
সোমবারই তিনি বলেছিলেন, সিরিয়া নিয়ে তিনি রাশিয়া এবং ইরানের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী। রাশিয়া এবং ইরান দু’জনেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন করছে। আমেরিকা বাশারের বিরোধী। কিন্তু আইএস-কে ঠেকানোর স্বার্থে আমেরিকা যাতে তার ওই বিরোধিতা থেকে সরে আসে, তার জন্য চাপ বাড়াচ্ছে রাশিয়া। ফ্রান্স ইতিমধ্যেই বিমান হানা শুরু করেছে।
মার্কিন প্রশাসন বরাবরই বলে এসেছে, স্বৈরতন্ত্রী বাশারকে উৎখাত না-করে সিরিয়ায় রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান খোঁজা বৃথা। কিন্তু পুতিন বিশ্বাস করেন, আইএস জঙ্গিদের প্রতিহত করতে হলে বাশারকে পাশে নিয়েই চলতে হবে। দীর্ঘ দশ বছর পরে রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে ফিরে সোমবার পুতিন এই যুক্তিতেই সরব ছিলেন। রণং দেবি মেজাজে তিনি দাবি করেন, ইরাক থেকে সাদ্দাম হুসেন বা লিবিয়া থেকে মুয়াম্মর গদ্দাফিকে হটানোর পরে সে সব জায়গা জঙ্গিদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। সিরিয়ারও সেই পরিণতি কাম্য নয়। পুতিন বলেছেন, ‘‘মার্কিন বা ফরাসি প্রেসিডেন্ট— প্রত্যেকের প্রতি আমার সম্মান রয়েছে। কিন্তু ওঁরা সিরিয়ার নাগরিক নন। তাই আমার মনে হয়, সিরিয়ায় কে নেতৃত্ব দেবেন, সেটা ঠিক করা ওঁদের কাজ নয়।’’
এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ‘‘পুতিনের যুক্তি মানলে বাশারের মতো অত্যাচারী শাসককে সমর্থন করতে হয় আমাদের।’’ সেটাও কতটা কাম্য, প্রশ্ন ওবামার। প্রশ্ন উঠেছে ক্রাইমিয়ায় রুশ আগ্রাসন নিয়েও। উঠেছে ইউক্রেনে লড়াইয়ের কথাও। পুতিনের যদিও দাবি, পশ্চিমি  শক্তির ইন্ধনেই সমস্যা বাড়ছে। এবং সিরিয়ায় রাশিয়ার ভূমিকার কথা বলে তিনি নিজেকেই আইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মুখ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। মার্কিন-বিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত চিন এবং ইরানও একই কথা বলায় ওবামা কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। নিজের বক্তব্যে অটল থেকেও তাঁকে বলতে হল, সিরিয়া সঙ্কট মেটাতে রাশিয়া, ইরান-সহ সব দেশের সঙ্গেই কথা চালিয়ে যেতে তিনি আগ্রহী।

Monday, September 28, 2015

মহাকাশ গবেষণায় তালেবর হল ভারতও

১

অ্যাস্ট্রোস্যাট নিয়ে রকেট উড়ল। সোমবার শ্রীহরিকোটায়।

পাঁচ, চার, তিন, দুই, এক....।
গুনতির রেশ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই আগুনের শিখা ছড়িয়ে রকেট উড়ল আকাশ ফুঁড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুলিকট হ্রদ লাগোয়া শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশকেন্দ্র জুড়ে মালুম হল তার প্রতিক্রিয়া— গুমগুমগুম শব্দে। উৎক্ষেপণস্থলের সাত কিলোমিটার দূরে মিডিয়া সেন্টারও রেহাই পেল না। মাটিতে ধাক্কা দিয়ে রকেটের ঊর্ধ্বগমনের পাল্টা অভিঘাতে থরথর করে কেঁপে উঠল চারতলা বাড়িটা!
সোমবার কাঁটায় কাঁটায় সকাল দশটায় এ ভাবেই পিএসএলভি সি-৩০ রকেটে সওয়ার হয়ে মহাকাশে পাড়ি দিল অ্যাস্ট্রোস্যাট। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ, যার উপরে বর্তেছে ব্ল্যাক হোল-সহ ব্রহ্মাণ্ডের বিবিধ রহস্য সন্ধানের ভার। পাঁচ বছর ধরে মহাকাশে চক্কর মারতে মারতে সে ওই দায়িত্ব পালন করে যাবে। তার ভূমিকা হবে পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের। চোখের সামনে ধীরে ধীরে মেঘের ও-পারে মিলিয়ে গেল পিএসএলভি। তার চলার চিহ্ন তখনও ছড়িয়ে আকাশ জুড়ে। মেঘের বুক চিরে যেন সরু এক ফালি রাস্তা! তুলিতে আঁকা!
বেলা সওয়া বারোটা। সাংবাদিক সম্মেলন করে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) কর্তারা জানালেন, ঘড়ির কাঁটা মেপে ঠিক ১০টা ২২ মিনিটে তাঁদের ‘দূত’ পৌঁছে গিয়েছে ভূপৃষ্ঠের সাড়ে ছ’শো কিলোমিটার উপরের নির্দিষ্ট কক্ষপথে। তাকে শক্তি জোগানোর জন্য খুলে গিয়েছে সোলার প্যানেল। এবং এতটা পথ পাড়ি দিয়েও সে রীতিমতো তরতাজা। ইসরো-র ইন্ডিয়ান স্যাটেলাইট সেন্টারের অধিকর্তা মিলস্বামী আন্নাদুরাই জানিয়েছেন, অ্যাস্ট্রোস্যাটের তোলা ছবি আসতে এখনও মাস দুয়েক। ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে প্রাথমিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও মাস চারেক লাগবে ধরে নেওয়া যায়।
সে যা-ই হোক, উৎক্ষেপন সফল হতেই টুইটার-ফেসবুকে শুভেচ্ছাবার্তার ঢল নেমেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইটারে ইসরো’কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আবার প্রকল্পের ‘জন্মবৃত্তান্ত’ নিয়ে ফেসবুকে স্মৃতিচারণ করেছেন পুণের ইন্টার ইউনিভার্সিটি সেন্টার অব অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (আইইউকা)-এর বর্তমান অধিকর্তা সোমক রায়চৌধুরী। লিখেছেন, ১৯৯৬-এ ইসরোর বেঙ্গালুরু সদরের বৈঠকে এমন একটি প্রকল্পের প্রস্তাব উঠেছিল। ইসরোর তৎকালীন চেয়ারম্যান কৃষ্ণস্বামী কস্তুরীরঙ্গন তাতে সায় দিয়েছিলেন।
মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ, পুণের আইইউকা, বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্স-এর মতো দেশের প্রথম সারির গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সেই পরিকল্পনাকেই এ দিন বাস্তব রূপ দিল ইসরো। যে সাফল্যের হাত ধরে মহাকাশ গবেষণায় নতুন ধাপ টপকে গেল ভারত। এ যাবৎ মহাকাশ কিংবা চাঁদ-মঙ্গলের মধ্যে তার যাতায়াত সীমাবদ্ধ ছিল। এ বার মহাকাশে নিজস্ব পর্যবেক্ষণকেন্দ্র মজুত করে জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যোতিঃপদার্থবিদ্যার তাত্ত্বিক গবেষণাও ভারত শুরু করে দিল। চলে এল ‘অভিজাত’ তালিকায়। কী রকম?
এর আগে আমেরিকা (সঙ্গী ইউরোপীয় ইউনিয়ন), রাশিয়া ও জাপান এমন গবেষণায় হাত দিয়েছে। তালিকায় ভারতই হচ্ছে চতুর্থ দেশ। ‘‘চাঁদ-মঙ্গলে সফল অভিযানের সুবাদে মহাকাশ অভিযান ও উৎক্ষেপণ-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) এবং ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসা)-র সঙ্গে টক্কর দেওয়ার জায়গায় আমরা আগেই চলে এসেছিলাম। এ দিনের সাফল্য সেই মুকুটে আর একটা উজ্জ্বল পালক জুড়েছে।’’— দাবি এক বিজ্ঞানীর।
কী ভাবে জুড়েছে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গবেষকদের অনেকের বক্তব্য: বিভিন্ন মহাজাগতিক রশ্মি চিহ্নিতকরণের জন্য অ্যাস্ট্রোস্যাটে বসানো হয়েছে পাঁচ-পাঁচটা ‘চোখ।’ যার কল্যাণে তথ্যের জন্য তাঁদের আর বিদেশিদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের শিক্ষক সুজন সেনগুপ্তের প্রতিক্রিয়া, ‘‘এখন তো আমরাই তথ্য লেনদেনের জায়গায় পৌঁছে গেলাম।’’
ইসরো-সূত্রের খবর: ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য সন্ধানে ১৯৯০-এ নাসা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথ ভাবে ‘হাবল’ নামে একটি টেলিস্কোপ পাঠিয়েছে মহাকাশে, গত ২৫ বছর ধরে যে নানা ধরনের তথ্য জুগিয়ে এসেছে। ২০০৫-এ জাপান, তার পরে রাশিয়া একই ধরনের টেলিস্কোপবাহী উপগ্রহ মহাকাশে পাঠালেও হাবলের তথ্যই ছিল গবেষকদের মূল ভরসা। এখন অ্যাস্ট্রোস্যাটকে অনেকে ‘ভারতীয় হাবল’ হিসেবে ডাকতে শুরু করেছেন। দুয়ের তুলনাও শুরু হয়ে গিয়েছে।
ইসরো-কর্তারা অবশ্য প্রকাশ্যে এ হেন তুলনায় যেতে নারাজ। তাঁরা বলছেন, হাবলের সঙ্গে অ্যাস্ট্রোস্যাটের বিস্তর ফারাক। ঘটনা হল, এই সূত্রেই ইসরো-র চেয়ারম্যান এএস কিরণকুমার এ দিন তুলে এনেছেন ভারতীয় প্রকল্পের ‘নিজস্বতা’র প্রসঙ্গ। জানিয়েছেন, হাবল-অ্যাস্ট্রোস্যাট তুলনা চলে না ঠিকই। কিন্তু অ্যাস্ট্রোস্যাটে এক্স-রশ্মি বা অতিবেগুনি রশ্মি ধরার যে টেলিস্কোপ আর স্ক্যানিং স্কাই মনিটর নামে যন্ত্র বসানো রয়েছে, তা বর্তমান সময়ের তুলনায় যথেষ্ট আধুনিক। ‘‘হাবল অনেক বড় ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য তৈরি। আমরা অত বড় আকারে কিছু না-করলেও স্বাতন্ত্র বজায় রেখেছি।’’— মন্তব্য তাঁর।
সরাসরি না-বললেও উন্নত দুনিয়ার উদ্দেশে কার্যত চ্যালেঞ্জ-ই ছুড়েছেন ইসরো-চেয়ারম্যান।

নেতাজি প্রশ্নে চাপ এ বার সঙ্ঘের

নেতাজি অন্তর্ধান সংক্রান্ত ফাইল প্রকাশ করা উচিত কেন্দ্রের—লালকৃষ্ণ আডবাণীর সুরেই এ বার বলল আরএসএস-ও। সঙ্ঘের মুখপত্রে এক প্রবন্ধে নেতাজি অন্তর্ধান রহস্যকে ‘সব ষড়যন্ত্রের সেরা ষড়যন্ত্র’ বলে ব্যাখ্যা করে এই দাবি করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে থাকা গোপন ফাইলগুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবার সামনে নিয়ে আসতেই, কেন্দ্রের ফাইল প্রকাশের জন্য আর্জি জানিয়েছিলেন নেতাজি কন্যা অনিতা বসু পাফ-ও। এ বার অরএসএসের দাবির পরে প্রবল চাপের মুখে পড়ে গেল মোদী সরকার।
আরএসএসের মুখপত্র ‘অরগানাইজার’-এ শুধু গোপন ফাইল প্রকাশের দাবিই তোলা হয়নি—বলা হয়েছে, নেতাজির ফাইল প্রকাশ্য আনতে মোদী সরকারকে ‘সাহসী’ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কেননা, ‘‘মোদী সরকার যদি অন্তর্ধান রহস্যে আলো ফেলতে কোনও পদক্ষেপ না করে, তা হলে ভবিষ্যতে অন্য কোনও সরকারও সে কাজ করতে পারবে না।’’
আরএসএস মুখপত্রে মন্তব্য করা হয়েছে, ‘‘নেতাজির মৃত্যু ঠিক কোথায় হয়েছে, সরকারের তা তদন্ত করে দেখা উচিত।’’ নেতাজি ফাইল প্রকাশের দাবির সঙ্গেই সঙ্ঘের মুখপত্রে নিশানা করা হয়েছে নেহরু-গাঁধী পরিবারকে। বলা হয়েছে, ‘‘এই পরিবারের সঙ্গে অনেক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু এটা সব ষড়যন্ত্রের সেরা ষড়যন্ত্র। নেতাজি ও অন্যরকম আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের সম্পর্কে নেহরু-গাঁধী পরিবারকে অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।’’ আরএসএসের মতে, তাঁর বৈপ্লবিক কাজের জন্য নেতাজি দেশের মানুষের কাছে নেহরুর থেকেও বেশি জনপ্রিয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, স্বাধীনতার পরে দেশের নেতারা সে সব ভুলে গিয়েছেন। বরং স্বাধীন দেশে তাঁর পরিবারের উপর নজরদারি চালানো হয়েছে। আর নেতাজির সঙ্গীদের সাথে অপরাধীর মতো ব্যবহার করা হয়েছে।

পাকিস্তানও এগোতে পারে, ভারত নিশ্চল

১

শরিয়ত নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিগত আইন মুসলমান মেয়েদের অনেক যন্ত্রণার কারণ। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে। মেয়েরা এর সংস্কার চাইছেনও। কিন্তু মোল্লা-মৌলবিরা সংস্কারে নারাজ। শিক্ষিত মুসলমান পুরুষরাও নীরব।

সম্প্রতি ‘ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলন’ নামে মুম্বইয়ের একটি সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ সহ দশটি রাজ্যে প্রায় পাঁচ হাজার মুসলমান মহিলাকে নিয়ে একটি সমীক্ষা করেছিলেন। তার রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ৮৩.৩ শতাংশ মহিলা তি ন তালাকের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে শরিয়ত নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিগত আইনের সংস্কার চেয়ে মত প্রকাশ করেছেন।  তিন তালাক ছাড়াও বহুবিবাহ, বিয়ের দেনমোহর (স্ত্রীধন) এবং দত্তক সংক্রান্ত যাবতীয় শরিয়তি বিধানকে বিচার বিভাগ এবং সরকারি প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় এনে বিধিবদ্ধ আইন চান ওই মহিলারা।

এই সমীক্ষা যাঁদের মধ্যে করা হয়েছে তাঁরা মূলত গরিব এবং নিরক্ষর। এই অসহায় মহিলারাই শরিয়ত আইনের যত রকমের অপপ্রয়োগের শিকার। সব জায়গায় সমস্যা সমান নয় নিশ্চয়ই। যেমন, শিক্ষিত এবং সম্পন্ন বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে তালাক বা বহুবিবাহ নেই বললেই চলে, কিন্তু রাজ্যের অনেক জেলাতেই নিম্ন আয়ের ও নিম্ন সামাজিক অবস্থার মুসলমানদের ‌মধ্যে তালাকের চল বেশি। আবার, যে সমস্ত অঞ্চলে মহিলারা বিড়ি বেঁধে, জরির কাজ করে বা অন্য কোনও উপায়ে উপার্জন করে খানিকটা স্বাবলম্বী, সেখানে তালাকের প্রবণতা কম। কিন্তু মহিলা সংগঠনগুলোর বক্তব্য, এমন একটা ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হবে কেন, যা দেশের আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে পুরুষকে একতরফা ভাবে তালাক দেওয়ার অধিকার দেবে? অথচ তালাক নিয়ে শরিয়তের অপপ্রয়োগ বন্ধ করতে বাংলাদেশে, এমনকী পাকিস্তানেও মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের ব্যাপক সংস্কার করে ১৯৬১ সালে তৈরি হয় মুসলিম পারিবারিক আইন। সে দেশে তালাক দেওয়ার কোনও সহজ চটজলদি ব্যবস্থা আর নেই। প্রথম স্ত্রীর লিখিত অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়েও করা যায় না। এখানে তালাকের বা বহুবিবাহের ওপর বিচারবিভাগ বা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মুসলিম মহিলারা, শিশুরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে। এর ফলে গোটা মুসলমান সমাজ কলঙ্কিত হচ্ছে বলে মনে করছে ওই সংগঠনগুলো।
এ দেশে শরিয়ত নিয়ন্ত্রিত মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের সংস্কার কি সম্ভব? মুসলিম পাসোর্নাল ল বোর্ড সে দাবি আগেই বাতিল করেছে। জামাআতে ইসলামি হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার আমির-এ হালকা (সভাপতি) মহম্মদ নুরুদ্দিন শরিয়তের ন্যূনতম সংস্কারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘এই সব নারী সংগঠনের আন্দোলন আসলে অভিন্ন দেওয়ানি আইনের দাবিকেই জোরদার করছে।’ ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলনের রাজ্য শাখার আহ্বায়ক রহিমা খাতুনের বক্তব্য, ‘কোরানে যে বিধান রয়েছে তার ভিত্তিতেই আইন হোক, যে আইনে একসঙ্গে তিন বার তালাক বলে বউকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া যাবেও না, বউয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে যে আইন স্বামীকে আদালত পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারবে, ফয়সালা হবে আদালতেই।’ সেই রকম আইনের একটা খসড়া আন্দোলনের কর্মীরা ইতিমধ্যেই তৈরি করেছেন।
তবে মুর্শিদাবাদের ‘রোকেয়া নারী উন্নয়ন সমিতি’র নেত্রী খাদিজা বানু আরও অনেকটা এগিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে যদি শরিয়ত আইনের সংস্কার সম্ভব হয় তা হলে ভারতের মতো একটা সেকুলার দেশে হবে না কেন?’ তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট, ‘ব্যাঙ্ক, বিমা বা ফৌজদারির ক্ষেত্রে মুসলমান যদি শরিয়ত সরিয়ে রেখে দেশের আইনে চলতে পারে তা হলে তালাক, সম্পত্তির ‌উত্তরাধিকার বা দত্তকের জন্যও শরিয়ত আইনের প্রয়োজন হবে কেন!’ খাদিজা বানু ও তাঁর সংগঠন মুর্শিদাবাদ এবং পাশের কয়েকটি জেলায় তালাকপ্রাপ্ত গরিব মেয়েদের আইনি অবং অন্যান্য সহায়তা দিয়ে থাকেন বহু দিন ধরেই।
শরিয়তে তালাকের যে প্রক্রিয়া ও প্রয়োগ‌ব্যবস্থা রয়েছে তা জটিল, সময়সাপেক্ষ। একটা তালাক কার্যকর হতে সংশ্লিষ্ট নারীকে তিনটি ঋতুকাল সময় (অন্তত তিন মাস) দিতে হবে। এক বারে তিন তালাক উচ্চারণ করে স্ত্রীকে বিদেয় করা অনুমোদিত নয়। তা হলে তালাক হবে কেমন করে? প্রথমেই জেনে রাখা দরকার, ইসলামে তালাক কোনও ভাবেই উৎসাহিত করা হয়নি। হজরত মুহম্মদের পরামর্শ ছিল, ‘তোমরা বিয়ে কর কিন্তু তালাক দিয়ো না। কেননা তালাক দিলে আল্লার আরস কেঁপে ওঠে।’ কোরানে (সুরা তালাক ৬৫:১) বলা হয়েছে, ‘হে নবি! তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের তালাক দিতে চাইলে ইদ্দতের প্রতি লক্ষ রেখে ওদের তালাক দিয়ো। ইদ্দতের হিসাব রেখ।... তোমরা ওদেরকে বাসগৃহ থেকে বের করে দিও না। আর ওরাও যেন বের হয়ে না যায়, যদি না ওরা স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়।’
কোনও স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করার পরের তিন মাস হল ‘ইদ্দত’। ওই সময়ের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। তালাকপ্রাপ্ত মহিলা গর্ভবতী কি না তা নিশ্চিত করার জন্যই ইদ্দত। ইদ্দতকালে স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর। কিন্তু এ দেশে তার কোনওটাই হয় না। নিয়ম হল, প্রথম ও দ্বিতীয় বার তালাক বলার পরেও স্বামী চাইলে তৃতীয় বার তালাক বলা থেকে বিরত থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ রদ করতে পারেন।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ হলে প্রথমে নিজেরা এবং পরে দু’জন মধ্যস্থতাকারীর উপস্থিতিতে আলোচনা করে বিবাদ মিটিয়ে নিতে হবে। না মিটলে স্বামী তাঁর স্ত্রীকে প্রথম বার তালাক উচ্চারণ করবেন, কিন্তু পরের তিন মাস (ইদ্দত কাল) একসঙ্গে বাস করবেন এবং বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন। ওই সময়ে বিবাদ মিটে গেলে তাঁরা আগের মতোই স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকবেন। আর বিবাদ না মিটলে তালাক হয়ে গেল। কিন্তু তালাক হয়ে যাওয়ার পরে স্বামী-স্ত্রী ভুল বুঝতে পেরে যদি আবার একসঙ্গে থাকতে চান তাহলে বিরাট বিপদ। ওই স্ত্রীকে আবার অন্য এক পুরুষকে বিয়ে করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে অন্তত চার মাস কাটানোর পরে সেই পুরুষ যদি নিয়ম মেনে তালাক দেন তবেই ওই মহিলা আবার তাঁর আগের স্বামীর কাছে ফিরে যেতে পারবেন। এই পদ্ধতিকে বলে ‘হালালা’। এই প্রথা অনেক মুসলিমপ্রধান দেশেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ দেশে হালালা আছে বহাল তবিয়তে।
এখন তো পোস্টকার্ডে লিখে, ই-মেল করে এমনকী এসএমএস বা হোয়াটসঅ্যাপ করেও তালাক হয়ে যাচ্ছে। কোরানের স্পষ্ট নিষেধ সত্ত্বেও তিন তালাক হচ্ছে কেন? সুন্নি মুসলমানদের যে চারটি ‘মজহাব’ বা ‌খণ্ড সম্প্রদায় আছে তাদের তিনটি মজহাবে তিন তালাক গ্রাহ্য না হলেও ‘হানাফি’দের মধ্যে এই প্রথা আইনসিদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গের শতকরা ষাট ভাগের বেশি মুসলমান ইরাকের সপ্তম শতকের ইমাম আবু হানিফা প্রবর্তিত হানাফি মতের। ইসলামি আইনশাস্ত্রে কোরান ও হাদিসের পাশাপাশি তেরোশো বছর আগের ওই আইনজ্ঞের অভিমতকেও কঠোর ভাবে মান্যতা দেওয়া হয়। এতটাই যে, অল ইন্ডিয়া পাসোর্নাল ল বোর্ড জানিয়ে দিয়েছে, এক বারে তিন তালাক বলে বিবাহবিচ্ছেদ অন্যায়, কিন্তু তা বন্ধ করা যাবে না। জামাআতে ইসলামির সভাপতি মহম্মদ নুরুদ্দিন পাসোর্নাল ল বোর্ডের মতটাকেই পরিষ্কার করলেন, ‘যদি কেউ আন্তরিক ভাবে, সজ্ঞানে, সচেতন ভাবে এক বৈঠকে তিন তালাক বলে তা হলে পদ্ধতিগত ভাবে ভুল হলেও তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে।’
ইসলামি আইনের এত সব মারপাঁচ বোঝেন না গ্রামের দরিদ্র নিরক্ষর নারী। তিন তালাক বলার পরে সেই নারী যদি ছেলেমেয়ের হাত ধরে স্বামীর ভিটে ছেড়ে চলে না যান, তা হলে গ্রামের ইমাম-মুফতিদের আনিয়ে তাঁদের দিয়ে নিদান দেওয়ানো হয়। সচরাচর খারিজি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা এই সব ইমাম-মুফতিরাই বাংলার গ্রামে গ্রামে গরিব অশিক্ষিত মুসলমানের কাছে ইসলামের মুখ।
এ রাজ্যে তালাকপ্রাপ্ত মহিলার সংখ্যা কত? কোনও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান হাতে নেই। মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল, হরিহরপাড়া, রাণীনগর, জলঙ্গী, সালার, ইসলামপুর, ভগবানগোলা বা বেলডাঙার মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে খাদিজা বানুর অভিজ্ঞতা, ‘এক একটি গ্রামে কমপক্ষে দশ জন, সর্বাধিক ষাট জন তালাক পাওয়া মহিলার সন্ধান পেয়েছি।’ রহিমা খাতুনের কাজ হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, মালদহ, মুর্শিদাবাদ জেলায়। এই জেলাগুলোতেই তালাক পাওয়া মহিলাদের নিয়ে তাঁদের সমীক্ষা। অবস্থাটা যে ‘খুবই খারাপ’ তা স্বীকার করে নিয়েও রহিমা কোনও সংখ্যা জানাতে রাজি হননি। তবে গত সপ্তাহে ফোনে কথা শুরু হতেই জানিয়েছিলেন, ‘এই তো কাল রাতেই খবর পেলাম স্বামী মাতাল হয়ে বাড়ি ফিরে বউকে তালাক দিয়েছে। পাঁচ ছেলেমেয়েকে নিয়ে সেই বউকে বেরিয়ে যেতে হয়।’ এই রকমই চলতে থাকে। সমাজ কলঙ্কিত হচ্ছে জেনেও শিক্ষিত মুসলমান পুরুষ কোনও অজ্ঞাত কারণে সমাজের এই ক্ষতটা আড়াল করতে ব্যস্ত। এই ক্ষত সারিয়ে তোলার দায় যেন কেবলই মেয়েদের।
কেউ চাইলে আইনের শরণাপন্ন হতে পারেন। কিন্তু আদালত তাঁদের বিচার করবে মুসলিম উইমেন (প্রোটেকশন অব রাইটস অন ডিভোর্স) অ্যাক্ট ১৯৮৬-এ। ওই আইনে বিবাহবিচ্ছিন্না মহিলার স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার স্বীকৃত নয়। সেটা দেবেন মহিলার নিকট আত্মীয় বা ওয়াকফ বোর্ড। শাহবানু মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, সামর্থ্য আছে এমন মুসলমান পুরুষ তাঁর বিবাহবিচ্ছিন্না স্ত্রীকে (যিনি নিজের ভরণপোষণে সমর্থ নন) খোরপোষ দেবেন, যত দিন পর্যন্ত ওই মহিলা আবার বিয়ে না করছেন। মুসলিম নেতাদের চাপে তদানীন্তন কংগ্রেস সরকার সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়কে বানচাল করতে সংসদে মুসলিম উইমেন অ্যাক্ট পাশ করে। তালাক পাওয়া মেয়েরা আইনি সহায়তার যে আশার আলোটুকু দেখেছিল, তা-ও ধর্মীয় নেতা আর রাজনীতিকরা নিভিয়ে দেন। মুসলিম নারীর ভাগ্য পুরোপুরি চলে যায় এক শ্রেণির মোল্লা-মৌলবি-মুফতিদের হাতে। তাঁদের বক্তব্য: শরিয়ত ঐশী, তা স্পর্শ করা যাবে না। তাঁদের যুক্তি: ইসলামি আইনশাস্ত্রে বিভিন্ন মত রয়েছে, কোনটিকে অনুসরণ করা হবে? শরিয়তি আইনের সংস্কার আসলে অভিন্ন দেওয়ানি চাপিয়ে দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ।
এ সব ছেঁদো যুক্তি এমনকী পাকিস্তানও বাতিল করেছে। ‘আধুনিক, দায়বদ্ধ, কল্যাণব্রতী’ ভারতের রাষ্ট্র এটুকু সাহস দেখাতে পারবে না?

নজিরবিহীন ভাবে ফেডারেশনের সভায় ধমক খেলেন কনস্ট্যান্টাইন

5
ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে অভিনব ঘটনা। ফেডারেশনের কর্মসমিতির সভায় জাতীয় কোচ স্টিভন কনস্ট্যান্টাইনকে প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করলেন এআইএফএফ প্রেসিডেন্ট প্রফুল্ল পটেল।
ভারতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আই লিগ-আইএসএল মিলিয়ে দেওয়া, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা-সহ নানা বিষয় নিয়ে মিডিয়ার কাছে মন্তব্য করছিলেন স্টিভন। এ দিন সভায় সেই প্রসঙ্গ তুলে স্টিভনকে মন দিয়ে কোচিং করানোর পরামর্শ দেন ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট।
ইতিমধ্যেই আইএসএল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের খুশি করতে গিয়ে কোনও রকম প্রস্তুতি ছাড়াই তুর্কমেনিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে যাচ্ছে ভারত। তাও আবার সাধারণ কোনও টুর্নামেন্ট নয়, প্রাক্-বিশ্বকাপের ম্যাচে! এ দিন সেই প্রসঙ্গ উঠলে তা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ ব্যক্ত করেন জাতীয় কোচ কনস্ট্যান্টাইন।
সোমবার দিল্লির ফুটবল হাউসে  ফেডারেশনের কর্মসমিতির সভা শুরু থেকেই রীতিমতো উত্তপ্ত ছিল। যেখানে আইএসএলের সৌজন্যে প্রস্তুতি ছাড়া  প্রাক্-বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে যাওয়া নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা চলে। ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট বিষয়টি বিস্তারিত জানতে চাইলে স্টিভন সোজাসুজি জানিয়ে দেন, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় শিবির করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কোনও আইএসএল টিমই ফুটবলার ছাড়তে রাজি না হওয়ায় ৮ অক্টোবর প্রস্তুতি শিবির ছাড়াই তুর্কমেনিস্তানের মুখোমুখি হতে চলেছে তাঁর টিম। যা নিয়ে রীতিমতো সোচ্চার দেশের ফুটবল মহল।
ফেডারেশনের কর্মসমিতির এ দিনের সভায় প্রেসিডেন্ট প্রফুল্ল পটেল, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত দত্ত ছাড়াও হাজির ছিলেন লারসিং মিং, সচিব কুশল দাস-সহ ফেডারেশনের বাকি কর্তারাও।
আইএসএলের মাঝে টিমগুলো জাতীয় দলে ফুটবলার ছাড়তে না চাওয়ায় যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে এ দিন সে ব্যাপারে জাতীয় কোচ স্টিভনের কাছে ব্যাখ্যা চান ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট। জাতীয় কোচের ব্যাখ্যা শোনার পর ফেডারেশন একই সঙ্গে আইএসএল ক্লাবগুলোকে জাতীয় শিবিরের জন্য ফুটবলার ছাড়তে অনুরোধ করেছেন। শেষ পর্যন্ত খবর,  বেঙ্গালুরুতে গুয়াম ম্যাচের আগে আইএসএল খেলা অর্ণব মণ্ডল, সন্দেশ ঝিঙ্গনদের জাতীয় শিবিরে ডাকতে চলেছে এআইএফএফ।
একই সঙ্গে এ দিন সিদ্ধান্ত হয়েছে,  ১২ নভেম্বর প্রাক্-বিশ্বকাপের ভারত-গুয়াম ম্যাচ স্থানান্তরিত হবে বেঙ্গালুরুতে। সূত্রের খবর, প্রথমে এই ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল তিরুবনন্তপুরমে। কিন্তু আর্থিক কারণ বিবেচনা করেই ম্যাচ বেঙ্গালুরুতে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় ফেডারেশন। এই ম্যাচের আগে ১৩ অক্টোবর কনস্ট্যান্টাইনের টিমের অ্যাওয়ে ম্যাচ রয়েছে ওমানের বিরুদ্ধে।

রিয়ালে থাকতে গেলে রোনাল্ডোকে সেরা বলতে হবে, তোপ ইগুয়াইনের

1

নিজের ব্র্যান্ডের ফটোশ্যুটে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ইনসেটে প্রাক্তন সতীর্থ গঞ্জালো ইগুয়াইন।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নাকি অনেকটা ফানুসের মতো। নিজেকে যতটা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলে ধরেন, আসলে তিনি মোটেই ততবড় ফুটবলার নন।
অভিযোগকারী মেসির দেশের ফুটবলার। নাম গঞ্জালো ইগুয়াইন।
রোনাল্ডোর এক সময়ের টিমমেট অবশ্য এটুকুতেই থেমে থাকেননি। আরও বোমা ফাটিয়ে বলেছেন, ‘‘রোনাল্ডো অসম্ভব অহঙ্কারী। ওকে সেরা প্লেয়ার বলে তারিফ না করলে আপনি ওর বন্ধু নন। নিজেকে ও বিশ্বসেরা মনে করে। কিন্তু অত বড় প্লেয়ার ও মোটেই নয়।’’
প্রাক্তন রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার ছ’বছর বিখ্যাত স্প্যানিশ ক্লাবে খেলেছেন। খুব কাছ থেকে দেখেছেন রোনাল্ডোকে। ঠিক যেমন দেখেছেন লিওনেল মেসিকে। এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর আন্তর্জাতিক দলের মহাতারকা সতীর্থের সঙ্গে কোনও ভাবে মেলাতে পারছেন না সিআর সেভেনকে। ‘‘আমি মেসিকেও ড্রেসিংরুমে দেখেছি। কিন্তু ওর সঙ্গে রোনাল্ডোর কোনও তুলনা চলে না।’’ আর রোনাল্ডোর এই অহঙ্কারী হাবভাবই নাকি ইগুয়াইনের রিয়াল ছাড়ার অন্যতম কারণ।
আর্জেন্তিনার স্ট্রাইকারের বোমা আবার ঠিক এমন একটা সময় ফাটল যখন টানা তিন ম্যাচে গোল না পেয়ে কিছুটা হলেও চাপে পর্তুগিজ মহাতারকা। সামনে জোড়া রেকর্ড। কিন্তু গোলও আসছে না, রেকর্ড ভাঙাও হচ্ছে না। তাও কিছুটা হাল্কা মেজাজে ছিলেন হয়তো এ দিন তাঁর তথ্যচিত্রের ট্রেলার প্রকাশ হওয়ার জন্য। যেখানে দাবি করা হয়েছে রোনাল্ডোকে নিয়ে তথ্যচিত্রে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারবেন রোনাল্ডো ভক্তরা। মাঠের মহাতারকা রোনাল্ডোকে চিনলেও কী ভাবে উঠে আসলেন তিনি বিশ্বমঞ্চে, বিশ্বের জনপ্রিয়তম ফুটবলার মাঠের বাইরেই বা ঠিক কেমন মানুষ সেই অজানা সুলুকসন্ধান মিলবে তথ্যচিত্রে।
ইগুয়াইনের তুলে ধরা ইমেজটাও অবশ্য অজানাই ছিল এতদিন সিআর সেভেন ভক্তদের কাছে। তাই স্প্যানিশ পত্রিকায় গোটা ব্যাপারটা ফাঁস হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনভর তোলপাড় পড়ে যায়। কেউ লিখেছেন, ‘‘রোনাল্ডোর এই রূপটা তো জানা ছিল না।’’ তেমনই অনেকে পাল্টা বলেছেন, ‘‘ইগুয়াইন হিংসে করত রোনাল্ডোকে। তাই এ সব ভুলভাল বকছে এখন।’’
প্রতিক্রিয়াটা এতটাই মারাত্মক ছিল যে চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত ইগুয়াইনের বর্তমান ক্লাব নাপোলিকে বিবৃতি পর্যন্ত দিতে হয়। রোনাল্ডোকে নিয়ে ইগুয়াইন কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করেননি। দাবি তাদের। ‘‘নাপোলি আর ইগুয়াইন এমন কোনও সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা অস্বীকার করছে। তাই ইগুয়াইনকে নিয়ে যে সব কথা রটেছে তার কোনও ভিত্তি নেই।’’
কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামছে কোথায়! অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগেও রোনাল্ডোকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে ঝড় কম ওঠেনি। সেই তালিকায় যেমন আছেন বিতর্কিত ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার, তেমনই আছেন সুইডিশ মহাতারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও। মেসিকে ‘অসাধারণ’ বলার পাশাপাশি ইব্রা রোনাল্ডোকে বলেছিলেন শুধুই ‘ভাল’। কিন্তু এই সাদামাটা ‘ভাল’ বলটাই নাকি রোনাল্ডোর সমালোচনার সমতুল। এ ভাবে কাউকে ভাল বলেও যে সমালোচিত হওয়া যায় সেটার অভিজ্ঞতা ভালমতোই টের পেয়েছিলেন ইব্রা। আর ব্লাটার বলেছিলেন, ‘‘দু’জনেই অসাধারণ প্লেয়ার, কিন্তু আলাদা ধরনের। প্রত্যেক বাবা-মা মেসির মতো সন্তান চাইবে। কিন্তু রোনাল্ডো মাঠে সর্বাধিনায়কের মতো হলেও ওর চুলের পরিচর্যার পিছনে খরচটা বড্ড বেশি হয়ে যায়।’’

এ বার মঙ্গলে প্রবহমান জলের সন্ধান পেল নাসা

1
মঙ্গল গ্রহে এ বার জলের হদিস পেল নাসা। কঠিন বরফের আকারে নয়, একেবারে তরল এবং প্রবহমান অবস্থায়।
দীর্ঘ দিনের চেষ্টায় যুগান্তকারী এই আবিষ্কার সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে জানায় নাসা। এর আগে মঙ্গলে বরফের সন্ধান পেয়েছিল তারা। কিন্তু জল থাকার কথা জানা ছিল না এত দিন। কয়েক জন বিজ্ঞানীর একটি দল গবেষণার পর জানান, নাসার উপরিতলে বরফের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জলও রয়েছে। তাতে অবশ্য প্রথমটা হকচকিয়েই যান তাঁরা। -১২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কী ভাবে জল তরল রূপে থাকতে পারে! বিজ্ঞানীদের দাবি, এর কারণ মঙ্গলে অত্যধিক মাত্রায় লবণের উপস্থিতি। যা জলকে কঠিন হতে বাধা দিচ্ছে। তবে জলের চেয়ে বরফের পরিমাণ যে ঢের বেশি, তা-ও জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে জলের উৎস সম্বন্ধে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। বেশ কয়েকটি সম্ভাবনার কথা তাঁরা জানিয়েছেন। প্রথমত, উপরিতলের বরফ গলে জলে পরিণত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, তাঁদের ধারণা, পৃষ্ঠদেশে নুনের আধিক্য রয়েছে। নুন উদগ্রাহী। বায়ুমণ্ডল থেকে জল গ্রহণ করতে পারে। অথবা জলধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন কোনও পাথর থেকেও জল বের হতে পারে।
চলতি বছরের এপ্রিলেই অবশ্য নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, মঙ্গলের উপরিতলের নুন অত্যধিক জল শোষণ করে। যার ফলে রাতে ছোট ছোট জলাশয়ও তৈরি হয়।
যুগান্তকারী এই আবিষ্কারে ফের পুরনো প্রশ্নটাই নতুন করে সামনে উঠে এল। মঙ্গলে কি কখনও প্রাণ ছিল? বা এখনও আছে?